admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১২:০১ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ বাংলাদেশ বিমান রাষ্ট্রীয় পরিবহন। এই পরিবহনে সচরাচর অপেক্ষাকৃত বিত্তশালীরা যাতায়ত করে এবং বিমানের যাত্রীদের আচার আচরন বিশ্লেষন করলেই জাতীয় সভ্যতা ভব্যতা বিচার করা সহজ হবে। কেননা তারাই বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। সুতরাং যারা বিদেশে যান তাদেরকে হিসাব নিকাশ করে চলতে হয়। তার পরেও মাঝে মাঝে কিছু খবর পাওয়া যায় যা জাতির সম্মান নষ্ট করে। কয়েকদিন ধরে ঘটা করে প্রচার করা হলো , ১৩ জানুয়ারি থেকে ১১ দফা কঠোর বিধি নিষেধ মেনে চলাচল করতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম বিমানে ৫০ ভাগ যাত্রী পরিবহন করা হবে।
আগেই টিকিট করা ছিল, বিমানও কিছু বলেনি। দুরু দুরু বুকে বিমান বন্দরে গেলাম। মাস্ক না পরলে জরিমানা হবে ইত্যাদি। ১৩ জানুয়ারি বিআরটিসিতে সৈয়দপুর আসলাম কেননা অন্যান্য বিমানের ঠাকুরগাঁও থেকে সৈয়দপুর প্যাসেঞ্জার সার্ভিস থাকলেও বিমানের নাই। সে কারণে সার্ভিস এর গাড়ীতে সৈয়দপুর যেতে হয়। বিআরটিসিতে কোন সিট ফাঁকা ছিলনা , কোথায় ৫০ ভাগ যাত্রী? মাস্কও নাই ৮০ ভাগের। এ নিয়ে কেউ কোন কথা বললোনা। অথচ বাসের কন্ডাকটার যদি মুখেও বলতো মাস্ক না থাকলে নেওয়া হবেনা এটাও একটা ম্যাসেজ হতে পারত। যেহেতু কেউ কিছু বলেনা সেকারণে মাস্কও কেউ পরেনা। বিমানে আমরা স্বামী স্ত্রী ডান পাশের সীটে বসেছিলাম। আর বামপাশে ২ জন যাত্রী, সারা রাস্তা গল্প করতে করতে ঢাকা আসলো, এরাইভাল গেট দিয়ে বেড়িয়ে গেলো।
বিমানে আসতে তাদেরকে বিমান বন্দরে ঢুকতেই ১) সিকিউরিটি ২) স্ক্যানারে চেকিং এর সময় ৩) ব্যাগেজ বুঝে দিয়ে বোর্ডিং পাশ গ্রহণ এর সময় ৪) বোর্ডিং পাশ নিয়ে লাউঞ্জে ঢোকার সময় ৫) লাউঞ্জ থেকে এয়ারক্রাফ্ট এর সিঁড়িতে ৬) সিঁড়ি বেয়ে বিমানে উঠতেই সীট কোথায় তা বলে দেওয়ার সময় ( একজন সুদর্শন বিমান কর্মী স্বাগত জানান হাসিমুখে এবং কত নং সীট কোথায় কোন দিকে সব বলে দেন) ৭) বিমান বালারা কয়েকবার খোঁজ নেন সিটবেল্ট লাগানোর সময় , আবার র্যাকে ও ঢাকনি লাগানোর সময় ৮) করোনা জনীত কারণে এখন নাস্তা দেওয়ার বদলে পানি দেওয়ার সময় ৯) বিমান থেকে নামার সময় গেটে আবার সুদর্শন বিমানকর্মী কর্তৃক বিদায় জানানের সময় ১০) বাসে উঠার ও নামার সময় ১১) এরাইভাল গেটে নিরাপত্তা কর্মীকে ক্রস করার সময় ১২) কনভেয়ার বেল্ট থেকে ব্যাগেজ সংগ্রহের সময় ১৩) ফাইনালি এক্সিট গেটে নিরাপত্তা কর্মীদের সামনে দিয়ে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় অর্থাৎ বিমানে উঠা থেকে নেমে, গেট পার হওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ জায়গায় মাস্ক না পড়ার জন্য ঠেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আমার ধারণা ১ম দিকে দুএকটি জায়গায় মাস্ক এর কথা বললে ঐ দুজন যাত্রী যে ভাবে হোক মাস্ক যোগাড় করতো, তাতে করোনার বিষয় যাই ই হোক আইন রক্ষা হতো। কিন্তু খুবই খেয়াল করলাম ১৩ জায়গার কোথাও কেউ কোন কথা জিজ্ঞাসা করেনি। এটা হলো অভিজাত ‘আশরাফদের’ পরিবহন। ‘আতরাফদের’ পরিবহনের অবস্থাতো আরো নাজুক। কদিন ধরে ঢাকার রাজপথে বিভিন্ন পরিবহনে বিশেষত: উবার , পাঠাও , গণপরিবহণে, যাতায়ত করেছি। সঙ্গী ছোট মেয়েটার হাতে সব সময় সেনিটাইজার থাকতো। কোন পরিবহনে উঠতে নামতে একটু অবসর হলেই সেনিটাইজার লাগাতো। কখনো বিরক্তও লাগতো। কিন্তু নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে শান্ত থাকতে হয়েছে। তবে গ্যারন্টি দিতে পারি যে কোথাও কখনো কেউ মাস্ক পড়ার বিষয়টি উচ্চারন করেনি। তবে সব পরিবহনেই ১০০ ভাগ সিটে যাত্রী ছিল। যারা অপেক্ষাকৃত কম সাহসী তারা কেউ কেউ মাস্ক পরেও ছিল। তবে কন্ডাকটার যদি উঠার সময় বলতো মা¯ক পড়ার কথা, তাহলেও অনেকটা কাজ হতো।
ছোট মেয়ে ঐশী দিল্লি যাবে। ডলার ইনডোর্স করার জন্য ২ নং টারমিনালের ৬ নং গেট দিয়ে ভিতরে ব্যাংক পর্যন্ত গিয়ে খোজ নিয়ে জানা গেল রেট বেশী বলে ডলার কেনা হলোনা, তবে বিমান বন্দরের মাস্ক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে চাক্ষুস ধারণা লাভ করা গেল। কর্মচারিরা মোটামুটিভাবে মাস্ক পরে আছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা ৩০% মাস্ক ছাড়াই চলাচলের সুযোগ করে নিয়েছে। বিষয়টি কেন ঘটছে তা বুঝতে পারলামনা। তবে তুলনামুলকভাবে ডোমেষ্টিকে ৭০% আর ইন্টারন্যাশনালে ৪০% মাস্ক না পরে চলাফেরার সুযোগ আছে। বিমান, টিকিটিংয়ে বিদেশীদের অনুসরণ করে আর ব্যবহারে স্থানীয় পদ্ধতি । ঠাকুরগাঁও থেকে নভো বা ইউএস বাংলা ৪০০০ টাকা ভাড়ায় নিজশ্ব পরিবহনে যাত্রীদের আনা নেওয়া করে। বিমানের বেজ ফেয়ার ৩৫০০ টাকা কিন্তু ঐ ভাড়ায় টিকিট পাবেননা আবার পরিবহনও নাই। কোন বেকুব যাত্রী আছেন যিনি ঠেকে না পরলে বিমানের টিকিট কাটবেন? প্রশ্ন হলো অন্য এয়ার লাইন্স গাড়ী দিতে পারলে বিমান কেন গাড়ী দিতে পারেনা এটা মিলিয়ন ডলার কোশ্চিন।
বিমানের হটলাইনে ফোন করলে অডিও রেকর্ডে যতগুলো ডোমেষ্টিক ফ্লাইট আছে তাদের তালিকা এবং গন্তব্য শোনানোর পর শুনবেন আপনার কলটি একজন ধরবেন। তিনি এই পরিবহন বিষয়ে অভিজ্ঞ। এর কিছুক্ষন পর বলবে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন অথবা এর একটু পরে রিং করুন। এভাবে ১০/১২ বার রিং করলাম। কিন্তু অডিও থেকে রেকর্ড করা এই কথাই জানানো হলো। প্রতিবার রিং এর বিপরীতে রেকর্ডেড অডিও বাজিয়ে শোনানো হলো। কিন্তু কেউ ফোন ধরেনা। এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট কিনতে হয়। এজেন্সিকে কত কমিশন দেওয়া হয় , টিকিটে অন্য বিষয়ে রচনা লেখা থাকলেও এবিষয়টা থাকেনা। কেন থাকেনা এনিয়ে গবেষণা করে সিদ্ধান্তে আসার জন্য এমবিএ পাশ হতে হবেনা। অনলাইন টিকিট করতে কেন এজেন্সির দ্বারস্থ হতে হবে ? প্রতি বছর মাঝে মাঝে নিউজ হতো এজেন্টরা বিমানের টিকিটের টাকা দেয়না। একজন যাত্রী সরাসরি টিকিট কাটলে সমস্যা কি? বিমানের টাকা পাওয়া নিয়ে কথা। নগদ, বিকাশে টাকা পাঠানো সম্ভব। তাহলে অন্যায় ,হয়রানি , যন্ত্রনা অনেক কিছু থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
এয়ারপোর্টে ব্যাগেজ স্ক্যানিং করার জন্য ব্যাগেজ যখন অপর প্রান্তে তখন এয়ার পোর্টের কর্মিরা এসে খোজ নিতে শুরু করলো নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের কথা বলো। যখন শুনলো বিমানের যাত্রী তখন আর হাত দিলোনা , চলে গেলো। তবে বিমানের কোন কর্মী খোজ নিতে এলোনা। আমার ব্যাগেজের পাশ থেকে অন্যান্য ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ নিয়ে যাচ্ছিল সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের কর্মীরা। বিমানের যাত্রী হয়ে অপমানিতই বোধ করলাম। যাহোক বিভিন্ন ঘাট পেরিয়ে যখন লাউঞ্জে ঢুকবেন , সেখানে ওয়াইফাই আছে তবে আপনি ব্যবহার করতে পারবেননা। কেননা ওটার পাসওয়ার্ড পাবেনা , জানানোর জন্য কাউকে পাবেননা আর নিজেও তার খোঁজ করতে পারবেননা। এখনো ভাবি সরকারি পরিবহণ বিমানের প্রতি এই দেশাত্ববোধ কতদিন চালু রাখা যাবে?
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||