যাহোক,কাল নির্বাচন। এই নির্বাচনে অনেক সমীকরণ কাজ করতে পারে। তা হলো কার কি ক্ষমতা,দক্ষতা , পারদর্শীতা,প্রভাব প্রতিপত্তি, কে ট্যুরে গেলে সার্কিট হাউস পাবে, কে পাবেনা, কে ট্যুরে আসলে ডিসি সাহেবরা দাঁড়িয়ে থাকবে, কে আসলে ইউএনও সাহেবরাও আসবেনা এই সব স্থুল বিষয় ভোটারদের বলা হবে। কে দ্বায়িত্ব নিলে বাংলাদেশ স্কাউটস আর্থিকভাবে লাভবান হবে, সংগঠনের মর্যাদা বাড়বে, এটা ভাববেন কাউন্সিলাররা। যদিও ইতোমধ্যে আর্থিক অভিযোগের কথা শুনেছি, অকাট্য দলিল না থাকলে এ বিষয়ে কিছু না বলাই ভালো।
নির্বাচনের অনেকগুলো খারাপ দিক আছে। প্রথমত: বাংলাদেশে স্কাউটস এর পেশাদার কর্মকর্তারা বিভিন্ন জনের সমর্থক বনে যান। বিভিন্ন কারণে তারা নিরপেক্ষ থাকতে পারেননা। যেমন, এর মধ্যে কেউ মতলব বাজ ,কেউ মনে করেন তিনি চাকুরীতে যোগ্য মর্যাদা পাননি , কেউ মনে করেন, পরবর্তীতে সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে হবে,এসব বিষয় বিবেচনায় তারা পক্ষ নেয়। এ বিষয়টা সর্বাত্মকভাবে সংগঠনের ক্ষতির কারণ। আবার কেউ নিরপেক্ষ থাকার কারণেও ক্ষতিগ্রস্থ হন। সে জন্য পেশাদার কর্মকর্তাদের ভোটাধিকার না থাকাই ভালো, এতে পেশাদাররা অনেক অসুবিধা থেকে নিজেদের সুরক্ষা দিতে পারবে।
দ্বিতীয়ত: সাপোর্টাররা মিথ্যা , অতিরঞ্জিত তথ্য সরবরাহ করেন। সমর্থন করতে গিয়ে দলকানা হয়ে যায়। তারা ভোটারদের কাছে এই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন তা হলো, তার সমর্থনের প্রার্থীর মত সৎ নির্লোভ, কর্মতৎপর ব্যক্তি ইতোপুর্বে স্কাউটিং খুঁজেই পায়নি। আর তিনি যাদের বিপক্ষ দল, তাদের মতো খারাপ লোক স্কাউটিংয়ে কিভাবে এসেছে এটাই তাকে বিস্মিত করে। এরা স্কাউটের বারোটা বাজিয়েছে। এদের হাত থেকে এই সংগঠনকে বাঁচানো খুব জরুরী।তারা এমন সব গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করেন, কর্মকর্তাদের ব্যক্তিচরিত্রও আক্রমন করেন। বিষয়টা যতই অনাকাংখিত হোকনা কেন তা বাধ্য হয়ে শুনতে হয়। তৃতীয়ত: এই সব যোগ্য (?) লোকেরাই সংগঠন পরিচালনা করছেন দীর্ঘদিন। আর এই সংগঠনে যে কেউ কিয়ামত পর্যন্ত দ্বায়িত্বে থাকতে পারবেন। সেই ব্যবস্থা গঠণতন্ত্রে করা আছে, এবং সে সবের জন্য নির্বাচন করতে হবেনা। একজন সদস্য নিরচ্ছিন্নভাবে ১৮০ বছর আবার ১৮০ বছর এভাবে অনন্ত কাল ধরে ১৮০ বছর করে দ্বায়িত্ব পালন করতে পারেন। অনেক গোপন খবর তা সত্য হোক বা মিথ্যা হোক নির্বাচনের কারণে আমরা জেনেছি। এটা আমরা জানতে চাইনি। পক্ষে টানতে জানতে বাধ্য করা হয়েছে।
যারা প্রতিদন্দিতা করছেন তারা সবাই ডাক সাইটে। তাঁরা দক্ষতা, যোগ্যতা, ক্ষমতা, পদ পদবী কিছুতেই- কম না। এরা সবাই সংগঠনে থাকলে আমরা কি-যে উপকৃত হতাম। নির্বাচন হলে তা তো হবেনা। এক দলকে ব্যালটের মাধ্যমে বাদ দিতে হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুরুত্বপুর্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। এটা কাম্য না হলেও ঘটবে। আমরা যারা লেখালেখি করি, লেখা পড়লে পাঠক পক্ষ খুজে বের করতেই পারেন। এই সব লেখায় কাউন্সিলারদের কিছু যায় আসেনা। কেননা তারা যথেষ্ঠ মেধাবী। সংগঠন পরিচালনার জন্য নেতা নির্বাচন করতে হবে তাদেরকেই। তারা যা করবেন সেটাই সঠিক। ডাকসাইটে কর্মকর্তারা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে সেবা দিতে চান। তারাতো বেতন দাবী করবেননা। বিনা বেতনে স্বেচ্ছাসেবা দেওয়ার লোক এই জামানায় পাওয়া খুবই দু:সাধ্য। যারা সেবা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাদের মধ্যে বেটার নের্তৃত্ব নির্বাচন করা দ্বায়িত্ব কাউন্সিলারগণের, সকল বিবেচনা তাদের জন্য।
নির্বাচনের অনেকগুলো নেতিবাচক বিষয় উল্লেখ করলাম। এ সবই আমার নিজশ^ মতামত। তার পরেও নির্বাচন গণতান্ত্রিক চর্চার বিষয়। কতই না ভালো হতো নির্বাহী কমিটির সকল পদে যদি নির্বাচন হতো, তাহলো আরো যোগ্যতর এবং স্বেচ্ছাসেবী নেতা পাওয়া যেতো। যারা সংগঠনকে আরো সমৃদ্ধ করতো। হয়তো ভবিষ্যতে তাই হবে। যারা নির্বাচিত হবেন, ভবিষ্যতে তাদের উপরই নির্ভর করবে বিষয়গুলো। একই সঙ্গে সংগঠনের অরাজনৈতিক চরিত্রটাও সংরক্ষণ করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।