admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
চীনে উইঘুর নির্যাতন জিনজিয়াংয়ে শাখা প্রধানকে বরখাস্ত করেছে। ধর্মীয় কট্টরপন্থা দমনের নামে চীনের জিনজিয়াংয়ের উইঘুর ও অন্য মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগে এক সিনিয়র অফিসারকে অপসারণ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে চীন মূলত উইঘুর নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করে নিল। খবর সিনহুয়ার। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জিনজিয়াং শাখার প্রধান শেন কুয়ানগুয়োকে অপসারণ করে তার পদে দেশটির অর্থনীতির অন্যতম পাওয়ারহাউস হিসেবে পরিচিত গুয়াংডং প্রদেশের গভর্নর মা জিনগ্রুইকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১৯৪৯ সালের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর থেকে দেশটির সর্বময় ক্ষমতা লাভ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)। ২০১৬ সালে পার্টির জিনজিয়াং শাখার প্রধান হিসেবে শেন কুয়ানগুয়ো দায়িত্ব পান।
অন্যদিকে এর বছর পর, ২০১৭ সালে চীনের উপকূলীয় প্রদেশ গুয়াংডংয়ের গভর্নর হন মা জিনগ্রুই। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর নারী-পুরুষ ও শিশুকে বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক। চীন অবশ্য বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, উইঘুর মুসলিমরা যেন ধর্মীয় কট্টরপন্থার দিকে ঝুঁকে না পড়ে, সেজন্য সেখানে তাদের বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে এ ধরনের অভিযোগ পুরোপুরিই অস্বীকার করা হতো।
বিষয়টির উপর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও ফুটেজ প্রকাশিত হওয়ার পর তারা কিছুটা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘ ও মার্কিন প্রশাসন অনেক আগে থেকেই এ ব্যাপারে চীনকে সতর্ক করে আসছিল। সম্প্রতি জাতিসংঘ চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার জিনজিয়াং থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ বিষয়ক আইনে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যে আইনে বলা হয়েছে, জিনজিয়াংয়ে উৎপাদিত পণ্যসমূহের সঙ্গে উইঘুর মুসলিমদের দাসত্বমূলক শ্রমদানের বিষয়টি যুক্ত, যা যুক্তরাষ্ট্র কখনো সমর্থন করে না।