admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৪ ৩:১৬ অপরাহ্ণ
মিরু হাসান,স্টাফ রিপোর্টার: এই শীতকালে মাঠে মাঠে দেখা মেলে বাহারী শাক-সবজির সমাহার। আর তাই শীত মৌসুমের আগাম সবজি চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। দিন দিন সবজির বীজ ও শ্রমিকের মজুরী বাড়তে থাকায় সবজির উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সেই তুলনায় সবজির দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় লাভ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
কৃষকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে কৃষি বিভাগ বলছেন, বীজ উৎপাদনে বেসরকারি পর্যায়ে আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে কৃষকরা আরো উপকৃত হতো। বগুড়াতে মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি। যেমন সিম, বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাকসহ এমন নানা শাক-সবজিতে ভরে গেছে কৃষকের খেত। ভালো দাম পাওয়ার আশায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেত পরিচর্যায় ব্যাস্ত কৃষকরা।
এদিকে এরমধ্যে বাজারেও উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। তবে দাম অনেক চড়া। সরজেমিনে বগুড়ার সব উপজেলার মাঠগুলোতে দিনভর চাষিদের ব্যাস্ততা দেখা গেছে। সিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, বেগুন, মুলা, লাউ, পটল, বরবটি, গাজর, পালংক শাক, লালশাকসহ হরেক রকম আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। এসময় কৃষকদের রোদে পুড়ে সবজির ক্ষেত পরিচর্যা করতে দেখা যায়।
কেউ চারার পরিচর্যা করছেন আবার কেউ সার-বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন। এছাড়াও যারা পিছিয়ে পড়েছেন তারাও জমি প্রস্তুত, বীজ বপনে তোড়জোড় শুরু করেছেন। কৃষকরা বলছেন, আগাম শীতকালীন সবজি চাষে পোকা মাকড়ের আক্রমন, বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও খরচ হয় বেশি। তারপরও বাজারে ভালো দাম থাকায় লাভ হয় দ্বিগুণ। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো দাম পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবছর সদর উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে। গকুলগ্রামের আগাম সবজি চাষী মকবুল হোসেন বলেন, ১৫ কাটা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি। এবছর মাঝখানে বৃষ্টির কারণে চারা কিছুটা নষ্ট হয়েছে। তারপরও যেসব চারা আছে সেগুলোই এখন পরিচর্যা করছি ভালো দাম পাওয়ার আশায়। কাহালুর সবজি চাষী হাজী মকছেদ মিয়া বলেন, দেড় বিঘা জমিতে আগাম সবজি চাষ করেছি।
এ বছর বৃষ্টির কারণে আগাম সবজি চাষে অনেকটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এজন্য একটু বেশি পরিচর্যা করতে হয়েছে। অনেক খরচ পড়ছে। তবে অসময়ে বাজারে এই সবজির চাহিদা থাকে অনেক। এ কারণে এই সবজিগুলো বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা যায়। এ জন্য আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আমাদের আগ্রহ বেশি থাকে। আদমদিঘী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন চন্দ্র অধিকারি বলেন, ধানের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় কয়েক বছর ধরে শাক-সবজির চাষ বেশি করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে আগাম জাতের শাক-সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। চাষ বৃদ্ধির ব্যাপারে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি। তবে বৃষ্টির কারণে সবজি চাষ সামান্য পিছিয়েছে। সদরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শাক-সবজি চাষ হয়েছে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ ইসমাইল হোসেন, বলেন, বৃষ্টির পর থেকে কৃষকরা আগাম শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ শুরু করেছেন। যা এরইমধ্যে বাজারে উঠেছে এবং কৃষকরাও ভালো দাম পাচ্ছেন। আগাম শীতকালীন সবজি চাষে একটু ঝুঁকি বেশি থাকে। এজন্য কৃষকদের সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে সুষম সার, জৈব সার এবং কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারের জন্য মাঠ পর্যায়ে তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||