admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ সচিবদের বিদেশ সফর অনুমোদন করেন মন্ত্রীরা। মন্ত্রীরা যোগ্য না হলে আমলারা মতাবান হয়ে ওঠেন, যে অবস্থাটা ঘটেছিল মুসলিম লীগের নূরুল আমীনের শাসনামলে। একুশে ফেব্রুয়ারিতে গুলি বর্ষণের হুকুম মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীন দেননি। তাঁকে না জানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর অবাঙালি চিফ সেক্রেটারি আজিজ আহমদ। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনার দায় বহন করতে হয়েছে নূরুল আমীনকে।বাংলাদেশেও বর্তমানে আমলাতন্ত্রের বাড়াবাড়ি অসাভাবিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সতর্ক হোন।
বিষয়গুলি ভেবে দেখার মতোঃ রান্নাঘরের হাঁড়ি-পাতিল কিনতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুল যাচ্ছেন সোনারগাঁও হোটেলের এমডি। সঙ্গে নিচ্ছেন আরও তিন কর্মকর্তাকে। সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য দলে ভিড়িয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিবকে। যন্ত্রপাতির গুণগত মান, নির্মাণ শৈলী এবং প্রাক-জাহাজীকরণ পরিদর্শনের জন্য তারা দুবাই এবং তুরস্ক সফর করবেন।
জানা গেছে রান্নাঘরের আধুনিক মানের চুলা, হাঁড়ি-পাতিল, খুন্তি বা অন্যান্য যেসব জিনিসপত্র দেখার জন্য প্রতিনিধিদল দুই দেশ যাচ্ছে তারা ওই দেশে যাওয়ার আগেই কার্যাদেশের ৭০ ভাগ মালামাল জাহাজে তুলে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই তা হোটেল কর্তৃপক্ষের বুঝে নেওয়ার কথা।হিলের বা সোনারগাঁও হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আমিনুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা যাব কিচেনের যন্ত্রপাতির গুণগত মান পরীক্ষার জন্য। এ কাজে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।’তারা যেসব জিনিস দেখতে যাবেন তা ইতিমধ্যেই দেশে এসে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি কি সত্য এই প্রশ্নে বিব্রত বোধ করেন হিলের এমডি। প্রসঙ্গটি নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানালেও তিনি পরে আর কথা বলেননি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেনের দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উল্লেখ করে বার্তা দিয়ে ফোন করার পরও সচিব সাড়া দেননি। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এ ভ্রমণে সরকারের কোনো আর্থিক সম্পৃক্ততা নেই। কিন্তু বাস্তবেও কি তাই? আসলে তা নয়। এ চার কর্মকর্তাকে দুই দেশ ভ্রমণ করিয়ে আনতে ঠিকাদারদের কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা খরচ হবে। ঠিকাদার প্রাক-জাহাজীকরণ পরিদর্শনের সুযোগ রাখে কর্মকর্তাদের এ ভ্রমণে নিয়ে খুশি করার জন্য।
এতে ঠিকাদারের ব্যবসা ঠিক থাকে, কর্মকর্তারাও খুশি থাকেন। পরবর্তী কাজ পেতে কোনো সমস্যা হয় না। হোটেলের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, গত দুই বছর হোটেলের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ইনক্রিমেন্ট হয়নি। মহামারীর দোহাই দিয়ে কারও একটি টাকা বেতন বাড়েনি। সরকারের অন্য কোনো সংস্থার বেলায় কি এ ঘটনা ঘটেছে? গত দুই বছর ধরে হোটেলটি লোকসান দিলেও এর আগের ৩৮ বছর লাভ করেছে। গত ১০ বছর ধরে হোটেলটিতে কোনো নতুন কর্মী নিয়োগ হয় না। সবাই রয়েছেন যার যার তালে।সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কেনাকাটার অজুহাতে বিদেশ ভ্রমণ অনেক বেড়েছে। প্রায় প্রতিটি প্রকল্পে বা কেনাকাটায় কর্মকর্তারা কৌশলে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ রেখে দেন। (বিস্তারিত জানতে দেশ রুপান্তর ১৫/২/২২ দেখুন)
৩০ কর্মকর্তা বিদেশ ভ্রমন করবেন গুদাম পরিদর্শনেঃ দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পে বিদেশ যেতে চান খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ খাদ্য অধিদপ্তরের ৩০ জন কর্মকর্তা। ‘বৈদেশিক প্রশি¶ণের নামে’ এ খাতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ইতঃপূর্বে ‘পুকুর ও খাল উন্নয়ন’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ ছাড়াও ঘাসচাষ ও ঘাসকাটা শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ যাওয়ার ছক সাজানোর কথা গণমাধ্যমে এসেছে। খিচুরী রানা দেখতে বিদেশ ভ্রমনের কথাও আমরা জানি। কোভিড-১৯-এর প্রভাবে রাজস্ব আদায়ের গতি শ্লথ হওয়ায় অসাভাবিক ভাবেই অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটা উচিত সরকারের। অথচ দেখা যাচ্ছে, এক শ্রেণির সুবিধাভোগী কর্মকর্তা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে ‘ধান্ধা’ হাসিলের তালে রয়েছেন, যা কঠোরভাবে রোধ করা প্রয়োজন। বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে কোনো প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ বরাদ্দ মোটেই কাক্সিখত নয়। এ কেবল আলোচ্য প্রকল্প নয়, অন্যান্য প্রকল্পেও অপচয় বন্ধসহ যথাসময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। (যুগান্তর ১৪/২/২২)
বাঁধ মেরামত দেখতে সচিব ইউরোপ-আমেরিকায়ঃ কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে নাফ নদের বাঁধ মেরামত ও পুর্নমান কাজের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কবির বিন আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি দল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে গেছে। সচিবের নেতৃত্বাধীন দলটির বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়, অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বাঁধ সংস্কারের কাজ দেখবেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কবির বিন আনোয়ার, কবির বিন আনোয়ারের একান্ত সচিব (পিএস) স ম আজাহারুর ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজার জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সিলেট) প্রবীর কুমার গোস্বামী। এ ছাড়া সরকারি এ সফরে সচিবের স্ত্রী তৌফিকা আহমেদ ও ছেলে সামাদ বিন কবিরও থাকবেন।
৯ দিনের এ ভ্রমণে সচিবের সঙ্গে থাকা কক্সবাজারের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীও মাস দেড়েক আগে পদোন্নতি নিয়ে সিলেটে বদলি হয়েছেন। এ ছাড়া বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা সচিবের পিএস স ম আজহারুল ইসলামও এ প্রকল্পের কাজে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। এ ধরনের একটি ব্যয়বহুল ভ্রমণ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে সংশ্লিষ্টরা কী কাজ করবেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচিবের দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব) ‘সচিব মহোদয় কোন প্রকল্পে বিদেশ গেছেন আমি কিছু বলতে পারছি না। আমি এই মন্ত্রণালয়ে নতুন এসেছি।’ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী তানজির সাইফ বলেন, ‘বাঁধ মেরামত বা সংস্কার নামের এ প্রকল্পের মোট বরাদ্দ অনেক টাকা। সেখানে বেশ কিছু কম্পোনেন্ট আছে। এই প্রকল্প থেকে কে বা কারা বিদেশ গেছেন আমি ঠিক বলতে পারছি না।’ (দেশ রুপান্তর ১৪/২/২২)
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||