admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২০ ৮:০৮ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম বক্স অফিস সিঙ্গাপুরঃ নির্বাচনী আলোচনায় সরগরম সিঙ্গাপুর। চলছে কানকথাও। এর কারণ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মি. লি হসিন লুং-এর আপন ছোট ভাই মি. লি হসিন ইয়াং তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এরই মধ্যে বুধবার তিনি যোগ দিয়েছেন বিরোধী দল প্রগ্রেস সিঙ্গাপুর পার্টি’তে (পিএসপি)। তাকে এই দলের একজন সদস্য হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জনপ্রিয় একটি ফুড কোর্ট তিওং বাহরু মার্কেটে নাস্তার টেবিলে তাকে দেখা গেছে। এ সময় তিনি ছিলেন প্রগ্রেসিভ সিঙ্গাপুর পার্টির প্রতীকি লাল ও সাদা শার্ট পরা। এ খবর দিয়ে নিক্কি এশিয়ান রিভিউ জানাচ্ছে, তার বড়ভাই প্রধানমন্ত্রী লি হসিন লুং মঙ্গলবার রাতে আগামী ১০ই জুলাই সিঙ্গাপুরে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এর কয়েক ঘন্টা পরেই আবির্ভূত হন লি হসিন ইয়াং। ফলে এখন জনগণের দৃষ্টি পড়েছে তার দিকে। লি হসিন ইয়াং পরিবার থেকে বিচ্ছন্ন থাকেন। দলে তার যোগ দেয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রগ্রেস সিঙ্গাপুরসে সমর্থন দেয়ার জন্যই তিনি দলে যোগ দিয়েছেন। তবে তার আনুষ্ঠানিক এই সদস্যপদ নিয়ে গুজব আছে। বলা হচ্ছে, তিনি সিঙ্গাপুরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
এ দলটির নেতা তান চেং বক নিজে বর্তমান ক্ষমতাসীন পিপলস একশন পার্টির (পি এ পি) একজন সাবেক নেতা। তিনি লি হসিন ইয়াংয়ের দলে যোগ দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে লি হসিন ইয়াংকে প্রার্থী করা হবে কিনা সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন নি তিনি। বলেছেন, এমন আলোচনা আছে। তবে আমি নিশ্চিত নই। লি হসিন ইয়াং দেশটির সাবেক একজন সেনা কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী। তিনি সিঙ্গাপুর টেলিকমিউনিকেশন্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালের এই নির্বাচনী ব্যালটে তার নাম থাকবে কিনা সে বিষয়ে নিজেই তিনি আমতা আমতা করেছেন। বলেছেন, যদি আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি তাহলে জানতে পারবেন।
একই দিন পরের দিকে প্রগ্রেসিভ সিঙ্গাপুর দলের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন লি হসিন ইয়াং। এতে তিনি আসন্ন নির্বাচনকে ওয়াটারশেড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনে এবার পরাজিত হবে পিএপি। এতে তিনি সিঙ্গাপুরকে ভালবাসতে বলেছেন। বলেছেন, পিএপিকে ভোট না দিতে। তবে আবারও তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে কিছু বলেন নি। এই নির্বাচনে সব দলকে আগামী ৩০ শে জুনের মধ্যে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির আইনের সহযোগী প্রফেসর ইউগিনি তান বলেছেন, বিরোধী দলীয় সদস্য হিসেবে লি হসিন ইয়াংয়ের আবির্ভাব জোরালো প্রতীকি। এটা ঘটেছে তানজোং পাগার নির্বাচনী এলাকায়। এই এলাকায় তার প্রয়াত পিতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইয়েউ-এর। এখানে রয়েছে পিএপির শক্ত ঘাঁটি।
যদিও পিএপি কোনো নির্বাচনে পরাজিত হয়নি এবং খুব কম সংখ্যক মানুষ বিশ্বাস করেন যে, সহসাই এ ধারা পরিবর্তন হবে, তবু লি হসিন ইয়াংয়ের উপস্থিতি ক্রমাগত বিরোধিতার চাপ বাড়াবে সরকারের ওপর। এবারের নির্বাচনে ৯৩টি আসনে রেকর্ড ১২টি বিরোধী দল তাদের প্রার্থী দিতে পারে। একই পিতার সন্তান লুং এবং ইয়াং। তবে কেন তারা একে অন্যের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন? এমন প্রশ্ন অনেকের। বলা হচ্ছে, তাদের পিতার যে বাড়িটি আছে তা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ। অর্চার্ড রোডে সিঙ্গাপুরের প্রধান শপিং এলাকায় ৩৮, অক্সলে রোড হলো সেই বাড়িটির ঠিকানা। প্রথম দিকে এই বাড়িতেই পিএপির বৈঠক হতো। এরপর তা ঐতিহাসিক মূল্যবান স্থানে পরিণত হয়। কিন্তু লি হসিন ইয়াংয়ের দাবি, তার পিতা চেয়েছিলেন এই বাড়িটি ভেঙে ফেলতে। এ নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক হয়েছে। তাদের বোন লি ওয়েই লিং পক্ষ নিয়েছেন লি হসিন ইয়াংয়ের।
১৪ই জুন ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন লি হসিন ইয়াং। তাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ওপর তার অনাস্থার কথা আবারও জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ভাই অথবা নেতা হিসেবে লি হসিন লুংয়ের ওপর আমার কোনো আস্থা নেই। তার ওপর থেকে আমি আস্থা হারিয়েছি। প্রগ্রেস সিঙ্গাপুরের তান’কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন, লি হসিন ইয়াংয়ের এই ঘোষণার মধ্যে পরিষ্কার একটি ইঙ্গিত আছে। এই নির্বাচনে কোন কোন বিষয় মাথায় রাখবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে লি হসিন ইয়াং বলেছেন, দেশে আয়ে অসমতা রয়েছে। দারিদ্র্যের ইস্যু আছে। সুশাসন ও স্বচ্ছতার ইস্যু আছে। আমি মনে করি অনেক বিষয় আছে নজর দেয়ার।
তা সত্ত্বেও নির্বাচনে লি হসিন ইয়াং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে ইউগিনি তান-এর। তিনি বলেন, যদি লি হসিন ইয়াং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাহলে আমি খুবই বিস্মিত হবো। কারণ, তাকে আমি রাজনীতি পাগল হিসেবে দেখি না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোহ চোক টোং পার্লামেন্টে লি পরিবারের বাড়ি নিয়ে বলেছিলেন, লি হসিন ইয়াং তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি চেষ্টা করছেন তার ভাইকে পদ থেকে নামাতে। যদি তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বেছে নিতেন তাহলে এটাই হতো সুযোগ।মি. লির উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রগ্রেম সিঙ্গাপুর দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যালেক্স তান নিক্কি এশিয়ান রিভিউকে বলেছেন, এই অবস্থায় পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারবো না।