হোম
অর্থনীতি

ফলন ভালো হওয়ায় আমাদের খুশি হওয়ার কথা ছিল,অথচ এখন আহাজারি করতে হচ্ছে

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ১২ মার্চ, ২০২৫ ৫:৩৮ অপরাহ্ণ

ফাইল ছবি

মুক্ত কল ডেক্সঃ ফলন ভালো হওয়ায় আমাদের খুশি হওয়ার কথা ছিল, অথচ তার বদলে এখন আহাজারি করতে হচ্ছে। আলু চাষ করে এমন লসের মুখে পড়ছি,” আক্ষেপ করে বলছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের আলু চাষী আহসানুর রহমান হাবিব। বর্গা ও নিজের জমি মিলিয়ে মি. হাবিব এবছর প্রায় ৯০ বিঘা আলু চাষ করেছেন। এক্ষেত্রে প্রতিকেজি আলু চাষে অন্তত বিশ টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু ফসল তোলার পর এখন তাকে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে গড়ে ১৩ টাকা দরে। বীজ, সার, লেবার কস্টিং মিলায়ে বিঘা প্রতি আমার খরচ পড়েছে লাখের ওপরে। আর এখন আলু বিক্রি করে পাচ্ছি গড়ে ৬৫ হাজার। বিঘায় ৩৫ হাজার টাকা লস,” বলেন হাবিব। বাম্পার ফলন হওয়ার পরও হাবিবের মতো হাজারো মানুষ এবছর আলু চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন।

অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেই বাংলাদেশের বাজারে ৮০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হতে দেখা গেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রীতিমত হিমসিম খাওয়ার একপর্যায়ে ভারত থেকে আলু আমদানির সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে সরকারকে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রতি বছর পর্যাপ্ত উৎপাদন হওয়ার পরও সংরক্ষণের অভাবে দেশের আলুর বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এর জন্য সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়হীনতাই প্রধানত দায়ী, বলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি কেমন?
বাংলাদেশে শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর একটি হচ্ছে মুন্সিগঞ্জ। অন্যান্য বছরের মতো এবারও সেখানকার বহু কৃষক আলু চাষ করেছেন, যাদের একজন শফিকুল রহমান। গত বছরের তুলনায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম না ওঠায় আমরা একেবারে ধরা খেয়ে গেছি, রহমান। একই কথা জানিয়েছেন মেহেরপুরের আলু চাষী সাদ্দাম হোসেন। কেজি প্রতি বিশ টাকা খরচ করে আলু ফলায়ে এখন আট টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাহলে আমরা বাঁচবো কী করে? বলেন হোসেন।

বস্তুত গতবছর আলু চাষে ভালো লাভ পেয়েছিলেন কৃষকরা। ফলে অনেকেই এবার চালু চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। ফলনও হয়েছে ভালো। অন্যান্য বছর যেখানে প্রতি বিঘায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার কেজি আলু হয়, এবার সেখানে ফলন পেয়েছি প্রায় ৯০০ কেজি বেশি, বলছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের চাষী হাবিব। কিন্তু বাম্পার ফলন হলেও সেই পরিমাণ আলু সংরক্ষণের জন্য যত সংখ্যক হিমাগার প্রয়োজন, সেটা কোনো জেলাতেই নেই।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলাটিতে চলতি বছর আলুর উৎপাদন সাড়ে ১০ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর বিপরীতে সেখানকার ৫৮টি হিমাগারে সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন আলু রাখা যাবে। এ অবস্থায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কিছুটা লোকসান মেনে নিয়েই আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষীরা। আমরা কী করবো? অন্যকোনো উপায় তো নেই। বিক্রি না করে ঘরে আলু রাখলে সব পঁচে নষ্ট হয়ে যাবে, বলছিলেন জেলাটির আরেক জন আলু চাষী মোহাম্মদ মাঈনুদ্দীন। এদিকে, হঠাৎ চাপ বেড়ে যাওয়ায় আলু রাখার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছেন হিমাগার মালিকেরা। এতে উৎপাদকদের মধ্যে যারা আলু সংরক্ষণ করতে চাচ্ছেন, তারা আরও বেকায়দায় পড়েছেন। আগে যেখানে প্রতিকেজি আলু রাখতে চার থেকে পাঁচ টাকা খরচ হতো, সেটা এখন আট টাকা করে চাচ্ছে। এর কোনো যৌক্তিকতা নেই, বলছিলেন বগুড়ার আলু চাষী মোহাম্মদ মোতালেব। এখানেই শেষ না। চাপ বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন অগ্রিম টাকাও চাচ্ছে। তাহলে আমরা কোথায় যাবো? বলেন মোতালেব।

হিমাগার মালিকরা কী বলছেন?
আলু সংরক্ষণের খরচ বৃদ্ধির জন্য হিমাগার মালিকদের দুষছেন চাষীরা। তবে মালিকরা অবশ্য দাবি করছেন যে, তারা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াননি। আমরা যে দাম চাচ্ছি সেটা মোটেও অযৌক্তিক নয়, বলছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের একটি হিমাগারের কর্ণধার সালাম হাওলাদার। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মি. হাওলাদার বলেন, “এখন যে টাকাটা চাওয়া হচ্ছে, সেটাই আমাদের সত্যিকারের খরচ। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কথা ভেবে এতদিন আমরা নিজেরা লস দিয়ে কম টাকা নিয়েছি। হিমাগার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও সম্প্রতি একই দাবি করা হয়।

হিমাগারের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের খরচ দিতেই তো সাত টাকা চলে যায়, সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে বলেন সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। এ পরিস্থিতিতে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান হিমাগার মালিকরা। প্রতিবছর আমরা লস দিবো, সেটা তো হয় না। যাদের কথা ভেবে আমরা এতদিন লস দিয়েছি, তারাই তো কয়েক মাস আগে ৮০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করে মোটা টাকা আয় করেছে। তাহলে কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া দিতে অসুবিধিা কোথায়?, বলছিলেন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মো. আবু আব্দুল্লাহ। তবে কৃষকদের দাবির মুখে সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি হিমাগারের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, এখন থেকে হিমাগারে আলু রাখতে গেছে প্রতি কেজিতে চাষীদের ছয় টাকা ৭৫ পয়সা করে গুনতে হবে।

যা বলছেন অর্থনীতিবিদরাঃ ভালো ফলন হওয়ার পরও আলুর সংরক্ষণ ও মূল্য নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটার জন্য সরকারকেই দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। শুধু আলু না, অন্যান্য অনেক ফসলের ক্ষেত্রেও আমরা এই অবস্থা দেখি। কাজেই এটা সরকারের অজানা থাকার কথা না। তারপরও প্রতিবছরই একই ঘটনা ঘটছে, যা খুবই দুঃখজনক, বলছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। কৃষিতে সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবেই এ ধরনের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। দেশে বছরে আলুর চাহিদা কতটুকু এবং সেটার বিপরীতে কী পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হচ্ছে? সেই তথ্য কী সরকারের কাছে নেই? এটা বিবেচনায় নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই তো এরকম সংকটে পড়তে হয় না,” বলেন মিজ খাতুন।

বাজার স্থিতিশীল রাখাসহ সার্বিক অর্থনীতির স্বার্থে কৃষকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তা না হলে কৃষক পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ হারাবে, যার ফলে পণ্য সংকটে বাজার অস্থির হবে। সেটার নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেন খাতুন। এই সমস্যা সমাধানে সরকারি উদ্যোগেই ফসল ক্রয় ও সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সিপিডি নির্বাহী পরিচালক। সরকারি উদ্যোগেই এটা করতে হবে। তাহলে কৃষক যেমন ন্যায্য দাম পাবে, তেমনি বাজারে পণ্যেরও সংকট থাকবে না, বলেন খাতুন। এছাড়া উদ্বৃত্ত পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারকে রপ্তানির পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

১৪ বছর পর সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তদন্তের রেডার ও সিডিআরে
আইন-বিচার 8 hours আগে

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে যুক্তরাষ্ট্রের ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা।
আন্তর্জাতিক 17 hours আগে

চাঁদার দাবীতে ব্যবসায়ী হৃদয় হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও
আইন-বিচার 17 hours আগে

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পীরগঞ্জের ডুবন্ত লিপনের পরিবারকে ২৫ হাজার
রংপুর 22 hours আগে

বগুড়ায় দিনে দুপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাসায় ভয়াবহ ডাকাতি, লুটপাট-ভাঙচুরে আহত
অপরাধ 2 days আগে

পঞ্চগড়ে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন।
খেলাধুলা 2 days আগে

ফ্যাসিস্টদের লুটপাট ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে  স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে:
খুলনা 2 days আগে

নাগরিক ভাবনা: বিচারের দ্বারে ঘুষই যদি হয় প্রবেশের চাবিকাঠি-তহলে বিচারপ্রার্থীরা
নাগরিক ভাবনা 2 days আগে

এক অভিযানে শীর্ষ মাদক কারবারি মিশাল মন্ডল আটক।
অপরাধ 2 days আগে

পর্যাপ্ত সারের মজুত আছে, কৃত্রিম সংকট করলেই ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী।
অর্থনীতি 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক