admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ৬:২০ অপরাহ্ণ
এম এ মোমিন, বিশেষ প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৭ নং চিলারং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত “ভেলাপুকুর লক্ষীপুর উচ্চ বিদ্যালয়” এর প্রধান শিক্ষক মোঃ খায়ের উদ্দীনের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ।
আজ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং রবিবার ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী মহাসড়কের ভেলাপুকুর লক্ষীপুর নামক স্থানে ঘন্টা ব্যাপী এই প্রতিবাদ সমাবেশ এলাকাবাসীর আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন, ৭ নং চিলারাং ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, শ্রী দীপেন্দ্রনাথ রায়, সভাপতি ৭ নং ওয়ার্ড আ’লীগ, ৭ নং চিলারং ইউনিয়ন । তৈমুর রহমান ৭ নং চিলারং ইউনিয়ন যুবলীগ, কাসেম আলী সাধারণ সম্পাদক ৭ নং ওয়ার্ড আ’লীগ, ৭ নং চিলারং ইউনিয়ন । আ: মমিন (বাবু), সভাপতি ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগ,৭ নং চিলারং ইউনিয়ন। লিয়াকত আলী, ভেলাপুকুর লক্ষ্মীপুর উচ্চ বিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী, মোহাম্মদ আইনুল হক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, পয়গাম আলী, অভিভাবক সদস্য, ভুক্তভোগীর পিতা মোহাম্মদ আল্লামা সহ ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য, সুশীল সমাজ ও স্থানীয়রা।
গত ৩১ আগষ্ট ২০২৩ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যে দুর্নীতির বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে ভুক্তভোগী মোঃ শাহিন কাদির ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগের এর পরীপেক্ষিতে মোঃ শাহিন কাদির জানান, ভেলাপুকুর লক্ষীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ হবে জানতে পেরে আবেদন করি। এ সময় আমার কাছে দুই বারে পর্যায়ক্রমে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে চাকরি বাবদ তিনি আমার কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। এত টাকা দিতে আমি অস্বীকৃতি জানালে তিনি কৌশলে স্কুলের পুরাতন কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি তৈরি করে এবং দুইটি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
অত্র বিতর্কিত ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা রয়েছে। নতুন ম্যানেজিং কমিটি মামলার তোয়াক্কা না করেই গত ১৪ আগস্ট স্থানীয় দৈনিক আলোর কন্ঠ ও জাতীয় দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
লিখিত অভিযোগে মোঃ শাহিন কাদির আরো উল্লেখ করে বলেন, দৈনিক আলোর কন্ঠ প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হয় না এবং জাতীয় দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের পাঠক অত্র জেলায় নেই। সেই সাথে আলোর কন্ঠ পত্রিকা যেদিন প্রকাশিত হয় সেদিনের সব পত্রিকা প্রধান শিক্ষক ক্রয় করে নেন। ফলে প্রধান শিক্ষক গোপনীয়ভাবে একক আধিপত্য বিস্তার করে নিয়োগ বাণিজ্য করার পায়তারা করছে যা বিধিসম্মত নয়। নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য তিনি জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে আবেদন জানান এবং শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উক্ত প্রতিবাদ সভায়, ভুক্তভোগী এলাকাবাসী, সুশীল সমাজ সমাজসেবক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক খায়ের উদ্দীন নিয়মিত স্কুলে আসে না। প্রায় সময় ছুটিতে থাকে এবং মাসে ১৫ দিন পর স্কুলে আসলেও সকল হাজিরা একদিনে উঠিয়ে দেয়। এছাড়াও এডমিট কার্ডের টাকা বেশি করে নেয় এবং বছরে শুরুতে সরকারের দেয়া বিনামূল্যে বই বিতরণে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ২০০ করে টাকা নেয় এবং যারা টাকা দিতে ব্যর্থ তাদেরকে বই দেওয়া হয় না। তিনি তার ইচ্ছামত স্কুল পরিচালনা করেন কেউ উনার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। বিষয়টিতে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ ও উদ্ধাতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন প্রতিবাদকারীরা।
ভেলাপুকুর লক্ষীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খায়ের উদ্দীনের সাথে স্কুলের গিয়ে যোগাযোগ করতে চাইলে জানতে পারা যায় তিনি ছুটিতে আছেন এবং মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।