admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ সাদিকা নাহিন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছিলেন তাদের স্মরণে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের উপরে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে অনেকেই শহীদ হন। তাদের স্মরণে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা নির্মাণ করে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। যেটি প্রথম শহীদ মিনার হিসাবে ধরা হয়।

সেই শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উঁচু এবং ৬ ফুট চওড়া। নকশা করেছিলেন বদরুল আলম, সঙ্গে ছিলেন সাঈদ হায়দার। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে ভাষাশহীদ শফিউরের বাবা অনানুষ্ঠানিকভাবে এই শহীদ মিনারটির উদ্বোধন করেন। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি
আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন আবুল কালাম শামসুদ্দিন। কিন্তু সেদিনই পুলিশ শহীদ মিনারটি ভেঙে দেয়। পরে ঢাকা কলেজের সামনে আবার একটি শহীদ মিনার নির্মান করা হলেও সেটিও ভেঙ্গে দেয়া হয়।
বর্তমানে যে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় সেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৯৫৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। এই শহীদ মিনারটির স্থপতি হামিদুর রহমান। ১৯৫৭ সালে নভেরা আহমেদ ও হামিদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করে শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। ১৯৬৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন।
এরপর থেকেই প্রতি বছর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাঙালি জাতি ভাষা আন্দলনে আত্মত্যাগ করা শহীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছে। ৯ জানুয়ারি ১৯৯৮ কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানকে চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানেরও দাবি জানান।

নানা আনুষ্ঠনিকতার পর অবশেষে ৫ অক্টোবর-১৫ নভেম্বর ১৯৯৯ অনুষ্ঠিত UNESCO’র নির্বাহী পরিষদের ১৫৭তম অধিবেশনে প্রস্তাবটি স্বীকৃত লাভ করে। এরপর UNESCO’র দ্বিবার্ষিক ৩০তম সাধারণ সভার শেষ দিন অর্থাৎ ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়। সেদিনই প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। উপস্থিত ১৮৮টি সদস্য রাষ্ট্রের কেউই এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি। এরপর পর থেকে প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা হিসেবে পালন করা হচ্ছে। আজকের এই দিনে ভাষা শহীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ।