মিরু হাসান,স্টাফ রিপোর্টার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:২৫ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রবাসীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে কয়েক লাখ টাকা হারিয়েছেন মিজান নামে এক ভুক্তভোগী। বিয়ের প্রলোভনে প্রবাসীদের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র: ধরা ছোঁয়ার বাইরে তাসফিয়া
বগুড়া ফেসবুকে সখ্যতা তৈরি করে বিয়ের প্রলোভন, আর সেই সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, তাসফিয়া (ছদ্মনাম হতে পারে) প্রথমে ফেসবুকে প্রবাসীদের টার্গেট করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। এরপর নিজের ‘অসহায়ত্ব’ প্রকাশ করে এবং নিজেকে টিএমএসএস নার্সিং কলেজের ছাত্রী পরিচয় দিয়ে কথা বলা শুরু করেন। সম্পর্কের এক পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে বড় অংকের টাকা দাবি করেন তিনি।
এই চক্রের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য রয়েছে যারা তাসফিয়ার ‘নিকট আত্মীয়’ সেজে কথা বলে বিশ্বাস অর্জন করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর চক্রটি যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় অথবা ভুয়া পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করে। ৪ লাখ টাকা হারিয়ে দিশেহারা মিজান।
ভুক্তভোগী মিজান জানান, তাসফিয়া নিজেকে নার্সিং শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে বিয়ের কথা বলে কয়েক দফায় প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে মিজান বগুড়া সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।
আইনি জটিলতা ও পুলিশের ভূমিকা অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করতে গেলে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টিকে কেবল ফেক আইডির কাজ হিসেবে গণ্য করে এড়িয়ে যায়। ফলে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় তদন্ত করলে এই চক্রের প্রকৃত পরিচয় এবং ভুক্তভোগীদের দাবি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় তদন্ত করলে এই চক্রের প্রকৃত পরিচয় এবং অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের এসব অনলাইন প্রেমের ফাঁদ ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।