আবুল কাশেম || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৯:০৫ অপরাহ্ণ
কথায় বলে পুরাতন পাগল ভাত পায় না, নতুন পাগল গজায়। কথাটি রীতিমত উড়ে গিয়ে তথ্য উপদেষ্ঠার গায়ে লাগে। স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ এর তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী যেই জটিলতায় পড়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা নিয়ে আবোল-তাবোল বলেছিলেন, যার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তাকে মন্ত্রীত্বের পদবী থেকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন সেই একই আবোল-তাবোলই বাংলাদেশের তথ্য উপদেষ্ঠা বলা শুরু করেছেন।
সাবেক তথ্য প্রতি মন্ত্রীকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বলায় এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী গাদ্দারী করে পদত্যাগ না করায় বাংলাদেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়ায় তথ্য প্রতিমন্ত্রীও তার মন্ত্রীত্ব হারান। কারণ বাংলাদেশের কোন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করার অনুরোধ করার পর পদত্যাগ না করলে বা পদত্যাগে অসমর্থ হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সংবিধি বা আর্টিকেল নং- ৫৮(২) মোতাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি- ঐ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর বা উপমন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য কিংবা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর বা উপমন্ত্রীর পদের অবসানের জন্য, মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করতে বা পরামর্শ প্রদান করতে পারেন।
সংবিধানের সংবিধি বা আর্টিকেল নং- ৫৬(১) মোতাবেক প্রধানমন্ত্রী যেরূপ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী চাইবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেইরূপ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ প্রদান করবেন। অর্থাৎ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে কোন বিষয়ে যেইরূপ অনুরোধ করবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রে সেই অনুরোধ কার্যকর করবেন।
বাংলাদেশে একজন তথ্য উপদেষ্ঠা আছেন কিন্তু তার কোন তথ্য উপদেষ্টালয় নাই। অন্যদিকে সাংবাদিকেরা সংবিধানের ৩৯ নং আর্টিকেলে পাওয়া ক্ষমতা বা রাষ্ট্রীয় কর্মানুমতি প্রাপ্ত, সে মোতাবেক সাংবাদিকতায় নিয়োজিত। তাই সাংবাদিকদের কোন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সংবিধি ৩৯ নং মোতাবেক তথ্যালয়, উপদেষ্ঠালয়, মন্ত্রনালয় কিংবা সুস্পষ্ট নীতিমালার কোন অফিসিয়াল প্রতিষ্ঠান থাকার বিধান- সংবিধানের ঐ সংবিধি নং- ৩৯তে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী বিগত ৫৪ বছরেও স্থাপিত হয় নাই।
অর্থাৎ, উক্ত সংবিধি মোতাবেক বাংলাদেশে সাংবাদিকদের কোন মন্ত্রনালয় নাই, তথ্যালয় নাই, উপদেষ্ঠালয় বা কোন অফিসিয়াল অবকাঠামোগত বোর্ড, ব্যূরো বা কর্পোরেশন নাই। যদিও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা থাকা কিংবা উপদেষ্ঠাকারে কেউ সাংবাদিকদের কোন বিষয় নিয়ে কথা বলার আইনগত বৈধতা নেই তাই তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বেতন নিয়ে ওয়েজ বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া মানে সাংবাদিকদেরকে লেবার বলা ও মানহানীকর উক্তি করা, অনধিকার উক্তি করা, দায়িত্ব-কর্তব্য-জ্ঞানহীন উক্তি করা, বেআইনী উক্তি করা এবং অসাংবিধানিক উক্তি করা। এমতাবস্থায় সাংবাদিকদের বেতন রাষ্ট্রের কোন খাত হতে পাওয়ার বৈধতা রয়েছে, সেই ব্যাপারে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্ঠার অনেক সংযত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা- সাংবাদিকের বেতন প্রসঙ্গে সকল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক না হওয়ায়- সংবিধান অবমানার দায়ে বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্ঠার বা যে কোন কারোর-ই মৃত্যদন্ড সাজা পাওয়ার সংবিধিও বাংলাদেশের সংবিধানে রয়েছে।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | |
| 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 |
| 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 |
| 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 |
| 28 | 29 | 30 | 31 | |||