admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৪ ১২:২৯ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ আবু মহী উদ্দীনঃ ছাত্রদের কাজ না হলেও জাতির প্রয়োজনে ছাত্ররা সড়ক চলাচল নিরাপদ করার জন্য দায়িত্ব পালন করছে। এদের সাথে আরো আছে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কর্মীরা , স্কাউটরা , রেডক্রিসেন্ট সদস্যরা , কোথাও কোথাও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ,বাংলাদেশ আনসার। তারা ইতোমধ্যে মধ্যে তারা অনেক অসাধ্য সাধন করেছে। মনে হচ্ছে এই কাজে সহযোগিতার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। স্বত:স্ফুর্তভাবে কেউ ছাতা , বিস্কুট , খাবার , পানি , ক্যাপ পৌছে দিয়ে যাচ্ছে।
রাজধানীসহ দেশের রাস্তাঘাটে যান চলাচলে একটা কাঙ্খিত পরিবর্তন এসেছে। ঢাকার রাস্তায় এক লাইনে বাস চলবে এটা আমরা কল্পনা করতে পরিনি। ড্রাইভার, হেলপার পেসেঞ্জার সবই পুরাতন কিন্তু ব্যবস্থাপনাটা নতুন। আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা যদিও তাদের নাই।
সমস্যা কি কি হবে? যেমন কেউ হেলমেট পরবেনা, সীট বেল্ট বাঁধবে না, যার যার নির্ধারিত লেনে চলবেনা , সিগনাল মানবেনা , তাদের সামান্য হলেও শাস্তি দিতে হবে , আর্থিক দন্ড তো দেওয়ার উপায় নাই , যিনি যত ব্যস্ত হবেন তাকে ৫/১০ মিনিটের যাত্রা বিরতির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যার যে লেন সেই যানবাহন সেই লেনে চলবে , এটাই সাধারন নিয়ম। এতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে , উপকৃত হবে সকল প্রকারের যাত্রীরা , অপেক্ষাকৃত নিরাপদ হবে সড়ক।
ব্যাংকক শহরে ২২ হাজার স্কাউট ট্রাফিক ডিউটি করে। ব্যাংকক শহর ঢাকার চাইতেও ব্যস্ত নগরী কিন্তু ঢাকার মত সমস্যা নাই। ছাত্ররা গাড়ীর কাগজ দেখা শুরু করেছে । এইটা করতে পারলে এতে তো থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। দেখা যাবে অর্ধেক গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশন অথবা মেয়াদ নাই। এরপর যদি ছেলেরা ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করে তাহলে তুলকালাম কান্ড ঘটে যাবে। ছাত্ররা একটা সেম্পল সার্ভে করতে পারে । যারা লাইসেন্স দেখবে, জিজ্ঞাসা করে জেনে নেওয়া যেতে পারে , লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে হয়েছে কিনা? দিলে কত পরিমান। আমার ধারণা এই তথ্যে আমাদের ছেলেরা চঞ্চল হয়ে উঠবে। বিআরটিএ এবং লাইসেন্স কার্যক্রমে দালাল ব্যবস্থা কিভাবে জেঁকে বসেছে তার ধারণা জন্মাবে।
সড়ক ব্যবস্থাপনা বা ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পাঠ্যবইয়ে কোন লেখা সংযোজন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি আমাদের দিগগজ শিক্ষাবিদেরা,অথচ বিষয়টা ছিল অতি জরুরী। নুতন সরকারের শিক্ষা বিভাগ এই বিষয়টা ভেবে দেখবেন।
তবে যে ছেলেরা ট্রাফিক ডিউটি করছে তারা হ্যান্ড সিগন্যাল সহ অন্যান্য বিষয়ের কোন ধারণা ছাড়াই কাজ করছে এবং ভালো করছে। এদেরকে যদি ট্রাফিক আইন এবং সিগন্যাল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়োগ করা হয় তাহলে বিশেষ উপকার পাওয়া যাবে দুভাবেই। ক) আমাদের ছেলেরা ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল সম্পর্কে প্রশিক্ষিত হবে যে কোন অন্তরবর্তী সময়ে প্রয়োজনে তাদের কাজে লাগানো যাবে। খ) এটাই গণমুখী শিক্ষা, যে শিক্ষা জীবনের প্রয়োজনে।
এই সব কাজের জন্যই ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে দীর্ঘদিন থেকে। তারা পারেনি তার অনেক কারণ আছে। ছাত্ররা গোটা রাস্তায় আছে, চালকরাও জানছে যে ছাত্ররা ট্রাফিক ডিউটি করছে ,তারা অন্তত: আপাতত সাবধান হয়েছে। বিপরীতক্রমে ট্রাফিকরা থাকে নির্ধারিত পয়েন্টে । এখানে তাদের কাজ হল ক্রসিং গুলোতে গাড়ী পারাপার করা। এদেও সংখ্যাও অপ্রতুল। এর মধ্যে পথচারীরাও কাছেই পদচারী সেতু থাকতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়েই পার হয়। শহর এলাকায় বেশি সমস্যা করে মোটর সাইকেল চালকরা। তারা অধিকাংশ বয়সে তরুন , এবং তরুনরা আইন না মেনে মোটর সাইকেল চালানোকে প্রেষ্টিজ মনে করে। ট্রাফিক পয়েন্টে আইন ভঙ্গ হলে ট্রাফিক পুলিশ দন্ড জরিমানা করতে পারে কিন্তু ছাত্ররাতো তা পারবে না । ছাত্রদের এই ব্যবস্থা অস্থায়ী ব্যবস্থা। প্রয়োজন শেষ হলে তারা স্কুল-কলেজে ফিরে যাবে। এই কিশোর তরুনরা যে ব্যবস্থাটা করতে পেরেছে , এই অস্থায়ী ব্যবস্থা থেকে পুলিশ কিন্তু শিক্ষা নিতে পারে।
আশা করি তারা এই ব্যবস্থাটাকে আরো উন্নত করবে। এখন পর্যন্ত দেশের কোন জায়গা থেকে কেউ অভিযোগ করেনি কেউ ছাত্রদের ১০ টাকা দিতে পেরেছে। বুঝতেইতো পারছেন , বাজারে জিনিষপত্রের দাম কিছুটা হলেও কমেছে কারণ ঘাটে ঘাটে টাকা দিতে হয়না। এই টাকা নেওয়ার অভিযোগ থেকে পুলিশ তো মুক্ত নয়। এখন সোজা প্রশ্ন হলো আমাদের ছাত্ররা পারলে পুলিশ পারবেনা কেন ? পুলিশ দাবী নামা দিয়েছে তারা জনতার পুলিশ হতে চায়। আমরাওতো জনতার পুলিশই চাই।
দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট ছেলেরা রা¯তার মধ্যে দ্বায়িত্ব পালন করছে। তারা উৎসাহভরেই তা করছে। কিন্তু এ কাজের জন্য যে সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার সে সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা নাই। রাস্তায় গাড়ী চলবে। এখানে ডিউটি করার কথা নয়। ডিউটি করতে হবে পয়েন্ট থেকে।
স্মরণ করা যেতে পারে ,সম্ভবত ৮৩ সালে দিনাজপুরে স্কাউটরা ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করছিল। খুবই সফল সেই আয়োজন। শেষের দিন দিনাজপুর হাই স্কুলের ু৭ম শ্রেনীর এক ছাত্র উজ্জল রায় দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু বরণ করে। এই ছেলেটি তার পরিবারের ৭ বোনের একমাত্র ভাই ছিল। আমরা চাইনা এ রকম কোন অনাকাংখিত ঘটনা ঘটুক। আমরা মনে করি জরুরী ভিত্তিতে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের এই কাজ থেকে ফেরত আনা দরকার। এই কাজ অপেক্ষাকৃত বড়রা করুক। আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ট্রাফিক পুলিশকে তাদের দ্বায়িত্বে ফেরাতে হবে।
আমাদের দেশে স্কুল কলেজে খেলাধুলা প্রতিযোগিতা এমনিতেই কম হয়। আবার যা-ও হয় প্লেট বাটি পুরস্কার দিয়ে বিদায় করা হয়। কোন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়না। অথচ একজন শিক্ষার্থীর জন্য এই সার্টিফিকেটটা কত মুল্যবান। আমরা আশা করবো ট্রাফিক ডিউটি করা এই সব শিক্ষার্থীকে সুদৃশ্য সনদ দেওয়া হোক। এই সনদ টা পেয়ে একজন শিক্ষার্থী গর্বিত হবে এই ভেবে যে , জাতির প্রয়োজনে একটা গুরত্বপুর্ণ দ্বায়িত্ব পালন করেছিলাম। নিশ্চয় জাতি তাদের ভুমিকার কথা মনে রাখবে।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | |
| 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 |
| 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 |
| 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 |
| 28 | 29 | 30 | 31 | |||