admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২১ ২:২৭ অপরাহ্ণ
লিবিয়ার গাদ্দাফির যে ছেলে খেলেছেন ইতালির ফুটবল ক্লাবে ইতিহাসের সাক্ষী। লিবিয়ার স্বৈরশাসক কর্নেল গাদ্দাফির ছেলে আল সাদি গাদ্দাফির সঙ্গে চুক্তি করে সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল ইতালির প্রথম সারির ফুটবল ক্লাব পেরুজা। ধারণা করা হয় যে ব্যাপক প্রচারণা পাওয়ার জন্যই পেরুজার মালিক লুচিয়ানো গাউচি এই চুক্তিটি করেছিলেন। ইতালীয় ফুটবল লিগ সেরেয়ার একটি মাত্র খেলায় তাকে নামানো হয়েছিল, তাও বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। তবে খেলার চেয়েও তিনি বেশি আলোচিত হয়েছিলেন মাঠের বাইরে, বিশেষ করে তার প্লেবয় লাইফ-স্টাইল এবং লাগামহীন খরচ করার স্বভাবের কারণে।
সময়টা ছিল ২০০৩ সালের গ্রীষ্মকাল। ইতালির প্রথম সারির ফুটবল ক্লাব পেরুজা মওসুম শুরু হওয়ার আগে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করেছে। রেলিগেশন এড়ানোর জন্য তারা কঠোর পরিশ্রম করছিল সেসময়। কিন্তু এবছর তাদের টিম ছিল বেশ শক্তিশালী। দলে অভিজ্ঞ ফুটবলার যেমন ছিল তেমনি ছিল বেশ কিছু নতুন খেলোয়াড়ও, যারা আরো বড়ো ক্লাবে যাওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে চাইছিল। পেরুজার ফরোয়ার্ডে খেলতেন ২১ বছর বয়সী জে বথরয়েড। তিনি গেছেন ইংল্যান্ড থেকে, বলেন, এই ক্লাবে ভাল ভাল ফুটবলার ছিল। এটা ছিল একটা পরিবার-কেন্দ্রিক ক্লাব। বেশ ভালই ছিল।
পেরুজার গোলরক্ষক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জোকো ক্যালাচ। ক্লাবের সবাই তাকে খুব পছন্দ করতো। তিনি বলেন, “আমরা সবাই খেলছিলাম টিকে থাকার জন্য। সেরিয়াতে টিকে থাকতে পারাটাই আমাদের জন্য ছিল লিগের শিরোপা জেতার মতো বিষয়। সে সময় পেরুজায় নতুন একজন ফুটবলার নেওয়া হয়। তার নাম সাদি আল গাদ্দাফি। আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে তাকে দলে নেওয়া ছিল অস্বাভাবিক এক ঘটনা। কারণ তার পিতা তেল সমৃদ্ধ দেশ লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি। আল সাদি পরিচিত ছিলেন শুধু সাদি নামেই।ফুটবল খেলতে ভালবাসতেন তিনি। ক্লাবে যোগ দেওয়ার অল্প কদিনের মধ্যে তিনি জে বথরয়েড সহ সব ফুটবলারের সঙ্গেই ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে পেরেছিলেন।জো বথরয়েড বলেন,আমরা দুজন ইংরেজিতে কথা বলতাম। তার পিতা লিবিয়ার লোকজনের প্রতি যা করেছেন তার জন্য আমি তার পিতাকে ক্ষমা করতে পারি না। তবে সাদি ছিল মৃদুভাষী। খুব শান্ত এবং উদার প্রকৃতির মানুষ।
গোলকিপার জোকো ক্যালাচের সঙ্গেও ভাল সম্পর্ক ছিল সাদি আল গাদ্দাফির। তিনি একদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, সাদি একটা জায়গায় বসেছিল। সে হয়তো ক্লান্ত ছিল কিম্বা তার মেজাজ খারাপ ছিল। আমি জানতে চাইলাম সে এখানে কী করছে। কয়েক ঘণ্টা পর তার দেহরক্ষীরা আমার রুমের দরজায় টোকা দিল। বলল যে সাদি তার রুমে আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। আমি ভাবলাম এখানেই হয়তো আমার জীবনের শেষ। তার সঙ্গে আমার কথাবার্তা হলো। পরে সে বললো যে এই প্রথম কেউ তার সঙ্গে এতোটা খোলামেলা কথা বলেছে। সেদিনের পর থেকে আমরা দুজন ভাল বন্ধু হয়ে গেলাম। সাদি আল গাদ্দাফি খুব একটা ভাল ফুটবলার ছিলেন না। তবে নিজেকে উন্নত করার জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।