ডা: নরুল হক,বিরামপুর দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৩২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ৪৮ বছরে পা দিয়েছেন। ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে দলের যাত্রা শুরু । খালেদা জিয়া দলটির হাল ধরে দীর্ঘ ৪২ বছর বিএনপি’র নেতৃত্ব দিয়েছেন।সেই দল এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতায়।
আজ সেই বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সময়ের মুখোমুখি। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ের বাংলাদেশ এবং খালেদা জিয়া সময়ের বাংলাদেশ আজ এক নয়। তরুণরা এখন শুধু রাজনীতির দর্শক নয় তারা রাজনীতির সক্রিয় অংশীদার। নির্বাচন, রাষ্ট্র ,মত প্রকাশ জবাবদীহি এবং ক্ষমতার আচরণ সম্পর্কে তাদের প্রত্যাশা আগের চেয়ে অনেক বেশি।
মানুষ এখন শুধু রাজনীতির স্বাধীনতা চায় না । দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ,নিরাপত্তা, দুর্নীতি, বিচার ব্যবস্থা এবং ভালো প্রশাসন চায়। জনগণ চায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো যেন দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিককে বিচার না করে। দলীয় পরিচয় অনেক সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
তারেক রহমানের বিএনপি’র সবচেয়ে বড় সুযোগ এবং একই সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জ তরুণ প্রজন্ম। জুলাই বিপ্লবের পর তরুণদের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তাই বিএনপিকে তরুণদের শুধু ভোটার হিসেবে দেখলে হবে না তাদের নীতি নির্ধারণের অংশীদার করতে হবে। বিএনপিকে নতুন করে শক্তিশালী করতে হলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রজন্মগত পরিবর্তন আনতে হবে।
দলের নেতা কর্মী যদি টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখল, ব্যবসায়িক প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করেন তাহলে শুধু দলীয়ভাবে সতর্ক করা যথেষ্ট নয় দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে । কারণ সরকারের জনপ্রিয়তা মাঠ পর্যায়ে দলীয় কর্মীদের আচরণের উপর নির্ধারণ করে।
জনগণ এখন আর ক্ষমতায় কে এসেছে তা জানতে চায় না, জানতে চায় ক্ষমতায় এসে তারা কী বদলেছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি’র ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। খালেদা জিয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটিকে ধরে রেখেছেন এবং বিস্তৃত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপিকে ক্ষমতায় রাখবেন নাকি সময়ের দাবি মেনে একটি নতুন বিএনপি তৈরি করবেন?