admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২১ ১২:৩১ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হাফ বাসভাড়ার দাবীতে আন্দোলন করছে। শিক্ষার্থীরা যারা গণপরিবহনে যাতায়ত করে তারা বিত্তশালীর সন্তান নয়। ভাড়া বাড়ানো হয়েছে , বেশী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, কিলো মিটার জালিয়াতি করে বেশী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। মালিকদের যৌক্তিক , অযৌক্তিক সব দাবীদাওয়া সরকার মেনে নিয়েছে।

আমাদের শিক্ষার্থীদের বিষয়টা বিবেচনা করা যাচ্ছেনা কেন? এটা অসম্ভব কোন বিষয় কি? পত্রিকার খবরে জানা যায় বাসের কর্মচারীরা কি পরিমান দুর্ব্যবহার করছে আমাদের শিক্ষার্থীদের সাথে। ছাত্রীদের ধর্ষনের হুমকি দিয়েছে? ভাবতে অবাক লাগে এই দেশে পরিবহন মালিকদের পক্ষে তাদের কর্মচারীরা কতটা বেপরোয়া। গ্যাস , ডিজেল বিতর্ক চলছে। ডিজেলের দাম বাড়ানোর জন্য সব গাড়ী ডিজেল চালিত হয়েছে। আগামী কাল গ্যাসের দাম বাড়ালেই সব গাড়ী আবার গ্যাস চালিত হবে। এটি নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি কারো আছে বলে মনে করার কোন ঘটনা ঘটেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তেলে ভর্তুকী দিতে হয়। এই বিতর্কের সমাধান করা কঠিন নয়। গ্যাসের দাম বাড়ান , সমতা আসবে। লাভের বাড়তী অর্থ সরকার ভর্তুকী মেটানোর জন্য ব্যবহার করতে পারে। শিক্ষার্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ। তাদের প্রতি নজর দেওয়া আমাদের কর্তব্য এবং জরুরী। বিষয়টি অবহেলা না করে বা শিক্ষার্থীরা কতবড় আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে সেই অপেক্ষায় না থেকে জরুরী জনগুরুত্ব সম্পন্ন বিষয়টি বিবেচনা করে ১টি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রবর্তন করা কি খুব কঠিন কাজ? সারা দুনিয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতি সবাই সংবেদনশীল কোন কোন দেশের বাসে শিক্ষার্থীদের ভাড়া দিতে হয়না। আর বাংলাদেশে পরিবহণ ব্যবসায়িগণ শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ ভাবেন এবং সেই আচরন করেন। ব্যবসায়িরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে একেবারেই দুরে অবস্থান নিয়েছেন।
পরিবহণ ব্যবসায়িরাতো তেলের দাম , টায়ারের দাম , যন্ত্রাংশের দাম, স্পিড মানি , কর্মচারী বেতন সব হিসাব করে ভাড়া বাড়িয়েছেন। এখন আবার নির্ধারিত পরিমানের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় হচ্ছে। এর সঙ্গে নুতন মাত্রা যোগ হয়েছে কিলোমিটার জালিয়াতি। পরিবহণ মালিকগণ যে ভাড়ার তালিকা প্রনয়ন করেছেন, দেখা যাচ্ছে দুরত্ব বেশি দেখিয়ে যাত্রীদের পকেট কাটার বন্দোবস্ত আগে থেকেই পাকা করা আছে। বিআরটিএতেও কোন হিসাব নাই। আমার ধারণা সড়ক বিভাগও এই তালিকা দিয়ে মেরামত বা নির্মান কাজে দিব্বি বেশী খরচ করে যাচ্ছে।
ছাত্ররাতো সারা দিন বা সব দিন যাতায়ত করেনা। সুন্দর কার্ড দিয়ে , সময় নির্ধারণ করেই হোক আবার যেভাবেই হোক শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সংবেদনশীলতার সাথে দেখা উচিৎ। এর মধ্যে আবার আরো একটি সর্বনাশা ঘটনা ঘটেছে। ছাত্র সংগঠনের কাজ হলো শিক্ষাথীদের স্বার্থ দেখা। পত্রিকার খবরে দেখা যায় এতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্র লীগের‘ ছেলেরা হাফ ভাড়ার দাবীতে আন্দোলনরত শিক্ষাথীদের উপর হামলা করেছে। ছাত্রলীগ কেন শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হলো তা ভাববার বিষয়। প্রকৃত ছাত্রলীগ একাজ করতেই পারেনা। যারা ছাত্রলীগকে দেখাশোনা করেন তারা তড়িৎ পদক্ষেপ নিন। পরিবহনে হ্রাসকৃত ভাড়ায় চলাচলের দাবী শির্ক্ষাীদের জন্য সার্বজনীন। বরং এই দাবীকে সমর্থন দেওয়া দরকার। তা না করে স্রতের বিপরীতে দাঁড়ালে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা যদি ছাত্রলীগের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলা কি সর্বনাশটা হবে, বিষয়টা আওয়ামী লীগকেও ভাবতে হবে।
নতুন ভাড়া অনুযায়ী, দূরপাল্লার এবং মহানগরের বাসের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২৭% এবং ২৬.৫% ভাড়া বেড়েছে। ফলে সব মিলিয়ে গড় ভাড়া বেড়েছে ২৬.৭৫%। দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ১.৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ১.৪২ টাকা ছিল। কিলোমিটার প্রতি ০.৪৫ টাকা বাড়িয়ে প্রতি কিলোমিটারে মহানগরের নতুন বাস ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ২.১৫ টাকা। মিনিবাসের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ১.৬০ টাকা থেকে ২.০৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়া, বাসের ক্ষেত্রে ১০ টাকা এবং মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৮ টাকা।
বিআরটিএ এর নির্ধারিত নতুন ভাড়ার তালিকা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, উত্তরা থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত আসতে যাত্রীর গুনতে হবে ৩৮ টাকা, যেখানে আগে প্রয়োজন হতো ২৯ টাকা। মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত যেতে অতিরিক্ত ৯ টাকা খসাতে হবে যাত্রীকে, অর্থাৎ আগে ৩৭ টাকা ভাড়া থাকলেও তা এখন ৪৬ টাকা।