ইব্রাহিম আলম সবুজ,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:১৬ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামে জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি কুড়িগ্রাম-২ আসনে ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে বড় ধরনের ভাঙন ও নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হচ্ছে। সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং মাঠে সক্রিয় বিএনপির চাপে ঐতিহাসিক এই আসনে চাপের মুখে পড়েছে জাপা। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর জোর প্রচারণার মধ্যেও সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো অনিশ্চিত।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় গণভোট কুড়িগ্রাম-২ আসনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকার তৃণমূল ভোটারদের গণভোটে সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগী হলেও গ্রামাঞ্চলের কৃষক, জেলে, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকেই এখনো জানেন না-এই ভোটে ঠিক কী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটবে। ফলে ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে দ্বিধা ও নির্লিপ্ততা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পতিত আওয়ামী লীগের ৪০ শতাংশের বেশি ভোটব্যাংক এবারের নির্বাচনে’ কিংমেকার’ ভূমিকা রাখতে পারে। এই ভোট দখলে নিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর নেতাকর্মীরা নানামুখী আশ্বাস ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তৎপরতা বাড়িয়েছেন।
ইতিহাস বলছে, ১৯৮৬ সালে গঠিত কুড়িগ্রাম ২ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম চৌধুরী। ১৯৯১ ও ২০০১ সালেও তিনি জয়ী হন। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এ আসনে জয়লাভ করেন। ২০০৯ সালের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব জাফর আলী সংসদ সদস্য হন। ২০১৪ সালে ভোট বর্জনের কারণে তাজুল ইসলাম চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে জয়ী হন জাপার আলহাজ্ব পনির উদ্দিন আহমেদ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ডাঃ হামিদুল হক খন্দকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জাতীয় পার্টির এই ঐতিহাসিক দুর্গে এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে জামায়াত-সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।দলটির প্রার্থী ড. আতিক মুজাহিদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীককে বিজয়ী করতে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তৃণমূল পর্যায়ে টানা গণসংযোগ চালাচ্ছে জামায়াত জোট। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের দাবি তুলে বিএনপিও ভোট পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মাঠে সক্রিয়।
এ অবস্থায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত-গণভোট, ভাসমান ভোটার, পতিত আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক ও নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান মিলিয়ে কুড়িগ্রাম-২ আসনে ২০২৬ সালের নির্বাচন আর একক কোনো দলের জন্য সহজ হবে না। উত্তরের এই আসনটি পরিণত হয়েছে আসন্ন নির্বাচনের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ যুদ্ধক্ষেত্রে।