ডাঃ নূরল হক, বিরামপুর দিনাজপুর প্রতিনিধি। || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২:২৫ অপরাহ্ণ
শস্য ভান্ডার খেত দিনাজপুর জেলা বিরামপুর উপজেলা আমন ধানের ক্ষেত সোনালী রঙে সেজেছে সারা মাঠ । ফসলের মাঠ দেখে কৃষকের মনে আনন্দের দোলা বইছে কিন্তু কারেন্ট প্রকার আক্রমণে কিছু সংখ্যক কৃষকের সে আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হয়েছে।
আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে । এক সপ্তাহ পরে পুরো দমে ধান কাটা মাড়াই শুরু হবে। স্বর্ণা -৫ ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। কয়েকদিন পরে শুরু হবে অন্যান্য জাতের ধান ,এমনটি বলেছেন কৃষকেরা। কৃষক আলতাব, আনোয়ার, মানিক জানান, ফসল ভালো হলেও কারেন্ট পোকার আক্রমণে অনেকের ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়েছে । কীটনাশক প্রয়োগেও কারেন্ট প্রকার দমন করা সম্ভব হয়নি। ৪ নং দিওড় ইউনিয়নের ধানঘরা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের প্রায় ২৫ বিঘা জমির ধান কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে বলে জাহিদুল ইসলাম জানান । তিনি আরো জানান ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভ এবং উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজনও পরিদর্শন করেছেন এবং উন্নত মানের ওষুধ স্প্রে করার পরও পোকা দমন করা সম্ভব হয়নি । এছাড়াও এলাকার অনেক কৃষকের জমির ধান কারেন্ট পোকার আক্রমণে বিনষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।
কীটনাশক ব্যবহারে পোকা দমন না হওয়ায় কৃষকরা আক্ষেপে বলেন বালাই নাশক ওষুধ আসল না নকল তাদের সন্দেহের তীর ছুড়ে বালাইনাশক কোম্পানিগুলোর দিকে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কমল কৃষ্ণ রায় সাথে কথা বললে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিরামপুর কৃষি উপসহকারী রবিউল ইসলাম রবিকে মাঠ পরিদর্শনে পাঠান। পরিদর্শন শেষে কৃষি উপসহকারী রবিউল ইসলাম রবি জানান, এবছর প্রায় এলাকাতেই কারেন্ট প্রকার আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে তবে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি পোকা দমনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তবে জাহিদুল ইসলামের ধান ক্ষেতের কারেন্ট পোকার আক্রমণের থেকে রক্ষার জন্য তিনি ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করেছেন ফলে তার ছয় থেকে সাত বিঘা জমির ধান কারেন্ট পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান এলাকাটি আমার নয় উপসহকারী জান্নাতুল ফেরদৌস সীমা ম্যাডামের। সীমা ম্যাডামের সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং জানান এলাকাটি আমার নয়। একাধিক কৃষকের অভিযোগ মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারীরা কখন আসে যায় আমরা জানি না এবং তাদেরকে চিনিও না।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কুমার কৃষ্ণ জানান কৃষকদের পোকা দমনের জন্য স্প্রে করার নিয়ম না জানার কারণে দুই একজনের জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কারেন্ট পোকা দমন করার জন্য ধানের গোড়ায় স্প্রে না করে তারা ধান গাছে কীটনাশক স্প্রে করেছেন। বিরামপুর উপজেলায় ১৭ হাজার ৪ শত ৪৫ হেক্টর জমিতে স্বর্ণা -৫ এবং সুগন্ধি ব্রী- ৩৪ ধান আবাদ হয়েছে।
কৃষকের সাথে আলাপে জানা যায় বিঘা প্রতি ধান ১৮ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত হতে পারে । তবে এক বিঘা জমিতে রোপন থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে । ধানের বাজারের মূল্যে ধান বিক্রি করে হয়তো তাদের উৎপাদন খরচ উঠবে। লাভ শুধু ধানের খড়, এমনটাই বলছেন কৃষকেরা। গো-খাদ্য হিসেবে খড়ের চাহিদা বেশি । দামও ভালো পাওয়া যায়। তবে কারেন্ট পোকার আক্রমণের খড় গরু মহিষ ভক্ষণ করে না।