আমির হোসেন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬ ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নে গত ২৩ মার্চ ২০২৬ইং রোজ সোমবার বিকেলে নলুয়ারপাড় গ্রামে ১১ বছরের বয়সী ৪র্থ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় চাকু ধরে ভয় দেখিয়ে একই গ্রামের পাষন্ড বদরুল আলম জোর করে ধর্ষণ করে। এসময় একজন রাখালে নজরে পড়লে ধর্ষণকারী দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় আহত অবস্থায় ঐ রাখাল মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্বজনদের নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসলে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রতন সেখ পিপিএম তাৎক্ষনিক ভাবে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন।
এবং শিশুটির মা বাবাকে বার বার থানায় এসে মামলা করার পরামর্শ দেন। অন্য দিকে চেয়ারম্যানের প্ররোচনায় চিকিৎসা শেষে থানায় মামলা করতে যাননি পরিবারের লোকজন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অসহায় শিশুটির পরিবারকে ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে থানায় মামলা করতে বারন করেন গৌরারং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী, শাহনুরসহ কয়েকজন পাঞ্চায়েত নামধারী দালালরা এমনটির তথ্য পাওয়া যায় অনুসন্ধানে। পরে সময় কালক্ষেপণ করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রায় ২মাস অতিক্রম হয়।
বিষয়টি বুঝতে পেরে অবশেষে শিশুটির ন্যায় বিচার পেতে শিশুটির পরিবার আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। মাননীয় আদালত অভিযোগটি সুনামগঞ্জ সদর থানার প্রেরণ করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযোগটি থানায় আসলে তৎপরতা শুরু করেন অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন সেখ পিপিএম। তিনি বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে আসামিকে গ্রেফতারের জন্য চতুরদিকে সোর্স ব্যবহার করেন। এবং মেয়েটির বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় । একটি অনুসন্ধানি প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগে ৫ জুন তুলে ধরলে ধর্ষণের বিষয়টি আলোচনার শীর্ষে চলে আসে। অন্য দিকে সদর থানার ওসি ধর্ষণকারীকে গ্রেফতার করতে জোড়ালো অভিযান শুরু করেন এবং বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করে ৭জুন ২০২৬ইং রোজ রবিবার রাতে সিলেটের বিমানবন্দর থানার একদল চৌকস পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় ঐ এলাকা থেকে পাষন্ড ধর্ষণকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
আটক কৃত ধর্ষণকারী আসামির নাম বদরুল আলম, সে গৌরারং ইউনিয়নের ভেড়াজালী নলুয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদের ছেলে। আসামীকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সচেতন মহল ধর্ষণকারীর বিচারের দাবীতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবীতে ছুটে যান। পাশাপাশি ওসি রতন সেখ পিপিএম এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সুশীল সমাজ।
এব্যপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রতন সেখ পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ১১ বছরের শিশু ধর্ষণকারী বদরুল আলমকে আটক করা হয়েছে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। যারা শিশু ধর্ষণের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছেন তাদের ব্যপারে তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।