admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি, ২০২২ ২:০৩ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ শতকোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর বিরুদ্ধে। তিনি প্রায় ১ যুগ ধরে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে আছেন। ৪ জানুয়ারি ২২ তারিখে দৈনিক সমুহে আমাদের সময়, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক মানবজমিন সহ আরো কয়েকটি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ছাপা হয়েছে একেবারে খাতওয়ারী, কোন খাত থেকে কে কত আয় করেছেন সে বিষয়ে। কিছুদিন আগেও লিয়াকত আলী লাকীর আমলনামা ছাপানো হয়েছিল।
জেলা কালচারাল অফিসার নিয়োগের পরীক্ষায় নাকি অনেকে পাশই করেনি এমন দেরকেও জেলা কালচারাল অফিসার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। তা যদি হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে বাঁকী থাকেনা যে লেনদেনের মাধ্যমেই তা সহজ হয়েছে এ কথাটা কে না বোঝে। তিনি আয় করেছেন ঘুষ , ক্ষমতার অপব্যবহার,ভুয়া বিল ভাউচার করে এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে তিনি শতকোটি টাকা লোপাট করেছেন। তিনি মাত্র শতকোটি টাকা লোপাট করেছেন। আবার ৬০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন লাকী সিন্ডিকেটের ৮ কর্মকর্তা।
দুদক কমিশনার বলেছেন লিয়াকত আলী লাকীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকা আত্মসাতের প্রমান পেয়েছে দুদক। মানে ডালমে কুছ কালা হ্যায়। এসব বিষয় অনুধাবন করে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে দুদক। কমিটি ১৬ জানুয়ারি তাকে তলব করেছে। প্রতিটি জুন মাসে জুন ক্লোজিংএর নামে সকল সরকারি দপ্তরে অর্থ লোপাটের মচ্ছব চলে। শিল্পকলা একাডেমিতেও তাই ই হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গত অর্থবছরে ক্লোজিংয়ে তিনি ৫ কোটি টাকা তুলেছেন ভুয়া বিল ভাউচার করে। আবার ১ জন সচিবকে দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখিয়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাকে ২ জন অফিসার সহায়তা করেছেন। এই ২ জন সহায়তাকারী এবং সচিব সাহেব তারাও বেশ লাভবান হয়েছেন এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। গত বছরের ৩০ জুন ৮ জন কালচারাল অফিসারকে জেলায় বদলী করেছিল মন্ত্রণালয়। প্রচুর অর্থ খরচ করে মহাপরিচালক তাদের বদলীর আদেশ বাতিল করেন। তাদেরকে নিয়ে ছুতানাতা বিভিন্ন মিটিং দেখিয়ে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রচুর টাকা আয় করেন।
বিভিন্ন জেলায় কালচারাল অফিসারদের ঢাকায় নিয়ে এসে তাদের মাধ্যমে আয় করেছেন। আবার তার এই সিন্ডিকেটের ৮জন কালচারাল অফিসারের আয় রোজগার হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। করোনার কারণে এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী না হলে কি হবে খরচতো আর বসে থাকতে পারেনা। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান করে ১২-১৫ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। সচিব সরিয়ে অন্য পছন্দের সচিব নিয়োগ করে অব্যয়ীত ৩৫ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। নুতন সচিব নিয়োগ করে ৩০ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত (২০২০-২০২১) ২৬ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। কেনা কাটার সমস্যাও আছে। পর্দা , ক্রোকারিজ , আসবাবপত্র না কিনেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ তুলে নিয়েছেন।
আমরা আন্তরিকভাবেই চাইবো অভিযোগগুলো মিথ্যা হোক। কিন্তু অভিযোগগুলো মিথ্যা হবার সম্ভাবনা খুবই কম। কেননা কিছুদিন আগে এই অভিযোগগুলো খবরের কাগজে ছাপা হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্তে দুদক প্রমান পেয়েছে। এবারে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান করার জন্য ২জন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। আমরা আরো চাইব এই অনুসন্ধান যেন বছরের পর বছর না হয়। দুদক যেন মনে না করে এটাতো হাজার কোটি টাকা লোপাট নয়, মাত্র শত কোটি টাকা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে শিল্পকলা একাডেমি ‘লোপাট’ একােেডমিতে পরিণত হয়েছে।
৮ জন কালচারাল অফিসার এর সিন্ডিকেট করা হয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকেও মাঝে মাঝে কোন কর্মকর্তাকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদের মাধ্যমেও ইনকাম করা হয়েছে। মৌলিক প্রশ্ন হলো মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এসবের খোঁজ রাখেননা এমন তো নয়। তারা যখন বুঝেছেন কেন্দ্রে এই সব লীলা খেলা চলছে তখন তারা কি আঙ্গুল চুষেছেন? নিশ্চয় তারাও দু পয়সা আয় করার সাহস দেখিয়েছেন।
মাঠ পর্যায়েও যে ব্যপক অনিয়ম হয়েছে তার প্রমান ঠাকুরগাঁও জেলা শিল্পকলা একােেডমি। জেলা শিল্পকলা একােেডমির সব কাজই গোপনে করা হয়। কাগজ কলমে দেখানো থাকে। অতিসম্প্রতি প্রহসনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। আত্মীয় স্বজন, ভাই বেরাদরের কমিটি হয়েছে। এখানে ১ টা সিন্ডিকেট বানানো হয়েছে। এর নুতন কোন সদস্য হয়না। পুরাতনদের মধ্যে যারা কথা বলবেন বলে মনে করা হয় কৌশলে তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়। গত অর্থবছরে ঠাকুরগাঁও জেলায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে শিল্পী এবং সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এটা বরাবরই দেওয়া হয়। আগে তো সবই চলতো গোপনে গোপনে। কোন কিছু জানা যেতোনা। ওয়েব সাইট হবার কারণে এবারে বিষয়টা ফাঁস হয়েছে।
সেই সুবাদে ওয়েব সাইট থেকে তালিকা সংগ্রহ করে দেখা গেল দারুন দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্যাড সর্বস্ব সংগঠন , মৃত মানুষ , ভুয়া শিল্পী ,অশিল্পীদের নামে টাকা বরাদ্দ হয়েছে। জেলা থেকে সুপারিশের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে। বিষয়টা নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে যায়। উদীচীর নেতৃত্বে জেলার শিল্পী সমাজ মানব বন্ধন , জেলা প্রশাসককে স্মারক লিপি দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটে আসছে। এর কোন প্রতিকার হয়নি।
গোপন সুত্রে জানা গেছে জহুরা খাতুন নামে একজন ডি এস তদন্তে এসেছিলেন। ডিসি সাহেবের অনিয়মের তদন্ত করতে এসেছিলেন একই সার্ভিস এর জুনিয়র ডিএস। ব্যপারটা কেমন যেন। তিনি এসে গোপনে তদন্ত করেছেন। যারা বাদী , যারা স্মারক লিপি দিয়েছে তাদের কাউকে কিছুই জানতে দেওয়া হয়নি। তাদের কাউকে ডাকা হয়নি। তিনি আপ্যায়িত হয়ে চলে গেছেন। তবে একটা পরিবর্তন এসেছে। তা হলো এবারে আবেদন করার বিষয়টি খবরের কাগজের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবী এটাই ছিল।