হোম
সম্পাদকীয়.

বড়াইবাড়ি সংঘর্ষে পরাজয়ের প্রতিশোধের কারণ কী পিলখানা হত্যাযজ্ঞ?

সম্পাদকীয় || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:১১ অপরাহ্ণ

ফাইল ছবি

সম্পাদকীয়, ইঞ্জি.হাসিনুর রাহমানঃ কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের গ্রাম বড়াইবাড়িতে এই সংঘর্ষে পরাজয়ের প্রতিশোধের কারণ কী পিলখানা হত্যাযজ্ঞ ? বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা জরুরী প্রায় দুই যুগের ঘটটে যাওয়া নারকীয় ঘটনার পূণ তদন্ত করা জরুরী হয়েছে। এতে না জানা অনেক গুরুত্বপুর্ণ তর্থ্য বেড়িয়ে আসবে বলে আমি মনে করছি। চলুন ২০০১ সালে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের গ্রাম বড়াইবাড়িতে কী ঘটে ছিলো তা জেনে নেওয়া যাক।

মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ কে?
সাকিল আহমেদ (জন্ম ১৯ ডিসেম্বর ১৯৬৮) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জেনারেল এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিপূর্বে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ২৩ তম মহাপরিচালক ছিলেন। এর আগে তিনি সেনা সদরে অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) এবং ইমিগ্রেশন-পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রৌমারী যুদ্ধ কী ছিল?

বড়াইবাড়ী সীমান্ত যুদ্ধ ২০০১ঃ ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আবার সীমান্ত যুদ্ধ ঘটে। এই যুদ্ধে ১৮ জন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী মারা যায়। কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের গ্রাম বড়াইবাড়িতে এই সংঘর্ষের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এক কঠিন সংকটের মুখে পড়ে।রৌমারী সীমান্তে সংঘাতের পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত জুড়ে চরম উত্তেজনা। ২০০১ সালের ১৯ই এপ্রিল মেঘালয়ের ডাউকি সীমান্তে যেখানে বিএসএফ সৈন্যরা সতর্ক অবস্থায় ছিল। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কুড়িগ্রামের একটি গ্রাম বড়াইবাড়ি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের লাগোয়া এই গ্রামটি অবস্থিত। ২০০১ সালের ১৮ই এপ্রিল এই গ্রামে ঘটে যায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। সে সংঘর্ষে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ’র ১৬ জন সৈন্য নিহত হয় এবং বাংলাদেশের তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (এখন বিজিবি) ২ জন সৈন্য নিহত হয়।

২০০১ সালের এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ রাইফেলস (বর্তমান বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। যা দুই দেশের মধ্যকার দুর্বলভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সীমান্তে সংগঠিত হয়েছিল। ২০০১ সালের ১৫ এবং ১৬ এপ্রিল সিলেট সীমান্তে পদুয়ায় এবং ১৯ এপ্রিল পুনরায় পদুয়া সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের সাথে বিডিআরের সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। এই তিনটি যুদ্ধেই বাংলাদেশের সে সময়ের বিডিআরের জোয়ানরা বিজয় অর্জন করে। ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের অধ্যুষিত এলাকা পাদুয়ায় বিএসএফ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়েছে বলে বাংলাদেশ অভিযোগ করে আসছিলো। সর্বশেষে বিএসএফ সেখানে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন এবং ভারত-বাংলা সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী সেখানে রাস্তা বানানো আইন পরিপন্থি কাজ। বাংলাদেশ বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা রাস্তা বানানোর কাজ চালাতে থাকে। এমতাবস্থায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) পাদুয়া দখল করে নেয়। এই ঘটনার ২ দিন পর পাদুয়া থেকে ৮০০ কি.মি. দূরে বাংলাদেশের সীমান্তে ঢুকে বিডিআরের বারইবাড়ি ঘাঁটিতে ভারি অস্ত্রসহ হামলা চালায় বিএসএফ। কিছুক্ষণ পর বিডিআর পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় ২ দিন ব্যাপী এই যুদ্ধে দুই বাংলাদেশি বিডিআর সদস্য নিহত হন এবং এর বিপরীতে ১৮ জন বিএসএফ সদস্য নিহত হন বলে ঢাকা থেকে জানানো হয়। পরবর্তীতে দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসিত হয় এবং যুদ্ধ সমাপ্তি লাভ করে।

বড়াইবাড়ি গ্রামে সীমান্তের অপর পাশে ভারতের আসাম রাজ্যের সীমান্ত। ১৮ই এপ্রিল ভোর রাতে বড়াইবাড়ি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা তাদের কৃষিজমিতে সেচ কাজ দেখতে যান। এসময় তারা দেখতে পান ধানক্ষেতে বহু সৈন্য অস্ত্র নিয়ে হাঁটছে। এই সৈন্যদের মধ্যে কয়েকজন এসে গ্রামবাসীর কাছে হিন্দি ভাষায় জানতে চান, বিডিআরের ক্যাম্প কোথায়? তখন গ্রামবাসী বুঝতে পারেন এরা ভারতের বিএসএফের সদস্য। বড়াইবাড়ি গ্রাম, এখানেই ঢুকেছিল ভারতের বিএসএফ সৈন্যরা।
বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে বিএসএফ ঢুকে পড়ার খবরটি বেশ দ্রুত বড়াইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্পে পৌঁছে দেন সাইফুল ইসলাম লাল। তিনি নিজেও আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আবার সীমান্ত যুদ্ধ ঘটে। এই যুদ্ধে ১৮ জন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী মারা যায়। কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের গ্রাম বড়াইবাড়িতে এই সংঘর্ষের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এক কঠিন সংকটের মুখে পড়ে। ভোররাত থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে টানা ছয় ঘণ্টা যুদ্ধ চলার পর ভারতীয় বাহিনী পিছু হটে। ওই সময় দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে জরুরী কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু তাতেও সংঘর্ষ থামেনি। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হওয়ার পরই কেবল তারা পিছু হটে। এই যুদ্ধে তিনজন বিজিবি সদস্য মারা যায়। তারা হলেন নায়েক সুবেদার ওয়াহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান ও সিপাহী আব্দুল কাদের।

সাইফুল ইসলাম লাল যখন বিডিআর ক্যাম্পে যান তখন সেই ক্যাম্পে মাত্র আটজন বিডিআর সদস্য ছিল। ক্যাম্পের ভেতরে গিয়ে আমি বিডিআরকে বললাম যে বিএসএফ আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। তখন বিডিআর সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুতি নেয়। কিছুক্ষণ পরে আমি প্রস্রাব করার জন্য বাইরে এসে পুকুরের অপর পাড়ে বিএসফ সদস্যদের দেখি, বলেন সাইফুল ইসলাম লাল। দৌড়ে ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে এই খবর জানাই। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ফায়ার। শত শত গুলি, চারিদিক থেকে গুলি। আমিও তখন অস্ত্র হাতে তুলে নিলাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে ভোর পাঁচটা থেকে তীব্র গোলাগুলির আওয়াজে প্রকম্পিত হয়ে উঠে বড়াইবাড়ি গ্রাম ও তার আশপাশের এলাকা।

প্রচণ্ড গোলাগুলিতে গ্রামবাসী তাদের বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে যেতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন, যিনি ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন এই ঘটনা খুব কাছ থেকে দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন, যিনি ২০১৪ সালে সে এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। যেদিন বিএসএফ বড়াইবাড়ি আক্রমণ করে সেদিন স্থানীয় মানুষজনকে সংগঠিত করার কাজ করেছিলেন রুহুল আমিন। বিএসএফকে প্রতিরোধ করার জন্য বিডিআরের সহায়তায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১২জন সদস্যকে একত্রিত করেন রুহুল আমিন। তিনি বলেন, বিএসএফ যখন বাংলাদেশের ভেতরে ঢোকে তখন অনেক গ্রামবাসী পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে আবার ফিরে আসে। এরপর তারা বিডিআরের সাথে মিলে বিএসএফের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

ভোর পাঁচটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত বড়াইবাড়ি গ্রামে বিভীষিকা মুহূর্ত ছিল। দুপক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড গোলাগুলি হয়, বলেন রুহুল আমিন। বড়াইবাড়ি গ্রামের ধানক্ষেতে পড়েছিল বিএসএফ সৈন্যদের মরদেহ। বড়াইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্পের ভেতরে থাকা সাইফুল ইসলাম লাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, ক্যাম্প থেকে তিনি দেখেছেন আনুমানিক কয়েকশ বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করেছিল। সাইফুল ইসলাম লালের বর্ণনা মতে, বড়াইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্পের আটজন সদস্য প্রচণ্ড মনোবল এবং সাহস নিয়ে প্রথম চারঘন্টা লড়াই চালিয়ে গেছেন।

এরই মধ্যে আশপাশের আরো দুটি বিডিআর ক্যাম্প থেকে আরো ২০জন সদস্য বড়াইবাড়িতে আসেন। তারা গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে বিএসএফকে প্রতিহত করে। সাইফুল ইসলাম লাল মিঞা, বিডিআর’র সাথে তিনিও অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। বড়াইবাড়িতে যখন তীব্র সংঘর্ষ চলছে তখন ঢাকায় তৎকালীন বিডিআর (এখন বিজিবি) সদরদপ্তরের নির্দেশনায় জামালপুর এবং ময়মনসিংহ থেকে আরো বিডিআর সদস্য পাঠানো হয় কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়িতে। ময়মনসিংহ এবং জামালপুর থেকে সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বিডিআর সদস্যরা বড়াইবাড়িতে গিয়ে পৌঁছান।

রুহুল আমিন বলেন, ১৮ই এপ্রিল ভোর পাঁচটা থেকে সকাল এগারোটা পর্যন্ত একটানা গোলাগুলি হয়। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবারো শুরু হয় গোলাগুলি। এভাবে ১৮ই এপ্রিল সারাদিন এবং রাত গড়িয়ে ১৯শে এপ্রিল রাত পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। বড়াইবাড়ি সংঘাতে ১৬জন বিএসএফ সদস্যের মৃতদেহ পাওয়া যায় বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে। বিডিআর-বিএসএফ মধ্যকার সে সংঘর্ষ ‘বড়াইবাড়ি যুদ্ধ’ নামে পরিচিত স্থানীয়দের কাছে। নিহত বিডিআর সদস্যদের স্মরণে সেখানে তৈরি করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের দাবি ছিল, সে ঘটনায় বিএসএফ’র আরো বেশি সৈন্য মারা গেলেও অনেকের মৃতদেহ তারা ভারতে নিয়ে গেছে। বড়াইবাড়ির বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম লাল উল্লেখ করেন, যে ১৬জন সৈন্যের মৃতদেহ নিতে পারেনি সেগুলো বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে ধানক্ষেতে পাওয়া যায়।

কেন রৌমারি আক্রমণ?

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফ আক্রমণ করার একটি পটভূমি রয়েছে। বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল সিলেটের পদুয়াতে। সেখানে বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে ভারতের বিএসএফ একটি ক্যাম্প করে দীর্ঘদিন সে জায়গা দখল করে আছে। সিলেটের পদুয়ায় বিএসএফের সে ক্যাম্প নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোন উত্তেজনা ছিল না। ২০০১ সালের প্রথম দিকে ভারতের বিএসএফ তাদের পাশের আরেকটি ক্যাম্পের সাথে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শুরু করে বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতর দিয়ে।

এই রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশের বিডিআর আপত্তি তুললেও ভারতের বিএসএফ তাতে কর্ণপাত না করে তাদের কাজ অব্যাহত রাখে। এমন অবস্থায় বিডিআরের সে এলাকায় তাদের একটি অস্থায়ী অপারেশনাল ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা পদুয়াতে যাই এবং সেখানে তিনটা ক্যাম্প স্থাপন করি। বিএসএফ সেখানে ছয়টা ফায়ার করে। এরপর তারা প্রায় ৭০ জনের মতো সেখানে সারেন্ডার করে। আমরা পদুয়া দখল করে নিয়েছি। তিনি বলেন, পদুয়ার ঘটনার জের ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের বড়ইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্প দখলের জন্য বিএসএফ বাংলাদেশের ভেতরে ঢোকে।

ভারতের ক্ষোভ ও সংকট সমাধানের চেষ্টাঃ রৌমারী সংঘাতের পর বাংলাদেশ এবং ভারতের কিছু সংবাদপত্রে ছবি প্রকাশিত হয়। একটি ছবিতে দেখা গেছে, গুলিতে নিহত একজন ভারতীয় সৈন্যের হাত-পা বেঁধে একটি বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে গ্রামবাসী কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে। এই ছবি ভারতে সাংঘাতিক ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। ২০০১ সালের ৭ই মে ভারতের ইন্ডিয়া টুডে সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, এটা এমন এক ছবি যেটি বাংলাদেশ-ভারতে সম্পর্ককে ভবিষ্যতেও তাড়িয়ে বেড়াবে। ঘটনার দুদিন পরে বাংলাদেশের ভেতরে নিহত ১৬জন বিএসএফ সৈন্যের মরদেহ ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু শুরুতে ভারত সেগুলো গ্রহণ করতে চায়নি। কারণ, মৃতদেহগুলো অনেকটাই বিকৃত হয়ে পড়েছিল।

বিএসএফ’র এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ২০০১ সালের ২০শে এপ্রিল ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিডিআর যেসব মৃতদেহ এনেছিল প্রায় সবগুলোই এতোটা বিকৃত হয়ে গেছে যে সেগুলো চেনা যাচ্ছে না। কিন্তু পরবর্তীতে এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সে সংকটের সুরাহা করা হয় এবং মৃতদেহগুলো গ্রহণ করে বিএসএফ। ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব কামাল পান্ডেকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটজন সৈন্যকে একেবারে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে একটি বর্বর হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব। এদিকে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশোবন্ত সিং দেশটির পার্লামেন্টে বলেন যে এই ঘটনার জন্য বাংলাদেশের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন যে বাংলাদেশের সৈন্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি করেছে। তবে এই ঘটনায় প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, ২০০১ সালে তিনি পররাষ্ট্রসচিব ছিলেন। এই ঘটনার পর বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব মোয়াজ্জেম আলীকে সংকট সমাধানের জন্য দায়িত্ব দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মি. আলী তখন ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে প্রতিদিনই টেলিফোন সংলাপ করেন। এদিকে বড়াই কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়ি সীমান্তে সেখানকার সাধারণ মানুষজন মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যে ভারতীয় বাহিনী হয়তো বড়াইবাড়ি দখল করে নেবে। বাংলাদেশের দিক থেকে ক্রমাগত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে সীমান্ত শান্ত হয়ে আসে।

রৌমারি সংঘাত ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বঃ রৌমারি সংঘাতের পর অনেকে বিডিআরের ভূমিকাকে ‘সাহসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আবার কেউ কেউ তখন এর ভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। বিডিআর’র তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকে মনে করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে বিপদে ফেলার জন্যই এই ঘটনা হয়েছিল। রৌমারী সংঘাতের সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। রৌমারীর ঘটনার পর মেজর জেনারেল ফজলুর রহমানকে বিডিআরের প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে সেনাবাহিনীতে ফেরত আনা হয়।

এরপর ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয় মেজর জেনারেল ফজলুর রহমানকে। ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান বলেন, সে ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করা হলেও এর কোন ভিত্তি নেই। অনেকে বলেন শেখ হাসিনার সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য আমি এটা করেছিলাম। কেউ কেউ বলেন যে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে গণ্ডগোল সৃষ্টির জন্য আমি এটা করেছিলাম। জেনারেল রহমান বলেন, আপনারাই বিচার করুন। বর্ডারে রক্ষণাবেক্ষণ করবার দায়িত্বেই আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছে। আমি যদি ঐ সময়ে আপোষ করতাম, তাহলে এই সমালোচনা আমাকে শুনতে হতো না। আমার তো কাজই হলো সীমান্ত রক্ষা করা এবং সীমান্তের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া।

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

সর্বশেষ খবর

ঠাকুরগাঁও হরিপুরে জাতীয় পার্টির কর্মী সভা।
রংপুর 14 hours আগে

ঠাকুরগাঁওয়ে জাল দলিল চক্রের সদস্য গ্রেফতার।
রংপুর 15 hours আগে

সুনামগঞ্জ বিশ্বম্ভরপুরে বিশেষ অভিযানে পরিত্যক্ত বন্দুক উদ্ধার।
আইন-বিচার 15 hours আগে

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক বলেছেন পড়া-শোনার পাশাপাশি সুন্দর মন-সুন্দর দেহ গড়তে
খেলাধুলা 18 hours আগে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বার্তা নিয়ে পঞ্চগড়ে
জাতীয় 1 day আগে

পঞ্চগড়ের বোদায় হলুদ ফুলে ছেয়েছে মাঠ, সরিষার বাম্পার ফলনের আশায়
অর্থনীতি 2 days আগে

পঞ্চগড়ে সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে অনগ্রসরদের অধিকতর অন্তর্ভুক্তি শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত।
তথ্য ও প্রযুক্তি 3 days আগে

পঞ্চগড়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন,প্রায় দুই লক্ষ টাকার মালামাল
অপরাধ 3 days আগে

যশোরের বসুন্দিয়ায় ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি আটক।
অপরাধ 3 days আগে

পঞ্চগড়ে গ্রাম পুলিশের সঙ্গে গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভায়।
রংপুর 3 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক দিনাজপুরে অনলাইনে মোবাইলের মাধ্যমে ক্যাসিনো জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার