admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৩ ৬:১৬ অপরাহ্ণ
মক্ত কলম আন্তর্জাতিক নিউজ ডেক্সঃ ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাতের নবম দিনে এসে দুই পক্ষে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়েছে। এখন ফিলিস্তিনের গাজায় হামাস সদস্যদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল ও নৌ হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে ইসরায়েল। এরই মধ্যে গাজা সীমান্তে কয়েক লাখ সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে এই সংঘাত এবং এটা ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতার সর্বশেষ খবরগুলো তুলে ধরা হলো:
● স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে গাজা সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে কয়েক লাখ ইসরায়েলি সেনা। তাদের স্থল অভিযানের হুমকির মুখে গাজার উত্তরাঞ্চল ছেড়ে দক্ষিণের দিকে পালাচ্ছেন বাসিন্দারা।
● গাজায় ইসরায়েলের বোমা হামলায় অন্তত ২ হাজার ৩২৯ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ২০১৪ সালে ৫১ দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনে যত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি মানুষকে এই আট দিনে হত্যা করেছে ইসরায়েল।
● ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। আর ইসরায়েল থেকে ১২৬ জনকে ধরে এনে গাজায় জিম্মি করেছেন হামাস যোদ্ধারা।
● ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এই তথ্য জানিয়েছে।
● লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে এক ইসরায়েলি নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
● লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ওই হামলা চালানোর পর দেশটির সীমান্তবর্তী চার কিলোমিটার এলাকায় লোকজনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েল।
● ইসরায়েল–লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে হামাস বলেছে, তাদের তিন যোদ্ধা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকেছিলেন এবং পরে তাঁরা নিহত হয়েছেন।
● যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, রিয়াদে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাত নিয়ে খুব ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
● কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান।
ফিলিস্তিনির গাজা উপত্যকায় স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গতকাল শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এ হামলা কবে, কখন শুরু হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু উল্লেখ করেনি তারা। এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সংঘাতের পরবর্তী পর্যায় আসছে। তিনি ইসরায়েলি সেনাদের এ কথা বলেছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে আসন্ন অভিযানকে বিস্তৃত পরিসরের আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রয়োজনীয় যুদ্ধসরঞ্জাম ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট স্থানে পাঠানো হয়েছে। কৌশলগতভাবে সারা দেশে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযানে বিপুলসংখ্যক রিজার্ভ সেনা অংশ নেবেন। অভিযানটি যে ব্যাপক হবে, তা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানটি দীর্ঘমেয়াদিও হতে পারে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাদের একটি বড় ধরনের স্থল অভিযানের ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতির ইঙ্গিত অনুযায়ী, গাজায় একটি বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।
গত শুক্রবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উত্তর গাজার সব বেসামরিক বাসিন্দাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপত্যকার দক্ষিণে পালাতে নির্দেশ দেয়। এই এলাকার মোট জনসংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এই নির্দেশের পর উত্তর গাজার হাজারো ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। জবাবে পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। হামাসের হামলায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।