রিড্ডু নিংদার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ইন্দোনেশিয়ার বামন রাজ্য ফ্লোরেসঃগুরুত্বপূর্ণ তর্থ্য।
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস নামের ছোট্ট একটি দ্বীপে আজ থেকে প্রায় সত্তর হাজার থেকে এক লক্ষ কুড়ি হাজার বছর আগে লেখা হয়েছিল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিকাশ লাভ করেছিল ছোটো আকারের এক মানুষ, যার নাম দেওয়া হল হোমো ফ্লোরেসিয়েনসিস অথবা ফ্লোরেস দ্বীপের মানুষ । মানুষ যখন প্রথম ফ্লোরেস দ্বীপে পৌঁছয় তখন আশেপাশের সমুদ্রের জলের উচ্চতা ছিল একেবারেই কম।
ফলে মানুষ সহজেই ফ্লোরেস দ্বীপ থেকে মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত করতে পারত। সময় যত অতিবাহিত হল সমুদ্রের জলের উচ্চতা ততই বাড়তে থাকল। একটা সময় এল যখন ফ্রোরেস দ্বীপ মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ রূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। এর ফলে কিছু মানুষ ফ্লোরেস দ্বীপেই আটকা পড়ে গেল। ফ্লোরেস ছিল খুবই ছোটো একটি দ্বীপ। এই রকম ছোটো একটি দ্বীপে অনেক মানুষের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যের সরবরাহ থাকা সম্ভব নয়। ফলে লম্বা এবং মোটা-তাজা মানুষ, বেশি খাদ্য ছাড়া যাদের চলে না, প্রথমেই তারা খাদ্যের অভাবে মারা পড়ল। কিন্ত ছোটোখাটো চেহারার মানুষ ও প্রাণী সেখানে কোনোরকমে বেঁচে থাকল।
অনেক অনেক বছর ধরে এই ঘটনা ঘটে চলল। ছোটো আকারের মানুষদের কম খাদ্য খেয়েও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি ছিল। এই কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ছোটো আকারের মানুষরাই বেশি সংখ্যায় সেখানে টিকে থাকল। এই ভাবে ফ্লোরেস দ্বীপের মানুষ একসময় ‘বামন’এ (ছোটো আকারের মানুষ) পরিণত হল। হোমো ফ্লোরেসিয়েনসিসদের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল এক মিটার অথবা তিন ফুটের মতন। আর তাদের ওজন সাধারণত পঁচিশ কিলোগ্রামের বেশি হত না।