আমির হোসেন || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সুনামগঞ্জে ভুয়া ব্যবসায়ী সেজে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ইং রোজ বৃহস্পতিবার র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সুনামগঞ্জ র্যাব-৯, প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ, সিলেট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
প্রায় ৫/৬ মাস পূর্বে একটি সংঘবদ্ধ প্রচারক চক্র সুনামগঞ্জ এসপ স্ব- পরিবারে বাসাভাড়া বসবাস শুরু করে। তারা পেয়াজ,রসুন,আলু ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে একটি প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে। প্রচারক চক্রটি সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার রাধানগর সাকিনে মেসার্স আব্দুল্লাহ বাণিজ্যালয়ের নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করে।তারা বাজার দরের চেয়ে কম মুল্যে পেয়াজ,রসুন, ইত্যাদি সুনামগঞ্জের ব্যাবসায়ীদের নিকট পাইকারী দরে বিক্রয় শুরু করে এবং ব্যবসায়ীদের কাছে বিশ্বাস অর্জন করে। কিছুদিন পর সকল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পেয়াজ,রসুনের বড় চালান আনার কথা বলে অগ্রিম মোটা অংকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
গত ২৮ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে সুনামগঞ্জ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করার পর প্রচারক চক্রটি তাদের অফিসে তালাবদ্ধ করে পালানোর পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়। এঘটনায় সারা বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে ঐ প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনতে অধিনায়ক র্যাব-৯,সিপিসি-৩,সুনামগঞ্জ এই ঘটনাট ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ ক্যাম্প কোম্পানি কমান্ডার সি: সহকারী পুলিশ সুপার কপিল দেব গাইন এবং গাইবান্ধা র্যাব-১৩ যৌথ অভিযানে ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেন।
র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ ক্যাম্প কোম্পানি কমান্ডার সি: সহকারী পুলিশ সুপার কপিল দেব গাইন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ১. মো. রফিকুল ইসলাম সোহেল (৩৯), পিতা- আবুল হাসেম, সাং বাসুরদিয়ার, থানা কিশোরগঞ্জ সদর । ২. মোছা: শাহানা পারভীন (৪৩), পিতা- আব্বাস উদ্দিন,সাং- নিকলী নাগার ছিহাটি,থানা-নিকলী। ৩. মশিউর রহমান ওরফে মাসুক (৩০), পিতা হেকিম মিয়া, সাং-বৌলাই, থানা কিশোরগঞ্জসদর।৪. শফিউর রহমান (২৬) পিতা- আ: হেকিম, ৫. রিনা আক্তার (২০), স্বামী – শফিউর রহমান, উভয় সাং- রঘুনন্দন পুর বটতলা, থানা কিশোরগঞ্জ সদর। ৬. নারগিস আক্তার (৩৪), স্বামী – রফিকুল ইসলাম, সাং বাসুরদিয়ার,থানা কিশোরগঞ্জ সদর।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-১৭/২৭০, তারিখ-১৭/০৯/২০২৫, ধারা ৪০৬/৪২০ পেনাল কোড)। মামলার তদন্ত চলছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৯, সিপিডি,সুনামগঞ্জ। র্যাবের আহ্বান, কেউ যেন ভুয়া ব্যবসা বা বিনিয়োগের প্রলোভনে না পড়ে। জনগণকে সচেতন থাকতে ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য নিকটস্থ র্যাব অফিসে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়াও দেশের আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | |
| 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 |
| 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 |
| 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 |
| 28 | 29 | 30 | 31 | |||