অনুসন্ধানী প্রতিবেদন || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২:৩২ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে বে-সরকারী হাসাপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার নামে চলছে অপচিকিৎসা। সরকারী নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই অপচিকিৎসা দিয়েই চলছে বে-সরকারী ক্লিানিক, হাসপাতাল ও প্যাথলজি। এই সমস্ত সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় প্রাণও গেছে অনেকের। হয়রানী ও ক্ষতিগ্রস্থের শিকার হয়েছে এমন রোগীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে একাধিকবার জরিমানার টাকাও গুনাসহ জেলও খাটতে হয়েছে মাদকসহ ভুল চিকিৎসা ও সরকারী ঔষধ রাখার দায়ে। বিশাল সাইনবোর্ড লাগিয়ে বিলাস বহুল ভবনসহ নিম্নমানের ভবন ভাড়া করে সরকারী নিয়ম-নীতির কোন কিছু না মেনেই চলছে বে-সরকারী ক্লিনিক, হাসপাতাল ও প্যাথলজি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা থেকে এই সমস্ত ক্লিনিক, হাসপাতাল ও প্যাথলজির নিবন্ধন নেয়। উল্লেখ নিবন্ধনে এই সমস্ত হাসপাতাল গুলোতে যদি অনুমোদন থাকে ১০ শয্যা বেড সেখানে রাখে ১৫ শয্যা, আর ১৫ শয্যা থাকলে রাখে ২৫ শয্যা।নিবন্ধনে মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী ও অবস্ বিষয়ে সেবা দানের কথা লেখা থাকলেও মুলত নেই কিছুই। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে হাতুড়ে নার্স দিয়ে রোগীদের সেবা প্রদান করা হয়। ভাড়া করা ডাক্তার দিয়ে চলে এই সমস্ত ক্লিনিক, হাসপাতাল ও প্যাথলজি। সার্বক্ষনিক এমবিবিএস ডাক্তারের বদলে থাকে ম্যানেজার, ওয়ার্ডবয় ও ক্লিনিক মালিক নিজেই। তারাই মূলত এই সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখভাল করেন। অ্যানেসথেটিস্ট (অজ্ঞানকারী ডাক্তার) ছাড়াই করা হয় বিভিন্ন রোগের অপারেশন। উল্লেখ্য নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে চাই ঠাকুরগাঁও বে-সরকারী স্বাস্থ্য সেবায় একটি অপারেশন রুগীর ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী তিন থেকে চার জন ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু সার্জেন আর অ্যানেসথেটিস্ট (অজ্ঞানকারী ডাক্তার) ছাড়া সহকারী সার্জেন বা ডাক্তার কোন দিনেই রুগীর ভাগ্যে জোটেনা কারণ সেই সহকারী ডাক্তারের কাজটি করেন কথাকথিত ওয়ার্ড বয়, ম্যানেজার ও নামধারী মালিক নিজেই।
ক্লিনিকের সাইনবোর্ডে কিছু সুনামধন্য ডাক্তারের নাম লেখা থাকলেও তারা কখনো আসে না ক্লিনিকে। ঠাকুরগাঁও একমাত্র আধুনিক সদর হাসপাতালে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগীদের ভাগিয়ে আনার জন্য রয়েছে একাধিক নিয়োজিত দালাল। রোগী আনলেই পায় নির্দিষ্ট হারে কমিশন। বে-সরকারী ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কয়েকজন অপারেশন করা রোগী অভিযোগ করেন বে-সরকারী হাসপাতালে এসেছি ভালো চিকিৎসার জন্য সার্বক্ষণিক ডাক্তার ও নার্স পাব বলে। কিন্তু এখানেও এসে দেখি দূর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ ও সেবার মান নিম্ন।রোগীরা জানায়, কোন সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষনিক কোন সমাধান মেলে না কারণ ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক ডাক্তার নেই। অপারেশন করে গেছে তারপর থেকেই আর ডাক্তারের দেখা মেলেনা। কম টাকায় ভাল চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আশায় এই সমস্ত ক্লিনিক ও হাসপাতালে এসে রোগীরা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছে। ভর্তি হওয়ার সময় চুক্তি (প্যাকেজ) হয় যে টাকা, সে টাকায় অপারেশন থেকে শুরু করে শেলাই কাটা পর্যন্ত ঔষধ সরবরাহ করবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে এই সমস্ত ঔষধও নাকি নিম্নমানের। যাই হোক এসব দেখার কথা যেসব কর্তাবাবুর তারা তো রয়েছেন অজ্ঞাত কারণে নিরব ভুমিকায়। এই সমস্ত বাহারি নামে ক্লিনিক, বে-সরকারী হাসপাতাল ও প্যাথলজিসহ ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয় জেলা সিভিল সার্জেন অফিস কর্তৃক।সিভিল সার্জেন অফিস সূত্রে জানা যায়, আরো নতুন এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের অনুমতির জন্য বেশ কিছু কাগজ জমা রয়েছে। সম্প্রতি বেশ কিছু বে-সরকারী সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন গনমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদের ভিক্তিতে ও সিভিল সার্জেনের একান্ত প্রচেষ্ঠায় জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি রোধে নানা পদক্ষেপ লোক চক্ষুর নজরে আসলেও অজ্ঞাত কারণে কিছু দিন পর আবারো আগের মতোই লক্ষণীয়। জানা যায়, কিছু সংখ্যক ক্লিনিক, হাসপাতাল ও প্যাথলজির লাইসেন্স নবায়ন হয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদ্বয়ের হস্তক্ষেপে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বে-সরকারী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোতে অনিয়ম-দূর্নীতির লক্ষণীয় বিষয় সমূহ: সার্বক্ষণিক এমবিবিএস ডাক্তার, ডিপ্লোমা ধারী নার্স, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ওয়ার্ড বয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, অপারেশনের ঔষধ কেনার তালিকা, চিকিৎসারত রুগীদের ঔষধ লিখে দেয়া নিয়ে রয়েছে নানা বির্তক।
অপারেশন রুগীদের ঔষধসহ চুক্তিবদ্ধ না হওয়ার ক্ষেত্রে একাধিকবার জেলা স্বাস্থ্য সেবার সিভিল সার্জেনসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির লিখিত নিষেধ আজ্ঞা জারি করলেও তা শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ। সরকারী হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্যে তালিকা আর বে-সরকারী হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্যে তালিকার নেই কোন মিল। কিছু প্যাথলজির মালিক নিজেরাই রুগীর কথা শুনে মোবাইলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাসহ চিকিৎসাপত্র লিখে দেওয়া। কিছু কিছু সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত ডাক্তার গন রুগী দেখার আগেই ভিজিট নেন (বিষয়টি অমানবিক)। বিভিন্ন ক্লিনিক, প্যাথলজিসহ নামে বেনামে যততত্র অ্যাম্বুলেন্সের ছড়াছড়ি। যাদের নেই কোন অ্যাম্বুলেন্সের সরঞ্জামাদিসহ রেজিস্ট্রেশন তাই অসহায় রুগীদের জরুরী ভাবে গাড়িতে তুলে অক্সিজেন বিহীন ৩-৪ ঘন্টায় রংপুর পৌঁছাসহ নানা অনিয়ম।
সাধারণ জনগন এই সমস্ত অনিয়ম দূর্নীতি ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ কর্তাবাবুর আসু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আর একটি বিষয় না বললেই না সেটি হলো যে-সব রুগির অপারেশন করা হয় তাদের কাছ থেকে তিন সেট ওষুধসহ সব উপকরণ কেনায় তারা অপারেশন থিয়েটারে এক সেট ব্যবহার করে আর বাকী দুই সেট পরে মেডিসিন ডিস্পেন্সারিতে বিক্রয় করে দেয় অথবা তাদের মেডিসিন কর্ণারে রেখে দেয়। যা তারা পরে বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করে নেয়। প্রশাসনের এই সব ঠকবাজি গুলো বিবেচনায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | |
| 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 |
| 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 |
| 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 |
| 28 | 29 | 30 | 31 | |||