admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চীনে কঠোর লকডাউন তবুও থামছে না সংক্রমণ। করোনার উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত চীনে নতুন করে ভাইরাসটির সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দেশটির জিয়ানে সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউন চললেও সংক্রমণ থামানো যাচ্ছে না। উল্টো সেখানকার ১ কোটি ৩০ লাখ বাসিন্দা কার্যত বন্দি রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার চীনে ১৫২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৫১ জনই জিয়ানের। এ নিয়ে ৯-২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে নগরটিতে প্রায় ১ হাজার রোগী শনাক্ত হলো।
তবে এসব রোগীর মধ্যে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি নেই। রয়টার্স জানায়, জিয়ানের লকডাউন আজ বুধবার ৭ দিনে গড়িয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না। কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা প্রয়োজনীয় পণ্য দিয়েই দিন কাটাচ্ছেন তারা। গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে শহরটিতে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ বেড়ে চলায় তা ঠেকাতে শহরটি থেকে কারো বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এমনকি শহরের মধ্যেও চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কেউ বের হতে চাইলে করোনা পরীক্ষা এবং তাতে নেগেটিভ আসা বধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ প্রয়োজনে চলাচলের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শহরটির দূর পাল্লার বাস ট্যাক্সি ও গাড়ি ভাড়ার পরিষেবা বন্ধ রয়েছে, বাতিল করা হয়েছে ফ্লাইট চলাচলও।
এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রতি পরিবারের একজন বাজার করতে বাইরে বের হতে পারছেন। পুরো বিষয়টি দেখভাল করার জন্য শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে শহরটির প্রধান সড়কগুলো একেবারে ফাঁকা হয়ে পড়েছে। জিয়ান শহরে দুই বার করোনার গণপরীক্ষা চালিয়েছে চীনের স্বাস্থ্য বিভাগ, তৃতীয় দফা হওয়ার কথা আজ বুধবার।
সম্প্রতি শহরটি থেকে ফেরা ব্যক্তিদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করেছে দেশটির সিচুয়ান প্রদেশ ও চংকিং কর্তৃৃপক্ষ। এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত চীনের মূল ভূখণ্ডে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৬৮৩ জন। এই মহামারিতে মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৬ জন। সরকারি এই হিসাবের চেয়ে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হয়।