ইব্রাহিম আলম সবুজ || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ৭:০২ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ডাংরারহাট বাজারসংলগ্ন তিস্তা নদীর তীরে নির্মিত নতুন বাঁধে রয়েছে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ, নির্মল বাতাস ও তিস্তার বয়ে চলা জলের ঢেউ পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের টানছে প্রতিনিয়ত।
প্রতিবছর ঈদ, পূজা ও নানা উৎসবকে ঘিরে বাঁধ এলাকায় মানুষের ঢল নামে। স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে এখানে নৌকা বাইচ ও সারিগানের উৎসব আয়োজন করা হলে এলাকাটি অস্থায়ী বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নেয়। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থাকা মানুষজনের জন্য এটি হয়ে ওঠে বিনোদনের অন্যতম গন্তব্য।
স্থানীয় যুবকরা জানান, নতুন বাঁধ নির্মাণের পর থেকেই উপজেলা প্রশাসনের কাছে জায়গাটিকে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানোর দাবি জানানো হয়ে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ লাগানো ও বসার আসন তৈরির আশ্বাস মিললেও তা বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। এতে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল হাকিম সবুজ বলেন, আমরা করোনা কালীন সময়ে এখানে নৌকা বাইচ উৎসবের আয়োজন করেছিলাম। স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি দুর দুরান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে প্রচুর আনন্দ উপভোগ করে। আমরা কয়েকবার চেষ্টা করেছি, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাঁধটিকে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য একটি মিনি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার। বিগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও বাঁধ পরিদর্শন করে গেছেন। তারপরে আর কোনো উদ্যোগ আমরা দেখতে পাইনি, তবে এ কাজটি করতে পারলে উপজেলায় পর্যটন শিল্পের একটি ছোঁয়া লেগে যেতো।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও স্থানীয় তরুণ ছাত্র নেতা মশিউর রহমান দুর্জয় বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম। উনি বাঁধ পরিদর্শন করে আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, পরবর্তীতে এটা নিয়ে আর কথা বলা হয়নি। আমি ভার্সিটি থেকে বাড়িতে গিয়ে আবারও কথা বলে দেখবো।
বিদ্যানন্দ ছাড়াও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহাট ‘টি-বাঁধ’ এলাকাতেও বিভিন্ন উৎসবে মানুষের ভিড় দেখা যায়। তবে কয়েক বছর পূর্বে তিস্তার প্রবল স্রোতে বাঁধের সামনের অংশ ভেঙে গেলেও তা এখনও সংস্কার করা হয়নি।স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটন শিল্পের প্রসারে সরকারিভাবে নানা পরিকল্পনার কথা বলা হলেও রাজারহাট উপজেলায় এ খাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।
এদিকে রাজারহাটে আরও কয়েকটি সম্ভাবনাময় স্থান রয়েছে তারমধ্য-চাকিরপশার বিল ও চান্দামারির বুড়ি তিস্তায় পদ্মবিল ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা জমিদারবাড়ি অন্যতম। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব স্থানে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা গড়ে তুলতে পারলে রাজারহাট উপজেলায় পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।
রাজারহাট উপজেলার এসব স্থানে পর্যটন শিল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল ইমরান বলেন, পর্যটন শিল্প নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় স্থান চিহ্নিত করেছে। তিস্তা নদীর নতুন বাঁধ এলাকাও এর মধ্যে রয়েছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় উদ্যোগের সমন্বয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে এখানকার পর্যটন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | |
| 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 |
| 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 |
| 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 |
| 28 | 29 | 30 | 31 | |||