admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৮ মার্চ, ২০২৪ ৩:০৯ অপরাহ্ণ
সানিয়াদ হোসেন সাঈদী,রিপোর্টার,মুক্ত কলম: মানুষ হিসেবে প্রাপ্য অধিকারের দাবিতে সুদীর্ঘকাল থেকে লড়তে হচ্ছে সারা বিশ্বের নারীদের। তারপরও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। প্রতিবছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে নারীর প্রতি সম্মান ও সমানাধিকারের বার্তা জানাতেই দিবসটি উদযাপিত হয়। কিন্তু এই দিনটি শুরুর রয়েছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস।
বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি, চির কল্যাণকর,অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”– কাজী নজরুল ইসলাম।কেবলই নারী নই, আমিও মানুষ; এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে আজন্ম লড়াই করে আসছে সারা পৃথিবীর নারীরা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আজও বিশ্বের নানা জায়গায় চলছে নারী পুরুষের বিভেদের অসম লড়াই । বিশ্বের নানা প্রান্তে নারীরা অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত। কর্মক্ষেত্রে বিভেদের বিরুদ্ধে ও সমঅধিকারের দাবি নিয়ে এক সময় শুরু হয়েছিলো যে লড়াই; সেটাই একসময় সংঘবদ্ধ বৃহত্তর আন্দোলনে পরিবর্তিত হয়। আজও সেই বিভেদের লড়াই জারি রয়েছে ।
১৯০৮ সালে একাধিক দাবি নিয়ে নিউইয়র্কের পথে নামে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি নারী। কর্ম ঘণ্টা কমিয়ে আনা থেকে শুরু করে বেতন বৃদ্ধি, ভোটাধিকারসহ তাদের নানা দাবি দাওয়া ছিলো। সেই আন্দোলনের এক বছরের মাথায় ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নারী দিবস পালনের ঘোষণা দেয় আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি।
তবে এই দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে পালনের চিন্তাটা মাথায় আসে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবী ও সমাজতান্ত্রিক কর্মী ক্লারা জেটকিনের।
তিনি এটা জানান ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে নারী শ্রমিকদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। সেখানে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সম্মেলনে ১৭টি দেশের ১০০ জন নারী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সর্বসম্মতিক্রমে ওই প্রস্তাব মেনে নেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সবকিছু আনুষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৭৫ সালে, যখন জাতিসংঘ এটা উদযাপন করতে শুরু করে। ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৮ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতিসংঘের থিম হলো, ‘নারীদের উপর বিনিয়োগ করুন, দ্রুত উন্নতি আনুন’। এর মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা আনতে যে যথেষ্ট অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে না, সেই বিষয়টাতে মনোযোগ দেয়া হয়েছে।
সব দিবসেরই নিজস্ব রং থাকে, সেসব রঙের পেছনে লুকিয়ে থাকে কোনো না কোনো ইতিহাস। নারী দিবসের প্রতীক হলো বেগুনি রং। এই রঙকে মনে করা হয় সুবিচার ও মর্যাদার প্রতীক। এটি নারীর জন্য একটি প্রতিবাদের রঙও বলা যায়।