admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৬:৪০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে গত ৭ দিনে ৪ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রায় ১৮ মাস পর গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ এখনো বন্ধই রয়েছে। দীর্ঘ সময় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। এর প্রমাণ মেলে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায়। সম্প্রতি চালানো আঁচল ফাউন্ডেশনের এক জরিপে দেখা যায়, গত ১৫ মাসে ১৫১ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা করেছে। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে গত ১০ সেপ্টেম্বর এমন তথ্য জানানো হয়েছিল। এবার গত ৭ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীর খবর এলো।
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব আত্মাহননের ঘটনা ঘটে। চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে তিন জনই আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইমরুল কায়েস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাসুদ আল মাহাদী অপু ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অমিতোষ হালদার। অন্যজন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী তাহমিদুর রহমান জামিল।
এদের মধ্যে ইমরুল ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন যশোরের ঝিকরগাছার গ্রামের বাড়িতে। তিনি রাবির ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবার ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনে না দেয়ায় ইমরুল গলায় ফাঁস দেন বলে জানা যায়। একইদিন রাতে পাবনা শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাহমিদুরের (২২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার মরদেহের কাছেই ‘বাবা-মা ক্ষমা করো, গুড বাই’ লেখা একটি চিরকুট মেলে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহীবাগের বজলার রহমানের ছেলে তাহমিদুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঢাবির ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় রাজধানীর চাঁনখারপুলের ভাড়া বাসা থেকে, ২৭ সেপ্টেম্বর। তবে কী কারণে তিনি আত্মহনেন পথ বেছে নিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। সবশেষ আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, জবির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অমিতোষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গোপালগঞ্জের পাটিকেলবাড়ি ইউনিয়নের গ্রামের বাড়ি পাশের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তার মরদেহটি।
সেখানকার ভূপেন হালদারের ছেলে তিনি। কয়েকপাতার একটি সুইসাইড নোট মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত ১৫১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ৪২ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের, ২৭ জন কলেজের, ৭৩ জন স্কুলের ও ৯ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এর আগে ২০১৮ সালে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১১ জন এবং ২০১৭ সালে ১৯ জন।
এত সংখ্যক আত্মাহত্যার পেছনে যেসব প্রধান কারণ দেখা গেছে, তার মধ্যে রয়েছে- পড়াশোনার চাপ, বেকার সমস্যা, বৈবাহিক সমস্যা, প্রেমে ব্যর্থতা, মানসিক নির্যাতন, পারিবারিক সমস্যা, অবসাদ ও বিষন্নতা। এ ছাড়াও ব্যক্তি বিশেষে নানা কারণ রয়েছে আত্মহননের। আত্মহত্যা প্রতিরোধে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন বিভাগ ও আবাসিক হলে সচেতনতা বৃদ্ধির আয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাদার সাইকোলজিস্টের সংখ্যা বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে সাইকিয়াট্রিস্ট নিয়োগ এবং আবাসিক হলগুলোতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ।