গোলাম রববানী, হরিপুর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৭:১৮ অপরাহ্ণ
দিনের শুরুতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর শহীদদের সম্মান জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন, উপজেলা প্রশাসন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ সহ রাজনৈতিক নেতৃবন্দ । পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন।
ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল বাইন এর সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিলো হরিপুর বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস ।
আলোচনা সভায় উপস্থিত স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রায়হানুল হক মিয়া,বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু নগেন কুমার পাল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল হরিপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শাবানা পারভীন, উপজেলা জামায়াত প্রতিনিধি মো. মঞ্জুর আলম ,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক ও হরিপুর উপজেলা শাখার কমান্ডার মো. সোলায়মান আলী । আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।
৩রা ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের এইদিনে ঠাকুরগাঁও জেলা হানাদার মুক্ত হয়। এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পাকিস্থানী সেনা ও তাদের দোসররা আত্মসমর্পণ করে ও পালিয়ে যায়। ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। স্বাধীনতার মুক্তির মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিযোদ্ধারা।
মুক্তিকামী তরুণেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে রনাঙ্গনে। যার যেমন সাধ্য পাক সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে শুরু করে। প্রায় বিনা বাঁধায় পাক বাহিনী সেনারা ঠাকুরগাঁও শহর দখলে নিয়ে নেয়। চলে পৈশাচিক নির্যাতন ও নির্বিচারে গণহত্যা। ২৯ ও ৩০ মে ঠাকুরগাঁও বর্বর পাক সেনারা জেল খানায় অসংখ্য মানুষকে গুলি করে হত্যা করে।
এদিকে নবম সেক্টরের সাব-সেক্টরে অধীনে ছিল তৎকালীন মহাকুমা। ওদিকে ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা এলাকায় ফিরে আসেন। নবম সেক্টরের সাব-সেক্টরের অধীনে ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের ২১ জনের একটি দল নৌকা যোগে এসে অবস্থান নেন। ফজরের আযান কে যুদ্ধ শুরুর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে আযানের সাথে সাথে ৬টি স্থান থেকে একযোগে গুলি শুরু করেন। এতে আতংকিত পাক বাহীনির সদস্যদের অনেকে পালিয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় গুলি করতে করতে জেলখানায় পৌঁছুলে জেলখানায় অবস্থানরত পাক সমর্থক পুলিশ ও তাদের দোসর রাজাকারদের আত্মসমর্পন করে, হানাদার মুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও। ঠাকুরগাঁও বিজয়ী এমন কয়েকজন ইতিহাসের স্বাক্ষী বীরসেনা জানান, সেই স্মৃতিময় সময়ের বীরত্বকাব্য।
স্বাধীনতার ৫০ বছরেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তিতে ব্যর্থতা, ভূয়াদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় স্থান পাওয়া ও রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ না করায় ক্ষোভ যোদ্ধাদের।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ জাতির যে স্বপ্ন নিয়ে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছিলেন যেসব মুক্তিকামী যোদ্ধারা, তাঁদের কার্যত চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধুমাত্র উন্নতির শিখর পৌঁছবে স্বপ্নের সোনার বাংলা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।