admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
মোঃ আজিজুল সেখ, স্টাফ রিপোর্টার কোলকাতাঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামের নারী ও শিশুদের ওপরে বিএসএফ সদস্যরা লাঠিচার্জ করেছেন, এই অভিযোগের সরেজমিন তদন্তে শনিবার একটি মানবাধিকার সংগঠন সেখানে গিয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর বলছে মলুয়াপাড়া নামের ওই গ্রামটির মানুষ বেশ কিছুদিন ধরেই নতুন করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিরোধিতা করছিলেন। গত আট ফেব্রুয়ারি বিএসএফ যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে বেড়ার কাজ শুরু করলে বিক্ষোভ দেখান দুশো নারী ও শিশু।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ ওই বিক্ষোভের ওপরেই লাঠি চালায় বিএসএফের পুরুষ সদস্যরা। ওই ঘটনায় জখম হয়েছেন গ্রামের ১১ জন নারী। বিএসএফ অবশ্য গ্রামবাসীদের তোলা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে সেদিন কোনও লাঠিচার্জই হয় নি। গ্রামবাসীরা সরকারি যন্ত্রপাতি ভাঙ্গতে উদ্যত হলে তারা লাঠি উঁচিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছে মাত্র।
কী হয়েছিল ওই গ্রামে?
মলুয়াপাড়ার বাসিন্দা জরিনা বিশ্বাস বলছিলেন, গত আট তারিখ ছিল হাটবার, তাই পুরুষরা কেউ বাড়ি ছিল না। সেই সুযোগে বিকেল তিনটের দিকে রাস্তার রোলার সহ যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে তারকাটার বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করে বিএসএফ। আমরা যখন বাধা দিতে যাই, আমাকেই প্রথমে লাঠি দিয়ে মারে তারা। বিএসএফের কোনও নারী কনস্টেবল ছিল না, সবাই পুরুষমানুষ।
আমার পিঠে লাঠি দিয়ে মারে আর সঙ্গে হিন্দিতে অশ্রাব্য গালিগালাজ করছিল ওরা। একটা বিএসএফ আমার বাঁ হাত ধরে রেখেছিল আর গালিগালাজ করে মারছিল। আবার পাথরও ছুঁড়ছিল। এমনকি বাচ্চা ছেলে মেয়েরা, যারা মোবাইলে ভিডিও করছিল, তাদের তাড়া করে মোবাইল কেড়ে নিয়েছে, বলছিলেন জরিনা বিশ্বাস।
কেন নিজের দেশেই যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করবে বিএসএফ?’
ওই গ্রামের বাসিন্দারা বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছেন কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিরুদ্ধে। তারা বলছেন যেখানে বেড়া দেওয়ার কথা হচ্ছে, তাতে গ্রামের একটা বড় অংশই বেড়ার বাইরে চলে যাবে। তার ফলে মূল ভূখণ্ডে আসার জন্য তাদের বেড়ার মাঝে মাঝে থাকা গেট ব্যবহার করতে হবে। ওই গেটগুলি বিএসএফ সময় অনুযায়ী খোলে আর বন্ধ করে। তারকাঁটার বেড়া দেওয়ার যে নিয়ম, তা হল সীমান্ত থেকে দেড়শো গজ দূরে। তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। বিএসএফ বলেছিল রাস্তা তৈরি করে দেবে, তাতেও আমরা রাজী ছিলাম। কিন্তু আমাদের গ্রামে কোথাও হাজার গজ, কোথাও ১৮০০ গজ ভেতরেও বেড়া দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ২৩০ টা ঘর বেড়ার বাইরে চলে যাবে, বলছিলেন গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার বিশ্বাস। তার প্রশ্ন, ভারতীয় হয়েও তারা কেন বেড়ার বাইরে থাকতে বাধ্য হবেন, আর কেনই বা নিজের দেশেই তাদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করবে বিএসএফ!
সরেজমিন তদন্তে গিয়ে কী দেখলেন মানবাধিকার কর্মীরা শনিবার মি. বিশ্বাসদের গ্রামে সরেজমিনে তদন্তে গিয়েছিল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের একটি দল।
ওই দলটির নেত্রী ও সংগঠনটির কৃষ্ণনগর ইউনিটের সম্পাদক মৌটুলি নাগ সরকার বলছেন, “গ্রামে যেদিন থেকে মাটি কাটার সরঞ্জাম নিয়ে গেছে বিএসএফ, সেদিন থেকেই গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তারা এ নিয়ে মহকুমা শাসকের কাছে একটা ডেপুটেশনও দিয়েছিলেন। আট তারিখ প্রায় শ দুয়েক নারী বিক্ষোভ দেখান। তখনই বিএসএফ লাঠি চার্জ শুরু করে। প্রায় একশো দেড়শো মিটার পর্যন্ত লাঠি চার্জ করে এগিয়ে গিয়েছিল বাহিনী। একজন নারী আমাদের জানিয়েছেন যে তার কোলে শিশু সন্তান ছিল। বিক্ষোভের মধ্যে শিশুটি পড়ে যায়, তাকে সরিয়ে দিয়ে ওই নারীকে মেরেছে বিএসএফ। নারীরা আমাদের তাদের চোট আঘাতও দেখিয়েছেন কারও পায়ে, কারও কোমরে, কারও পিঠে আঘাত লেগেছে। কারও হাত পা ভাঙ্গে নি, কিন্তু একজনের মাথা ফেটেছে, জানাচ্ছিলেন মিজ নাগ সরকার। গ্রামবাসীদের কাছে ওইদিনের লাঠি চার্জের ঘটনার ভিডিও তারা দেখেছেন বলে জানান এপিডিআর নেত্রী।