admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
নিউজ ডেক্সঃ ঠাকুরগাঁওয়ে হুমকিতে কৃষিজমি কেটে নিয়ে যাচ্ছে উপরি ভাগের মাটি অবৈধ ইটভাটাগুলো। মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। প্রতিদিন শত শত গাড়ি মাটি চলে যাচ্ছে অবৈধ ইটভাটায়। এতে হুমকিতে পড়েছে নদীর পাড়, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষি জমি। আইন অমান্য করে এলাকায় এভাবেই মাটি কাটা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি নদীর কুল থেকে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি খাস জমির মাটি কেটে তা ইটভাটায় বিক্রি করছেন। স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে মাটি কেটে ট্রাক্টার, ভটভটি গাড়িতে তুলে বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে হুমকিতে পড়েছে নদীর পাড় ও কৃষি জমি। ভেঙে যাচ্ছে গ্রামীণ সড়ক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর কুল ও সড়ক ঘেঁষে কলা, বেগুন, শাক-সবজিসহ হরেক রকম ফসলের চাষাবাদ হয়েছে। অপরদিকে গ্রামীণ কাঁচা সড়কটি কেটে গাড়ি ওঠা-নামার পথ করা হচ্ছে। দূর থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে । সেখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও কয়েকটি ট্রাক্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে, শ্রমিকরা মাটি কাটার বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। কে বা কার মাটি কাটছেন তাও বলেননি তারা। মাটি কাটার জন্য পথ তৈরি করছেন স্থানীয় কৃষক বলেন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। এখানে ভালো ফসল হয় না। সেজন্য প্রতি গাড়ি মাটি ২৮০ টাকা দরে ইটভাটায় বিক্রি করছি। গ্রামের কৃষক বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটায় অন্যান্য কৃষি জমি হুমকির মুখে পড়ছে। রাস্তা-ঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কিছু বললেই আসে নানান বাধা-হুমকি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, ভালো রাস্তা কেটে গাড়ি তোলার পথ করছে।
এতে মানুষ ও অন্যান্য গাড়ি চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। এবং অদক্ষ চালকরা এলো পাথারি ট্রাক্টরগুলো চালানোর কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। নাম প্রকাশে আরেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ইটভাটার মৌসুম শুরু হলেই নদী থেকে আইন-কানুন তোয়াক্কা না করে মাটি-বালু কাটা হয়। শত শত অবৈধ গাড়ি চলে সড়কে। এতে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। তবে মাটি কাটার অভিযোগ অভিযুক্ত প্রভাবশালী ইট ভাটার মালিকরা অস্বীকার করেন। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেখে পুকুর খনন বা মাটি কাটায় আইনে নিষেধ রয়েছে বলে জানাযায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, ঠাকুরগাঁও জেলায় ১২৮ টির মতো ইটভাটা রয়েছে, যার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নাই। সবগুলো যে ইট ভাটা অবৈধ এসব অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করা হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মিজ ইসরাত ফারজানা বলেন, জেলায় যেসব অবৈধ ইটভাটা রয়েছে সেগুলোতে খুব শিগগিরই পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এবং যাদের অনুমোদন আছে এমন কিছু ইটভাকে অনুমতি দেওয়া হবে, তবে স্কুল মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম দুরুত্বে অবস্থান করলে সেই ইট ভাটা গুলোকে অনুমোদন দেওয়া হবেনা, যেহেতু উন্নয়ন মূলক কাজে ইটের প্রয়োজন রয়েছে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এরপর যারা আইন অমান্য করে ইট ভাটা পরিচালনা করবে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন এবার কোন ইট ভাটাতে গাছ কেটে খড়ি পোড়ানোর সুযোগ নেই।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||