মনসুর আহাম্মেদ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
রংপুরে মহানগর জেলা ও উপজেলা সুজন সুশাসনের জন্য দুই দিনব্যাপ বিভাগীয় সংলাপ অনুষ্ঠি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেন, এই সরকার কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়; এটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকার, যার প্রধান অগ্রাধিকার নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার। শনিবার দুপুরে রংপুরের আর ডি আর এস বাংলাদেশ সভাকক্ষে
‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার’ শীর্ষক রংপুর বিভাগীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য নির্দিষ্ট আইন ও কাঠামো ছিল এবং তাদের দায়িত্বকাল সীমিত ছিল তিন মাসে। সে সময় তারা নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতো না। কিন্তু বর্তমান সরকার একটি ভিন্ন বাস্তবতায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। ফলে এসব সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালানো সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।
সংবিধান সংশোধন ও গণতান্ত্রিক চর্চার সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়ে সংবিধানে সংশোধনী যুক্ত হলেও দেশ স্বৈরাচারী কাঠামো থেকে পুরোপুরি মুক্ত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিষয়টি নির্ভর করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৯০ সালে তিন জোটের রূপরেখাও বাস্তবায়িত হয়নি। একইভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে হবে। যে লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ প্রাণ দিয়েছে—সেই আকাঙ্ক্ষা যেন ব্যর্থ না হয়।
এ দায়িত্ব সবার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সুজন দায়মুক্তির অভিযাত্রা শুরু করেছে। এসময় রংপুর মহানগর, রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়। উত্তরবঙ্গের আট জেলার ও উপজেলার সুজন সুশাসনের জন্য সভাপতি সম্পাদকসহ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।