admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২২ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত কলম বক্স অফিস সিঙ্গাপুরঃ সিঙ্গাপুর সুউচ্চ অট্টালিকার ছাদে কৃষি খামার করেছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর পরিপূর্ণ ৭২৮ বর্গ কিলো মিটারের দেশটিতে রয়েছে বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। তবে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় দেশটি। অভ্যন্তরীণ চাহিদার বেশির ভাগই আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। চলতি বছরের শুরুর দিকে এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ সিঙ্গাপুরে প্রয়োজনীয় খাদ্য রপ্তানি সীমিত করে দেয় বা নিষেধাজ্ঞা দেয়। এতে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৩০ শতাংশ মেটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি, যা বর্তমান উৎপাদনক্ষমতার তিন গুণ বেশি। এরই অংশ হিসেবে খাদ্য উৎপাদনে ভর্তুকি দিচ্ছে দেশটির সরকার। ফলে খাদ্য উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তবে স্থানসংকটের কারণে ছাদকৃষিতে আগ্রহী হচ্ছে মানুষ। এ জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের বহুতল ভবনের ছাদে করা হচ্ছে কৃষি খামার। তেমনই একজন খামারি ইলিন গোহ। শহরের একটি গাড়ি পার্কিংয়ের ছাদে সবজির খামার করেছেন তিনি। খুচরা বিক্রেতাদের দৈনিক ৪০০ কেজি পর্যন্ত সবজি সরবরাহ করা হচ্ছে তাঁর খামার থেকে।
এই নারী বলেন, সিঙ্গাপুর খুবই ছোট; কিন্তু গাড়ি পার্কিংয়ের অনেক জায়গা আছে। খামারে উৎপাদিত খাদ্যের মাধ্যমে স্থানীয়দের চাহিদা মেটানোই হচ্ছে স্বপ্ন। সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সির মুখপাত্র বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা সিঙ্গাপুরের অস্তিত্বের বিষয়। সীমিত সম্পদের কারণে বাহ্যিক সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলেই ঝুঁকিতে পড়বে সিঙ্গাপুর। এ জন্য আমাদের অপরিহার্য সম্পদের সুরক্ষায় ক্রমাগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
লি কুয়ান ইয়েউ স্কুল অব পাবলিক পলিসির সহকারী অধ্যাপক মিজ সোনিয়া আক্তার বলেন, শহুরে কৃষকদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উচ্চ পরিচালন ব্যয়। উদ্যোক্তাদের ভর্তুকি ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যদি সরকার সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়, তাহলে এই খামারগুলো কি চলতে পারবে কিংবা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হতে পারবে। সারা বিশ্বে অট্টালিকার ছাদে যদি গড়ে তোলা যায় ছাদ কৃষি তাহলে পুষ্টি চাহিদা পুরণ হবে। এবং বাজারের শাক-স্বব্জির উপর চাপ কমে যাবে।