admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
রাশিয়া ও বেলারুশ যৌথ সামরিক মহড়া চালাবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দ্র লুকাশেঙ্কার আরেকটি যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। ২৯ ডিসেম্বর সেন্ট পিটার্সবার্গে লুকাশেঙ্কার সঙ্গে দেখা করার পর পুতিন জানান, বেলারুশে ফেব্রুয়ারি বা মার্চে সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। আরএফইআরএল নিউজ। ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সৈন্য মোতায়েনে উত্তেজনার মধ্যে এই মহড়ার ঘোষণাটি এলো। ইউক্রেনের কিছু কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, রাশিয়া বেলারুশিয়ান অঞ্চলের দিক থেকে ইউক্রেনে আক্রমণ করতে পারে। যদিও রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পরিকল্পনা অস্বীকার করেছে।
একই সাথে দেশটি কিয়েভ এবং ন্যাটোকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। রাশিয়া নিয়মিতভাবে বেলারুশের সাথে সামরিক মহড়া পরিচালনা করে, সর্বশেষ বড় আকারের মহড়া ছিল সেপ্টেম্বরে, যেখানে ২ লাখ সেনা অংশ নেয়। ২০২০ সালের আগস্টে একটি বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে ক্র্যাকডাউন চালান বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কা। এ নিয়ে পশ্চিমাদের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সমর্থনের জন্য দেশটি রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে।
এদিকে মস্কো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে লুকাশেঙ্কাকে কঠোরভাবে সমর্থন করেছে। মিনস্ক মধ্যপ্রাচ্য থেকে অভিবাসীদের নিয়ে চাপের জবাব দিয়েছে এবং তাদের ইইউ-এর পূর্ব সীমান্তে ঠেলে দিয়েছে। যা ব্রাসেলস হাইব্রিড যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
২৯ ডিসেম্বর রাশিয়া-বেলারুশের বৈঠকটি গত বছরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর থেকে দুই নেতার মধ্যে একটি সিরিজের সর্বশেষ বৈঠক, যা দুদেশকে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী চুক্তিতে উপনীত করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মস্কো বারবার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বোমারু বিমান উড়িয়ে বেলারুশের উপর টহল দিয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর রাশিয়ান এবং বেলারুশীয় যুদ্ধবিমান যৌথভাবে বেলারুশের আকাশে টহল দেয়।
গত মাসে লুকাশেঙ্কা বলেছিলেন, ন্যাটো যদি জার্মানি থেকে পূর্ব ইউরোপে অনুরূপ মার্কিন সরঞ্জাম স্থানান্তর করে, তবে তার দেশ রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে প্রস্তুত। ৩০ নভেম্বর একটি সাক্ষাৎকারে লুকাশেঙ্কা প্রথমবারের মতো মস্কো-অধিভুক্ত ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এ সময় তিনি জানান দেন, পুতিনের সাথে ইউক্রেনীয় উপদ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। নভেম্বরের শুরুর দিকে পুতিন ও লুকাশেঙ্কা মূলত অর্থনৈতিক ও সামরিক চুক্তিতে একমত হয়েছেন। যার ফলে দুদেশ মিলে ইউনিয়ন স্টেট গঠনে এক দশকের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক ধাপ এগিয়ে গেল।