admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২২ ৭:০৮ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম বক্স অফিস সিঙ্গাপুরঃ ওমিক্রন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লেও সীমান্ত খোলার বিষয়ে আত্মপ্রত্যয়ী সিঙ্গাপুর সরকার। এ জন্য টিকাদানের হার বাড়ানোর পাশাপাশি আরও অন্যান্য দেশের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন-ফ্রি ভ্রমণ চুক্তির চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। গত সোমবার গত ১০ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পরিবহন মন্ত্রী মি. এস ঈশ্বরন। সিঙ্গাপুর চাঙ্গি বিমানবন্দর (আইএটিএ: SIN, আইসিএও: WSSS) সিঙ্গাপুরের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর। চাঙ্গি বিমানবন্দর চাঙ্গি বাণিজ্যিক এলাকা থেকে উত্তর-পূর্বে ১৭.২ কিলোমিটার (১০.৭ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত।
চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপ এই বিমানবন্দর পরিচালনা করে। চাঙ্গি বিমানবন্দর সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স কার্গো, সিল্কএয়ার, টাইগার এয়ারওয়েজ, ভ্যালুএয়ার-এর প্রধান কেন্দ্র। ২০০৯ এর সেপ্টেম্বর নাগাদ ৯৬টি এয়ারলান্স এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে এবং বিশ্বের প্রায় ২০০টি ও ৬০টি দেশ শহর এই বিমানবন্দরের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের সাথে যুক্ত। এটি কানটাস এয়ারওয়েজ-এর দ্বিতীয় প্রধান কেন্দ্র।
কানটাস এয়ারওয়েজ এই বিমানবন্দরের সবচেয়ে বড় বিদেশি এয়ারলাইন্স। এই বিমানবন্দরে দুই মিলিয়নেরও অধিক যাত্রী কানটাস এয়ারলান্সের মাধ্যমে যাতায়াত করে। চাঙ্গি বিমানবন্দর সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। চাঙ্গি বিমানবন্দরে প্রায় ২৮,০০০ লোক নিযুক্ত, যা ৪.৫ বিলিয়ন ডলারেরও অধিক অর্থ উৎপাদন করে।
তিনি জানিয়েছেন, ২০২০ সালে সিঙ্গাপুরের চাংগি বিমানবন্দরে যাত্রী চলাচল মহামারি-পূর্ব সময়ের তুলনায় মাত্র তিন শতাংশে নেমে গিয়েছিল। ২০২১ সালের শেষের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়ে যাত্রী চলাচল ১৫ শতাংশে পৌঁছায়। চলতি বছর এর হার আরও বাড়বে। তবে দশর্নীয় বিমানবন্দরটিতে যাত্রী চলাচল মহামারির আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন ঈশ্বরন।
সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী বলেছেন, জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়নের ভিত্তিতে আরও কিছু দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন-ফ্রি ভ্রমণ চালু করা আমাদের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আকাশ ভ্রমণের দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং আন্তর্জাতিক এয়ার হাব হিসেবে সিঙ্গাপুরের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে চাংগি বিমানবন্দর গ্রুপ ও এয়ারলাইন গুলোর সঙ্গে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২০২০ সাল পর্যন্ত টানা আট বছর বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর নির্বাচিত হয়েছিল চাংগি এয়ার্পোট। প্রায় দুই ২৪টির বেশি দেশের সঙ্গে ভ্যাকসিনেটেড ট্রাভেল লেন চালুর পর ২০২১ সালের শেষের দিকে সিঙ্গাপুরের এয়ার ট্র্যাফিক কিছুটা বাড়ে। পূর্ণডোজ টিকা গ্রহীতা ভ্রমণকারীদের কোয়ারেন্টাইন ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে নগররাষ্ট্রটি।
২০২১ সালে জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চলাচলে এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। ব্লুমবার্গের তর্থ্য মতে, এ তালিকায় প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেন, দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর এবং তৃতীয় হংকং।
স্থানীয়ভাবে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে ‘ট্রাভেল লেন’-এর টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে সিঙ্গাপুর। চলতি মাসের শেষের দিকে তা আবার শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ জন্য সতর্কতা হিসেবে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
মি. ঈশ্বরন বলেছেন, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে আগত সম্মুখসারির বিমানবন্দর কর্মী এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস এস কিউ ক্রুদের বাড়তি পরীক্ষা করাতে করিয়েছে। এরই মধ্যে চাংগি বিমানবন্দরের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। সেখানে আরও বেশি বাতাস শ্বাস শোধনযন্ত্র বসানো হয়েছে।
তিনি এর আগে পার্লামেন্টে রাখা বক্তব্যে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মি. ওং ইয়ে কুং বলেছেন, সীমান্ত বন্ধ রাখা যাবে না। রাখলে এটি আরও বড় কষ্টের করুণ হবে। এ জন্য মানুষজনকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শও দিয়েছেন। এর আগে, পার্লামেন্টে রাখা বক্তব্যে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওং ইয়ে কুং বলেছেন, সীমান্ত বন্ধ রাখা যাবে না। রাখলে এটি ‘আরও বড় কষ্টের কারণ’ হবে। এ জন্য মানুষজনকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।