রফিকুল ইসলাম জিলু, ব্যুরো প্রধান ঢাকা || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ৬:১২ অপরাহ্ণ
ঢাকার সাভারে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর একটি টিমের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাদক উদ্ধারের নামে এক নারী পোশাক শ্রমিকের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে মাদক না পেয়েও তাকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ আদায় এবং তল্লাশির পর স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন উধাও হওয়ার ঘটনার পর এবার ফাঁস হয়েছে একই ডিবি টিমের সদস্য এএসআই হাসানের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কয়েকটি স্ক্রিনশট।
প্রতিবেদকের হাতে আসা এসব স্ক্রিনশটে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর, বিকাশ-নগদ-রকেট এজেন্টের তথ্য এবং বিভিন্ন অঙ্কের টাকা লেনদেনের হিসাব আদান-প্রদানের তথ্য দেখা গেছে।
ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ অভিযানের জন্য গঠিত ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির এসআই নাফিউল ইসলামের নেতৃত্বাধীন টিমের বিরুদ্ধেই উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। ডিবির একটি সূত্রে জানা গেছে, টিমটিতে এএসআই হাসান, এএসআই আব্দুস সালাম, কনস্টেবল মো. আইয়ুব আলী, মো. আমিনুল ও মো. মাহাবুব সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
গত, ২০ জুলাই রাতে আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিক রুমা আক্তার বন্যার বাসায় ডিবি পরিচয়ে তল্লাশি চালিয়ে মাদক না পেলেও তাকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর চলে যায় তারা। ডিবি সদস্যরা চলে যাওয়ার পর তিনি ঘরে থাকা প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি স্বর্ণের আংটি, একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি বাটন মোবাইল ফোন খুঁজে পাননি। এ ঘটনায় ঢাকা জেলা ডিবি কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন ওই নারী পোশাক শ্রমিক।
এ ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে এএসআই হাসানের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের কয়েকটি স্ক্রিনশট, যা এসআই নাফিউল ইসলামের নেতৃত্বাধীন এই বিশেষ অভিযান টিমকে নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।
প্রতিবেদকের হাতে আসা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে, যা Asi Hasan Saver Db নামে সংরক্ষিত, বিভিন্ন সময়ে একাধিক মোবাইল নম্বর পাঠানো হয়েছে। কিছু নম্বরের পাশে বিকাশ এজেন্ট নগদ এজেন্ট,রকেট এজেন্ট এবং বিকাশ পার্সোনাল’-এর মতো লেখা রয়েছে।
এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপের একটি স্ক্রিনশট থেকে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে ১৯ হাজার, ১০ হাজার, ৪ হাজার, ৩০ হাজার, ৩০ হাজার, ১০ হাজার, ৩০ হাজার, ১৯ হাজার ও ২৯ হাজার ৫০০ টাকার বিভিন্ন অঙ্কের হিসাব পাঠানো হয়েছে, যেখানে মোট টাকার হিসাবও উল্লেখ রয়েছে। অন্য একটি স্ক্রিনশটে ৬৬৬/৩০,০০০ এবং ৫০২/২৭,০০০ ধরনের হিসাব দেখা যায়।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের বিভিন্ন অঙ্কের টাকার হিসাব আদান-প্রদানের বিষয়ে জানতে এএসআই হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “এগুলো আমার না, ভাই। আমি কয়েক মাস হলো এখানে এসেছি। আপনারা এগুলো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেন। কেউ হয়তো আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা ডিবি উত্তরের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, “ডিবি পুলিশের কোনো সদস্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে থাকলে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।