admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
কিশোরী-তরুণীদের পথে-ঘাটে উত্ত্যক্ত করা ক্ষমা নেই এই অপরাধের। উন্মত্ত হয়ে প্রাণঘাতী আঘাত করা, হত্যা ও আত্মহত্যার কয়েকটি বিয়োগান্ত ঘটনা অল্প সময়ের মধ্যে ঘটল। সাম্প্রতিকতম বিষাদমাখা নাম গুলো কণিকা, রিসা, নিতু মণ্ডল। এই সম্পাদকীয় লেখার সময় খাদিজা বেগম নার্গিস রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তিনি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার স্বজন-বন্ধুপরিজন-সহপাঠী, বস্তুত ইন্টারনেটের কল্যাণে দেশে-বিদেশে অবহিত হাজার হাজার মানুষ তার জন্য প্রার্থনা করছেন যেন জীবন রক্ষা পায়, তিনি সুস্থ হন। সোমবার ৩ অক্টোবর সিলেট মুরারী চাঁদ কলেজ ভবনে পরীক্ষা দিয়ে বিকেলে ফেরার সময় ওই ক্যাম্পাসেই ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে মারাত্মক আহত করে বদরুল আলম। মাথায় আঘাত। তাই জীবন সংশয়। একজন ধরাশায়ী মেয়েকে উপর্যুপরি আঘাত করার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে তা দেখে মানুষ শিহরিত হয়েছে।
হামলাকারী যুবক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ওই বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সহ-সম্পাদক। অনেক দিন ধরে খাদিজাকে উত্ত্যক্ত করত। প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, সাত বছর আগে সে খাদিজাদের গ্রামের বাড়িতে কিছুদিন লজিং থেকেছে। খাদিজা তাকে বিরত করলেও সে পিছু ছাড়েনি। ২০১২ সালে শহরে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় গণপিটুনিও খেয়েছিল। সোমবার খাদিজাকে কোপানোর পর বদরুলকে ছাত্ররা ধরে পুলিশের হাতে দিয়েছে। যারা কোনো নারীকে ভালোবেসে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে না পেলে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাতে হামলা করে তাদের অনুভূতি ভালোবাসাও নয়, আকাঙ্ক্ষাও নয়- এ স্রেফ ভোগ-লালসা। এরা অপরাধী ছাড়া কিছু নয়। এদের কঠোর সাজা হওয়া উচিত। সাধারণত দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকা যুবকরা অপরাধে বেপরোয়া, ভয় পায় না। ছাত্রলীগ নামধারীদের অপরাধে যুক্ত হয়ে পড়া তো সাম্প্রতিককালে কম ঘটেনি।
বদরুল সিলেটের আদালতে ‘প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ক্ষোভে’ হামলা করার কথা স্বীকার করেছে। বিধি মোতাবেকই শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার ও তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা যে ‘সে ছাত্রলীগের কেউ নয়’ বলে হাত ধুয়ে ফেলছেন, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। বদরুল অন্যত্র স্কুলে শিক্ষকের চাকরি নিলেও সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রলীগ বর্তমান কমিটিরই নেতা। এই অস্বীকৃতি প্রতারণা ও আত্মপ্রতারণার নামান্তর। ব্যক্তির অপরাধের জন্য সংগঠন দায়ী হয় না। কিন্তু সংগঠন কেন অপরাধীকে আশ্রয় দেবে আর না পারলে নিজেরা আড়াল নেবে? অস্বীকার নয়, বরং অপরাধীকে সংগঠন থেকে বের করে দিলে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়াকে সাহায্য করলেই ছাত্রলীগের জন্য সঠিক কাজ হতো। সব মহল থেকেই কিশোরী-তরুণীদের উত্ত্যক্তকারী অপরাধীদের প্রতিহত করা দরকার।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | |
| 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 |
| 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 |
| 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 |
| 28 | 29 | 30 | 31 | |||