admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২০ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ M. Rahman Liton: পৃথবীর বুকে বাংলাদেশই সম্ভবত একমাত্র রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিনিয়ত শ্রমিক, কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন ভাতাদি মাসের পর মাস বকেয়া রাখা হয়! আবার সেই বকেয়া বেতনের দাবীতে করতে হয় আন্দোলন, মিছিল, মিটিং, মানব বন্ধন! রাষ্ট্রীয় ভারী শিল্প তথা চিনিকল গুলোর কথাই বলছি। খেটে খাওয়া এই মানুষ গুলোর মুখের দিকে তাকানো যায় না! চার মাসের বকেয়া বেতনের দাবীতে সবাই এভাবেই বসেছিল মুল ফটকের সামনে! বকেয়া চার মাসের বেতনাদি পরিশোধের জন্য সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
আমাদের চিনিকল গুলো সরকারী হলেও আমার কেন জানি মনে হয় এই চিনিকল গুলোকে দেখভাল করার জন্য সরকারের যোগ্য লোকের অভাব রয়েছে! একটি দেশ অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বি হতে হলে শিল্পায়নের উপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করতে হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি তার উল্টো! সঠিক পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারনের অভাবে রাষ্ট্রয়াত্ব ১৫টি চিনিকলের মধ্য ১৪টি আজ ধ্বংসের শেষ প্রান্তে! পাকিস্তান আমলে স্হাপিত মিল গুলো বয়সের ভারে ক্ষয়ে ক্ষয়ে আজ মুখ থুবরে পড়েছে। পুরনো যন্ত্রপাতি হারিয়েছে তার উৎপাদন ক্ষমতা।
কোনো মতে জোড়া তালি দিয়ে চলছে এই মিল কারখানা গুলো। প্রতি বছর বাজেট অর্থ বৎসর আসে অর্থ বছর চলে যায় অথচ চিনিকল গুলোকে আধুনিকায়ন করার কোনো পরিকল্পনা করা হয় না! সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যারা থাকেন, তারাও আবার মাথা মোটা! তারা বরাবরই এই শিল্প গুলো সম্পর্কে সরকারের কাছে ভুল ব্যাখ্যা দেন লস প্রকল্প হিসেবে! এগুলো কি আসলেই লস করে? লস করে না। লস করানো হয়! এই শিল্প গুলো থেকেই সরকার কোটি কোটি টাকা ভ্যাট, ট্যাক্স পেয়ে থাকে। সারা বিশ্ব যখন অল্প ব্যয়ে অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করছে, আমরা তখন সত্তর বছর আগের পুরনা যন্ত্রাতি নিয়েই উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছি! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য সত্তর বছর আগের পশ্চিম জার্মানীর বাকাউ উল্ফ নামের কোম্পানী তৈরি করেছিল আমাদের রাষ্ট্রয়াত্ব চিনিকল গুলো। যে কোম্পানীর অস্তিত্বও আজ জার্মানীতেও নেই! আমরা সেই পুরনো কলকব্জায় আজও আকঁড়ে ধরে আছি! আধুনিকায়ন করতে পারলে আমরাও ঘুরে দাড়াতে পারবো।
সে জন্য দরকার সরকারের স্বদিচ্ছার। যে দেশের হাজার হাজার কোটি উন্নয়নের টাকা লোপাট হয়ে যায়, সেদেশে এই চিনিকল গুলোকে আধুনিকায়ন করার জন্য খুব বেশি টাকার প্রয়োজন নেই। চাই সরকারে সঠিক পরিকল্পনা ও উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহার। বহুমুখি উৎপাদনে নিয়ে যেতে পারলে রাষ্ট্রয়াত্ব চিনিকল গুলোও লাভ জনক শিল্পে পরিনত হবে। সরকার, শুধু এক মুখি শিল্প নিয়ে মেতে আছেন আর তা হলো গার্মেন্টস শিল্প। গার্মেন্টস শিল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রনোদোনা দেয়া হয় অথচ সরকারী চিনিকলের জন্য কোনো প্রনোদোনা দেয়া হয় না! সরকারকে বলবো দশ, বিশ হাজার কোটি টাকা চিনিকলের অাধুনিকায়নে লাগবে না। মাত্র দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করলে চিনিকল গুলো সোনার শিল্পে পরিনত হবে।
আমাদের দেশে সারা বৎসর আঠারো লক্ষ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা থাকে। অথচ রাষ্ট্রয়াত্ব চিনিকল গুলো বৎসরে এক লক্ষ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করতে পারে না! তারপরও যে টুকু উৎপাদন করে সেগুলোও গোডাউনে পড়ে থাকে! সেখানে বেসরকারী রিফাইনারি চিনির কদর সারা দেশে ব্যাপক ভাবে লক্ষ্য করা যায়! বেসরকারী চিনিকল মালিকরা বিদেশ থেকে রং সুগার বা দানা এনে উচ্চ মাত্রার ক্ষতিকর ক্যামিকেল মিশিয়ে চিনি গুলোকে করে থাকেন ধবধবে সাদা। যাতে করে ভোক্তারা সহজে আকৃষ্ট হন। পক্ষান্তরে রাষ্ট্রয়াত্ব চিনিকলে উৎপাদিত চিনি গুলো একটু লালচে রংয়ের হয়ে থাকে বা অফ হোয়াইট বলা যায়। লাল চিনি বা অফ হোয়াইট চিনিগুলোতে ক্যামিকেল মেশানো হয় না। যার ফলে প্রকৃত চিনির রংটাই স্বাদদৃশ্যমান হয়। এগুলো স্বাস্থ্যসম্মত চিনি।
খাদ্যের অনেক উপকারী উপাদান এই লাল চিনি বা অফ হোয়াইট চিনিতে বিদ্যমান। অপর দিকে বেসরকারী সাদা চিনিতে বিষাক্ত উচ্চ মাত্রার ক্ষতিকর ক্যামিকেলের উপস্হিতি পরিলক্ষিত হয়। ধব ধবে সাদা চিনিতে উপকারী খাদ্যের উপাদান পাওয়া দুস্কর! চিকন দানার সাদা চিনি ব্যবহারের ফলে হতে পারে মারাত্মক সব অসুখ! তাই দেশীয় চিনিকলের উৎপাদিত লাল চিনি বা অফ হোয়াইট চিনির ব্যবহার বাড়ান। দেশি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখুন।