গাইবান্ধা প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে,টানা বৃষ্টি ঝড়ো হাওয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে, বিশেষ করে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় দুর্যোগের কারণে অনেক জমির ভুট্টার গাছগুলো ভেঙ্গে মাটির সঙ্গে শুয়ে পড়েছে এতে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।
এদিকে পলাশবাড়ী একজন কৃষক জানান তার নিজস্ব ৫০ শতক জমির ভুট্টা ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে মাটির সঙ্গে শুয়ে পড়েছে তিনি বলেন অনেক আশা করে ভুট্টার চাষ করেছিলাম কিন্তু হঠাৎ ঝড় বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল এখন পর্যন্ত কৃষি বিভাগের কেউ এসে খোঁজ নেয়নি বা কোন পরামর্শ দেয়নি,আমাদের গ্রামের ভুট্টা চাষি আলম,রানা,রফিকুলসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরো জানান কিশোগাড়ী ইউনিয়নের ফলিয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা: শাপলা আক্তারের সঙ্গে গত ১৬ মার্চ সোমবারে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান দুর্যোগে ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে,আমি কি করব আমি মহিলা মানুষ আমি গিয়ে কি করবো।
এই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গত ৬ মাস হল ফলিয়া ব্লকে যোগদান করেছেন,ছয় মাসে দিঘলকান্দী গ্রামে একদিনও কৃষকদের পরামর্শ বা খোঁজ নিতে আসেনি,এই গ্রামের কৃষকরা তাকে চেনেন না, ছয় মাস আগে যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন বিভিন্ন অনিয়মের কারণে অফিস থেকে তাকে সাঘাটায় বদলি করানো হয়েছে,বর্তমানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাপলা আক্তার, তারও একই অবস্থা তিনিও দিন দিন অনিয়ম করে চলছেন।
কৃষকদের অভিযোগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করার কথা থাকলেও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করা যাচ্ছে না,ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলার একাধিক কৃষক জানান দুর্যোগের পরপরই কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মাঠে এসে ক্ষয়ক্ষতির নিরূপূর্ণ করণীয় বিষয় পরামর্শ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।
এবিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কৃষকদের দাবি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে, পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে হলে সরকারি সহায়তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের আন্তরিক উদ্যোগ এখন অন্তত জরুরী বলে মনে করেছেন স্থানীয়রা।