admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি, ২০২২ ২:০১ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিকঃ মিয়ানমারে স্বাস্থ্যসেবা খাত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন রাষ্ট্রীয় হাসপাতালের বাইরে গোপনে সেবা দিচ্ছেন, যারা সামরিক জান্তা সরকারের বিরোধী। এসব ডাক্তার ও নার্সরা জান্তার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করছেন। মিয়ানমারে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ শুরু হয়েছিল স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে, যারা রাষ্ট্র পরিচালিত হাসপাতাল বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল। তারাই প্রথম রাস্তায় বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
এটিকে সাদা কোট বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করা হয়। এরপর থেকেই জান্তার সাথে চিকৎকদের সাংঘর্ষিক পথ রচিত হয়েছে। ফলে মিয়ানমারের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বেশিরভাগ অংশ এখন জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন। অনেক এলাকায় ৭০ শতাংশেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী তাদের চাকরি, হাসপাতাল ও রোগী দেখা বাদ দিয়েছে বলে মনে করা হয়। এটি একটি কঠিন নৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। একজন সিনিয়র চিকিৎসক একটি চিঠিতে মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলছেন, চিকিৎসক হিসাবে আমাদের কর্তব্য হল রোগীদের যত্ন নেওয়ার বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া। কিন্তু আমরা কীভাবে একটি বেআইনি, অগণতান্ত্রিক এবং নিপীড়নমূলক সামরিক ব্যবস্থার অধীনে তা করতে পারি? তিনি বলছেন, পঞ্চাশ বছরের পূর্ববর্তী সামরিক শাসন আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছে। চিকিৎসাসেবায় গেড়ে বসেছে বৈষম্য। রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবাকে পাচ্ছে না। আমরা এই অবস্থায় ফিরে যেতে পারব না।
ইয়াঙ্গুন নার্সিং ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষক গ্রেস। তিনি বলছেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা সকলেই সিডিএমে (নাগরিক অবাধ্যতা আন্দোলন) যোগদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি সন্ধ্যা ৮টায় আমরা স্কুলের সামনে হাঁড়ি বাজিয়ে বিপ্লবী গান গাইতাম। আমরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তারা কীভাবে আমাদের নেতাকে গ্রেপ্তার করতে পারে?
গ্রেস ছিলেন হাজার হাজার চিকিৎসা কর্মীদের মধ্যে একজন, যিনি শুধু চাকরি ছাড়েননি, বাসস্থানও হারিয়েছেন। কিন্তু আহতদের সাহায্য করার জন্য প্রতিবাদেও যোগ দিয়েছিলেন। গ্রেস বলছেন, কেউ গুলিবিদ্ধ হলে আমরা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছিলাম। আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল কীভাবে তাদের নিরাপদ এলাকায় নিয়ে যাওয়া যায়। সামান্য আঘাতের জন্য আমরা আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতাম এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা করতাম।
গুলির আঘাতের জন্য মন্দির এবং মঠের কম্পাউন্ডগুলোতে গোপনে ক্লিনিক স্থাপন করেছি। এভাবেই গড়ে উঠেছে একটি ছায়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। পদ্ধতিটি দেশজুড়ে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক দাতব্য ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলো কাজ করছে এই আন্দোলনের সাথে। জান্তার কাছ থেকে এড়াতে এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগ অ্যাপ ব্যবহার করছে তারা।