মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
নওগাঁ জেলা পুলিশের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সরাসরি নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ১৯ মাস পর নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার বহুল আলোচিত সুমন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি শাফিউলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পানির ডোবা থেকে ভিকটিম সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২০ জুন ২০২৪ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে আত্রাই থানাধীন পয়সা গ্রামের বাসিন্দা সুমন (৩৯), পিতা মোঃ শাহাদাত হোসেন, নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের পক্ষ থেকে ২২ জুন ২০২৪ তারিখে আত্রাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯১১) করা হয়।
পরবর্তীতে বাড়ির পাশের একটি স্থানে ইটের টুকরার সঙ্গে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানায়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিখোঁজ সুমনের রক্ত বলে নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪, তারিখ ১৫/১১/২০২৫, ধারা ১৪৩/৩২৬/৩০৭/৩৬৪/৩৪)। তবে দীর্ঘ সময়েও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ে।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভিকটিম সুমনের পরিবার ও স্বজনরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং মামলার ডকেট পর্যালোচনা করেন। এরপর মামলাটি নতুন উদ্যমে তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন শাফিউলকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। জবানবন্দিতে শাফিউল জানায়, ভিকটিম সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জেরে ২২ জুন ২০২৪ তারিখ রাতে সে ও তার ছোট ভাই সায়েম মিলে সুমনকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশে একটি নিচু জায়গায় মাটি চাপা দেয়। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শাফিউলের ভাই সায়েম কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেন।
আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে আত্রাই উপজেলার পয়সা গ্রামের রমজানের পুকুরসংলগ্ন একটি পানির ডোবা সেচ দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভিকটিম সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ ভিড় করেন।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ জেলার যে কোনো অপরাধ উদঘাটন ও অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অপরাধী যতদিনই আত্মগোপনে থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবেই।