মাসুদ আলী পুলক, রাজশাহী ব্যুরো || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
রাজশাহী ভুবন মোহন পার্ক রাজশাহী শহরের সাহেব বাজারে অবস্থিত একটা ঐতিহাসিক জায়গাসংক্ষেপে ইতিহাস তুলে ধরলাম ১৯৪৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এখান থেকেই হতো। ভাষা আন্দোলনের সময় কলেজে সভা নিষিদ্ধ থাকায় সব বার্তা এই পার্ক থেকেই শহরবাসীর কাছে যেত।
১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এখানে শহীদ মিনার তৈরি করে একুশে উদযাপন করা হয়। এটা বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো শহীদ মিনার। ১৯৮ সালে আধুনিকভাবে সংস্কার হয় আর ২০০৫ সালে ৬৪ জন ভাষা সৈনিকের নামাঙ্কিত স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করা হয়।
সাহেব বাজার, নগরীর প্রাণকেন্দ্রে শহীদ মিনারকে ঘিরে ছোট একটা পার্ক আছে। গাছপালা দিয়ে সাজানো, বসার জায়গা আছে। বিকালে মানুষ আড্ডা দিতে আসে।ওখানে সুন্দর পরিবেশ হওয়ার কথা থাকলেও এখন বিচ্ছিরি পরিবেশ হয়ে আছে।
চারপাশে পুড়ি, সিঙ্গারা, বেগুনি, চপের দোকান আর ফাস্টফুডের গাড়ি বসে। চায়ের আড্ডা ও পান বিড়ি সিগারেট, ও টোকাই ক্রাইম বাসদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সমস্যা অনেক দিন ধরেই অবহেলা আর অবৈধ দখলের অভিযোগ আছে। সাইকেল-মোটরসাইকেলের গ্যারেজ, দোকানপাট, চায়ের দোকান এমনকি রাতে মাদকসেবীদের আড্ডার খবরও পাওয়া যায়।
সাম্প্রতিক খবর: গত ২৫ আগস্ট রাসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত পার্কের গণশৌচাগারের ২য় তলার একটা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সিলগালা করেছে। আবার ২৪ আগস্ট রাতে পার্কের ভেতরের একটা রুমে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটকও করা হয়েছে।
এটা শুধু পার্ক না, রাজশাহীর রাজনীতি, সংস্কৃতি আর ভাষা আন্দোলনের নীরব সাক্ষী। এক সময় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কেন্দ্রও ছিল।
রাজশাহীর নাগরিক সমাজ সুশীল সমাজ ও স্থানীয়রা চায় পার্কটার ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে গ্যারেজ-দোকান সরিয়ে, গেটে তালা দিয়ে বিশেষ দিনে খোলা হোক। নগরবাসীর দাবি এই ঐতিহাসিক জায়গা সৌন্দর্য করার জন্য সকল অবৈধ স্থাপনা হটিয়ে। সাধারণ মানুষের বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে মনে করে সুশীল সমাজ ।