নাগরিক ভাবনাঃ আবু মহী উদ্দীনঃ বিমান বন্দরে ই গেট রয়েছে শোভা হয়ে। আমাকে এবং আমার ছোট মেয়েকে মাঝে মাঝে হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এযারপোর্ট ব্যবহার করতে হয়। এয়ার পোর্টে ইমিগ্রেশন আর কাস্টমস মুর্তিমান আতংক। এ নিয়ে খুব কম লেখালেখি হয়েছে সে কথা বলা যাবেনা। কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝেই ঢাক ঢোল পিটিয়ে বাদ্যবাজনা বাজিয়ে , সংবাদ সম্মেলন করে জানান দেয়, যাত্রীদের সুবিধার জন্য কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সর্বশেষ সংযোজন ই গেট।
এই গেট ব্যবহার করলে মাত্র ১৮ সেকেন্ড সময়ের মধ্যেই ইমিগ্রেশন শেষ হবে। স্ক্রিনে নীল বাতিতে লেখা আছে, এই প্রক্রিয়ায় গেলে দ্রæত ইমিগ্রেশন শেষ হবে। কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই বছর দেড়েক আগে বিমান বন্দরে ই পাসপোর্টধারীদের জন্য ২৭ টি ই গেট সেবা চালু করা হয়। শুরুতে কদিন এটা চললেও কয়েকদিন পর হঠাৎ জটিলতা দেখা দেয় এবং গেটগুলো এখন অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। জানা গেছে কেন্দ্রীয় পাসপোর্টের সঙ্গে ই গেটের সার্ভারের সংযোগ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ এখনো ই গেট ব্যবহার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদও পায়নি। ফলে ভবিষ্যতেও ইমিগ্রেশনে ই গেট ব্যবহার করা যাবে কিনা তা নিয়ে শংকা আছে।
গত বছর ৭ জুলাই ঢাকা বিমান বন্দরে ই গেট কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এ বিমান বন্দরে মাসে ৫ লাখ যাত্রী বিদেশে যায়। তার মধ্যে গত বছরের ৭ জুলাই ই গেট উদ্বোধনের পর মাত্র ১লাখ ১৫ হাজার যাত্রী ই গেট ব্যবহার করতে পেরেছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ দাবী করেছে ঠিকভাবে চালু হলে ই পাসপোর্টধারীগণ ১৮ সেকেন্ডে নিজের ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারবেন। ই পাসপোর্টধারী যাত্রী ভেরিফেকেশন শেষে ই গেট অতিক্রম করতে পারেন। প্রথমে পাসপোর্টের ডিজিটাল ছবিযুক্ত পৃষ্ঠা ই গেটের মনিটরে ছোঁয়াতে হয়। ১০/১৫ সেকেন্ডের মধ্যে কাঁচের দরজা খুলে যায়। ই গেট দিয়ে ঢুকে স্ক্যানিং , গেটের সামনে দাঁড়ালে ৫/৬ সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই পাসপোর্টের যাবতীয় তথ্য যাচাই হয়ে যায়। গেট খুলে গেলে ইমিগ্রেশন সম্পুর্ন হয়।
ইমিগ্রেশন পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে ই গেট পার হলেই ইমিগ্রেশন কমপ্লিট হয়না। ই গেট পার হবার পর আগের মতোই ইমিগ্রেশন ডেস্কে ভিসা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে হবে। পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ( ইমিগ্রেশন) জি এম আজিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেছেন , ভিসা পরীক্ষার সক্ষমতাই ই গেটের নাই। ই গেট শুধু পাসপোর্ট ও পাসপোর্টধারী যাত্রী একই ব্যক্তি কিনা তা সনাক্ত করবে।
এবারে মৌলিক প্রশ্ন হলো প্রস্তুতি ও অনুমোদন ছাড়াই ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে যন্ত্রপাতিগুলো সেট করা হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। মেসিন পড়ে আছে। আর কিছুদিন পরে আমরা হয়তো সবই ভুলে যাব। তখন আবার জানা যাবে, নকশায় ভুল ছিল। পড়ে থাকলে যন্ত্রপাতি নষ্ট হবে , চুরিও যে হবেনা সেকথা জোর দিয়ে বলা যাবেনা। কাষ্টমস গোডাউন থেকে ৫১ কেজি সোনা চুরি হচ্ছে আর ই গেটের যন্ত্রপাতি। ও সব তো খোলা জায়গায় পড়ে আছে।
অনেকদিন পর যন্ত্রপাতিগুলো আবার মেরামত করতে হবে, কনসালটেন্ট নিয়োগ করতে হবে। ট্রেনিংয়ের জন্য বিদেশে কর্মকর্তাদের পাঠাতে হবে। , অর্থ বরাদ্দ হবে, ঠিকাদারেরা কমিশন ভোগ করবে। শেষে হয়তো অনুশোচনা করতে হবে। বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল চালু হচ্ছে, যাত্রী চলাচল বেড়ে যাবে। এই অবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে ‘ ই গেট ’গুলো সচল রাখা খুবই জরুরী।