admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৩ ১:১০ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্সঃ ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী মন্ডুমালা গ্রাম অবস্থিত এশিয়ার সবচেয়ে বৃহত্তর ২০০ শত বছরের পুরাতন সূর্যপূরী আম গাছ। গাছটিতে প্রতি বছর আম হয় প্রায় ১৫০-১৬০ মন । এই মৌসুমে প্রকান্ড এ গাছটি এক নজর দেখার জন্য সারাদেশ থেকে প্রতিদিন সেখানে ভীর করে হাজারো মানুষ। এ বছরেও প্রায় অনেক বেশী আম হবে এমনটি বলছেন গাছ মালিক। প্রায় দুই বিঘা জমি নিয়ে অবস্থিত বিশাল এই আম গাছটির অবস্থান জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের হরিণমারী সীমান্তবর্তী এই গ্রামে।
গাছটি শুধু জেলায় নয় সারাদেশে ঐতিহাসিক নির্দশন বহন করে দাঁড়িয়ে আছে। গাছের মূল থেকে ডালপালাকে আলাদা করে দেখতে চাইলে রীতিমতো চিন্তায় পড়ে যেতে হয়। বিশালাকৃতির এই গাছটিকে এশিয়ার সবচেয়ে বড় আমগাছ হিসেবেও ধারণা করা হয়। আর এই গাছটি দেখতে প্রতিনিয়তই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা ভিড় করেন। কিন্তু সেখানে তেমন রিফ্রেস ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা নেই। উক্ত এলাকাকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে পর্যটন নগরী হিসেবে।
অসংখ্য ইতিহাসের নজির বিহীন ঐতিহাসিক যুগের প্রাচীন এই লতা সূর্যপুরী আম গাছটি । ছরিয়ে ছিটিয়ে থাকা গাছটি ডাল পালা দেখলে মনে হবে যেনো বট গাছ না হয় আক্টপাস। আসলে এটি বট গাছ এবং অক্টপাস কোনোটিই নয় , এটি আম গাছ। গাছটির ছরিয়ে ছিটিয়ে থাকা ডাল পালা মুগ্ধ করে দর্শনার্থিদের।
তবে তাদের আরোও আকৃষ্ট করেছে গাছটিতে ঝুলতে থাকা থোকায় থোকায় লতা সূর্যপুরী আম। প্রাচিনতম এই গাছটি কত বছর পুরোনা তা সঠিক কেউই বলতে পারছে না । অনেকেরি ধারনা গাছটি ২০০ বছর পুরনো। বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন গাছটি ২২০ বছর পুরনো বা তারো বেশি। গাছটি বর্তমান মালিকের বাবার দাদার হাতের লাগানো গাছ। মজার বিশষ হলো প্রতি বছর গাছটি থেকে প্রতিবছর ভালো আয় হয়।
জানা যায়, গাছটির উচ্চতা আনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ ফুট, এর পরিধি প্রায় ৩৫ ফুট। মূল গাছের তিন দিকে অক্টোপাসের মতো মাটি আঁকড়ে ধরেছে ১৯টি মোটা মোটা ডালপালা। বয়সের ভারে গাছের ডাল হেলে পড়লেও গাছটির শীর্ষভাগে সবুজের সমারোহ। এখন আমের সময় সবুজ আমে ভরপুর এই গাছটি। প্রতিটি আমের ওজন হয় ২৫০ গ্রাম থেকে ২৭০ গ্রাম পর্যন্ত । এবারও গাছটিতে ব্যাপক পরিমাণে আম ধরেছে। আল্লাহ পাকের আপন খেয়ালে ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁয়ের এই আমগাছটি।
গাছ দেখতে আসা দর্শণার্থীরা বলেন গাছটি এতো সুন্দর ভাবে বিস্তৃত যা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। সময় সুযোগে ঘুরতে আসলাম এই আম গাছটি দেখতে। এই জাইগাটা যদি সরকারি উদ্যোগে পর্যটন কেন্দ্র করা যায় তাহলে আরো দর্শনার্থী আসবে বএ তারা মনে করেন। আর এক মহিলা দর্শনার্থী জানান আমি এখানে এই প্রথম এসেছি দেখে খুবই ভালো লাগলো। থোকায় থোকায় আম ঝুলছে দেখতে খুবি ভালো লাগছে।পঞ্চগড় থেকে আসা এক পরিবার জানান, থোকায় থোকায় আম দেখছি ভালো লাগছে। এর আগে এতো বড় আমগাছ আমি দেখিনি।
উত্তরাধিকার সূত্রে বালিয়াডাঙ্গী লতা সূর্যপূরী আম গাছটির বর্তমান মালিক নূর ইসলাম। নুর ইসলামের বাবার দাদা গাছটি লাগিয়ে ছিলেন। নুর ইসলাম বলেন, গাছটি দেখতে দূর দুরান্ত থেকে অনেক লোক আসে, আমরা নিজের আর্থায়নে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গরে তুলার চেষ্টা করছি। সরকারের পক্ষথেকে যদি কনো সহযোগিতা পাই তাহলে এটিকে আরো উন্নত করতে পারবো। আমরা আশাবাদি এ বছর এক থেকে দের লাখ টাকার আম বিক্রী করতে পারবো ।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহাবুব আলম বলেন, এই গাছটি শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ব না এই গাছটি সারাদেশের গর্ব। পর্যটকদের জন্য আমরা বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা রেখেছি। গিনেস বুকে ইতো মধ্যে আমরা আবেদন করেছি। গিনেস বুকে নাম লেখানো জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||