admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ৪:১৮ অপরাহ্ণ
মালদ্বীপে ইন্ডিয়া আউট আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ মালদ্বীপের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেখানে জনপ্রিয়তা বাড়ছে ইন্ডিয়া আউট আন্দোলনের, যার পেছনে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন। সম্প্রতি আদালত তাকে দুর্নীতি মামলায় নির্দোষ আখ্যা দিয়ে জেল থেকে মুক্তি দিলে এ আন্দোলন আরো বেগবান হয়। অবশ্য দেশটির সরকার এর জোরদার বিরোধিতা করছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে মালদ্বীপ দেশ হিসেবে ছোট হলেও পাশাপাশি দুই বৃহৎ শক্তি চীন ও ভারতের দৃষ্টি রয়েছে রাষ্ট্রটির ওপর। ভৌগোলিক অবস্থানগত গুরুত্বের কারণে দেশ দুটি মালদ্বীপের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তা প্রভাবিত করে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও।
ফলে আবদুল্লাহ ইয়ামিন তার রাজনৈতিক দর্শনে যেমন ভারত বিরোধিতাকে লক্ষ্য বানিয়েছেন, তেমনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম সোলিহ তার পররাষ্ট্রনীতি সাজিয়েছেন ইন্ডিয়া ফার্স্ট নীতি দিয়ে। আগে থেকেই এ বিষয়টি স্পষ্ট থাকলেও গত বছর দেশটির রাজনীতি নতুন দিকে মোড় নেয়। বিরোধী দল প্রোগ্রেসিভ পার্টি অব মালদ্বীপের (পিপিএম) নেতৃত্বে শুরু হয় ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলন, যা দিনে দিনে জোরালো হয়ে উঠেছে।
গত মাসে মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের কারাদণ্ড বাতিল করার পর থেকে এ আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠছে। আন্দোলনের সমর্থকদের দাবি, মালদ্বীপ থেকে তথাকথিত ‘ভারতীয় সৈনিকদের’ বের করে দিতে হবে। ইন্ডিয়া মিলিটারি আউট ব্যানারের এ আন্দোলনে ব্যাপক জনসমর্থনও পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের ভারতপ্রীতিকে তারা মেনে নিলেও দেশে ভারতের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি সহ্য করতে তারা নারাজ।
ইয়ামিন দাবি করেছেন, এই প্রচারণার লক্ষ্য কেবল মালদ্বীপের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এদিকে ভারতকে মালদ্বীপের সবচেয়ে ‘ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য মিত্র’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইব্রাহিম সলিহর নেতৃত্বাধীন সরকার। এতে আরো ক্ষুব্ধ হয়েছে মালদ্বীপের লোকজন। তারা বলছে, দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য এ স্বাধীনতাও এখন খর্ব করা হচ্ছে।
মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ মালদ্বীপের রাজনীতি এখন আবর্তিত হচ্ছে এশিয়ার বৃহৎ দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতাকে ঘিরে। পিপিএম নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনকে দেখা হয় মালদ্বীপে চীনের একজন ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে। এর বিপরীতে ইব্রাহিম সলিহর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। আপাতত এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়েই চলছে মালদ্বীপের রাজনীতি।