শামসুল আলম,বোচাগঞ্জ দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেছেন, একটি কুচক্রীমহল যারা গুপ্ত ছিল, আবার নব্য গুপ্তের আবিস্কার হয়েছে। এই গুপ্তরা গুপ্ত থাকতে চায় না। মাঝে মাঝে উকি দেয়ার চেষ্টা করে আমাদের শান্তি প্রিয় এই বোচাগঞ্জকে তারা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমরা কিন্তু প্রতিশোধ নেই নাই। প্রতিশোধ নেয়ার ইচ্ছা থাকলে আপনারা কেউ বাড়ীতে থাকতে পারতেন না। জেল খানায় থাকতে হতো। প্রতিশোধ নেই নাই তার মানে আমরা দুর্বল নই। আমরা মানবতা দেখিয়েছি। যে অন্যায় অবিচার আপনারা ১৭টি বছর দলের নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃর্ণমুলের নেতাকর্মীদের উপর করেছেন আমরা সেটা করতে চাই না। কিন্তু আমাদেরকে বাধ্য করবেন না। ভুলে যাবেন না আমরা সবাই জিয়ার সেনা, আমাদের নেতা জনাব তারেক সাহেব। জিয়া এবং তারেক জিয়ার একজন সৈনিক থাকতে আপনারা আমাদের এই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করতে পারবেন না। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে উপজেলা এবং পৌর বিএনপি আয়োজিত মিছিল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, আপনারা বাহিরে বলেন এক কথা সংসদে বলেন আর এক কথা।
আপনারা এই দ্বৈতনীতি পরিহার করেন। আমরা জাতীয়তাবাদী দল সাধারণ মানুষের ভালবাসা এবং ভোট নিয়ে সরকার গঠন করেছি। সাধারণ মানুষ সব বোঝে, সব জানে। কোনটা সঠিক আর কোনটা উসকানি। শত উসকানির মাঝেও কিন্তু জনগন মাঠে নামে নাই, নামবেও না ইনশাল্লাহ। এমপি আরো বলেন, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বালারীর কারণে, আর জ্বালারী আসে মধ্যে প্রচ্চ্য থেকে। আমাদের সরকার গঠন হওয়ার পর যেই হরমুজ প্রনালী দিয়ে জ্বালানী আসত সেই হরমুজ প্রনালী নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কোন জাহাজ সেখান থেকে আসতে পারছেনা। বিধায় আমাদের জ্বালানীর সংকট দেখা দিয়েছিল। তার পরও আমরা অন্যান্য দেশ থেকে চড়া মূল্যে জ্বালানী নিয়ে এসে আমাদের মানুষের চাওয়া পাওয়াকে পুরণ করার চেষ্টা করছি।
কিন্তু আমরা দেখতে পারছি তারা জ্বালানী বৃদ্ধির নামে হাজার হাজার গাড়ী নিয়ে লং মার্চ করছে। তারা জনগণের টাকায় ক্রয়কৃত জ্বালানী অপচয় করছে। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা তাদেরকে হুশিয়ার করে বলতে চাই। আপনারা স্বাভাবিক রাজনীতি করুন, আমাদেরকেও স্বাভাবিক রাজনীতি করার সুযোগ করে দিন। অন্যথায় আপনারা কেউ শান্তিতে থাকতে পারবেন না।
বেলা ১২টায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাসেম এর সভাপতিত্বে এছাড়াও সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি নওশাদ আলী, উপদেষ্টা এমওয়ালী ফ্লাড, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক যথাকমে জামাল উদ্দীন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সুমন চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক উজ্জ্বল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক অরেঞ্জ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় ইপি চেয়ারম্যান যথাক্রমে শাহান পারভেজ, ওয়াক্কাস কাঞ্চন, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাদরুল পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারেসুল ইসলাম, বিএনপিনেতা সুয়েল রানা, যুব বিয়ষক সম্পাদক আসাদুল হক চৌধুরী, যুব দলের সদস্য সচিব রায়হান রুবেল, পৌর যুবদলের আহবায়ক সবুজ সরকার, যুবনেতা ওমর ফারুক, শামীমুর রহমান শামীম, রাজু আহমেদ, মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক রিয়াদ হাসান চৌধুরী, সদস্য সচিব রাজিউর রহমান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব লিমন খন্দাকার ছাড়াও মহিলা দল নেত্রী মনোয়ারা লিয়াকত, নার্গিস বেগম, রাশেদা খানম, শামীমা চৌধুরী সহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের শতশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে এমপি পিনাক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।