admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২২ ৫:০২ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা: অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ ৬২ বছরের মধ্যে এবারে বেশী সংখ্যক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগি আইসিডিডিআরবিতে এসেছে। হাসপাতালগুলো হিমসিম খাচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার পানি যে ভাল নয় , কদিন আগে ওয়াসার মিটিংয়ে এমডি তাকসিম এ খান স্বীকার করেছেন। তিনি একজন নিপাট ভদ্রলোক মানুষ। সহজ সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ঢাকা ওয়াসার পানি যে পানের অনুপযুক্ত তা কেবল তিনি জানতেননা। ১২ বছর পরে এতোদিনে জেনেছেন।
ডায়রিয়া পানি বাহিত রোগ। ঢাকার যে সব মানুষের ডায়রিয়া হচ্ছে , তারাতো সিঙ্গাপুর বা শ্রীলংকা থেকে পানি এনে খায়না।এমডি সাহেব জানিয়েছেন তারা পানি পরীক্ষা করেছেন। এতে ডায়রিয়া বা কলেরার জীবানু পাওয়া যায়নি।তাহলে সরকারের মতে এই জীবানু জামাত বিএনপি আনলো কিনা তা তদন্ত করে দেখার অবকাশ আছে। অথবা এমডি সাহেবের মতে তার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য কেউ করে থাকতে পারে।
রাতে আরটিভিতে একটা টকশোশেতে ওয়াসার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান যে এতো শক্তিধর নখ দন্তহীন ব্যাঘ্র , তিনি টকশোতে না আসলে জানাই যেতোনা। ওয়াসার চেয়ারম্যান বললেন ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার বর্তমান এমডি নিয়োগের জন্য মাননীয় প্রধামন্ত্রীর সাথে ৪৫ মিনিট তর্কযেুদ্ধ বিজয়ী হয়ে তাকে নিয়োগ করা গেছে। চেয়ারম্যান সাহেব তখন দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। মাঝখানে তিনি ছিলেননা আবার চেয়ারম্যান হয়েছেন। কিন্তু এমডি সাহেব আছেনই। তবে ওয়াসা চেয়ারম্যানের সরল সরল স্বীকারোক্তিতে অফিস ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানালেন , তাঁর অফিসে তিনি প্রধান , তার একজন কম্পিউটার অপারেটর আর একজন পিওন এই তিন জন মিলে ওয়াসা চেয়ারম্যানের অফিস। চেয়ারম্যান সাহেবতো রেগুলার অফিস করবেননা। তিনিতো বেতন নেননা। চেয়ারম্যান সাহেব আরো যে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দিলেন , তা হলো ওয়সা বোর্ডে যারা আছেন , তারা বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের। তারা মাঝে মাঝে মিটিংয়ে আসেন। কখনো প্রতিনিধি আসেন। ওয়াসা কর্তারা যে সব কাগজপত্র তৈরি করে মিটিংয়ে উপস্থাপন করেন , তাতে হাঁ না বলে চা পানি খেয়ে চলে যান। ওয়াসার পানির বিষয়ে তাদের কোন দায় দ্বায়িত্ব নাই।
সেই টকশোতে ওয়াসার এমডি সাহেব ভাগ্যে পরে যোগ দিয়েছিলেন। সব আলোচকদের কথা তিনি শোনেননি। কম ধৈর্যশীল কোন মানুষ এসব আলোচনা শুনলে পদত্যাগই একমাত্র করণীয় হতো। তবে ওয়াসার এমডি খুবই ধৈর্যশীল। তিনি এরকম হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে অকুল পাথারে ডুবে দিবেন এরকম অবিবেচক তিনি নন। তবে তিনি তার কর্মকালীন ১২ বছরের যে সব সাফেল্যে এবং দক্ষতা অভিজ্ঞতার বর্ননা দিয়েছেন তাতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের উচিৎ ওয়াসা ভবনে তার একটি আবক্ষ মুর্তি স্থাপন। কেননা এমনতো হতে পারে এর পর একটানা এতোবছর এবং কৃতিত্বের অধিকারী কোন এমডি পাওয়া সে গ্যরান্টিতো পাওয়া না ও যেতে পারে।
আমি একটি অভিজাত এলাকায় আছি। সে এলাকাতেও কদিন ধরে ওয়াসার লাইনে পানি আসছেনা, বস্তির কথা বাদই দিলাম। গুনী অভিনেতা আবুল হায়াতের বিজ্ঞাপন চিত্রের একটি ডায়ালগ খুবই প্রণিধান যোগ্য। ‘জিনিষ যেটা ভাল , দাম তার একটু বেশি’। আমাদের মাথাপ্রতি আয় বেড়েছে , অনুন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। সেই সময় রাজধানীর পানি সরবরাহের দ্বায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ওয়াসার এমডির বেতন মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি। এটা মানানসই নয়। তার বেতন বাড়ানো প্রয়োজন এ কথা তিনি নিজে কেন বলবেন ? আমাদের গরজেই তা বাড়ানো দরকার। ভাল পানি পেতে ভাল বেতন দিতে হবে। তার সমমানের প্রকৌশলী বাংলাদেশ
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||