admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২২ ৬:২৫ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা- অ্যাাডভোকেট আবু মহীউদ্দিনঃ যান চলাচল শুরু হবার ১ম দিন মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জন মারা গেছে এ জন্য অনির্দিষ্ট কালের জন্য পদ্মা সেতুতে মোটর সাইকেল চলাচল বন্ধ। এর পর আল্লাহ না করুন কোন দিন বাস দুর্ঘটনা হলে বাস চলাচল বন্ধ হবে, ট্রাক দুর্ঘটনা হলে ট্রাক চলাচল বন্ধ হবে। মাথা ব্যথা হবে সুতরাং এর চিকিৎসা মাথাই কাটতে হবে। পদ্মা সেতু গোটা জাতির একটা আবেগের জায়গা। আমি নিশ্চত করে ধারণা করতে পারি তা হলো আগামী ১ মাসও যদি মানুষ হেঁটে পার হওয়ার বিনিময়ে ২০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ হেঁটে পদ্মা ব্রীজ পার হবে।
শুধু মাত্র পদ্মা ব্রীজ পার হওয়ার জন্য সারা দেশ থেকে হাজারো মানুষ গাড়ী ভাড়া করে আসবে। আর মোটর সাইকেল ? এক মাসের মধ্যে কমপক্ষে ১০ লাখ মোটর সাইকেল পদ্মা ব্রীজের উপর দিয়ে যাবে। মানুষ পদ্মা ব্রিজটা হাত দিয়ে ছুয়ে দেখতে চায়। আবেগ আপ্লুত হয়ে পদ্মা ব্রীজে মানুষ নামাজ পড়েছে। মানুষ ছবি তুলবে। প্রথম দিন বা প্রথম গাড়ী চালিয়ে পদ্মা ব্রীজ অতিক্রম করার যে বিপুল আগ্রহ দেখা গেছে এটা শেষ হতে কমপক্ষে ১ মাস সময় লাগবে। কার মন না চাইবে যাত্রা পথে গাড়ী থেকে নেমে ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে জাতির সক্ষমতার বিষয়টি অনুধাবন করতে? ভাবুনতো যে লোকটা কাল ব্রীজ পার হয়েছে , আজ আবার অফিস করার জন্য ব্রীজের টোল প্লাজায় এসে জানতে পারল আজ ব্রীজের উপর দিয়ে মোটরসাইকেল যাবেনা।
সেতু কর্তৃপক্ষের বড্ড মাথা মোটা। না হলে এই সব বিষয় কেন বিবেচনায় নেওয়া হয়নি ? এই সামান্যতম বিষয়টা বিবেচনা করার মতো মেধাবী লোক আমাদের সেতু বিভাগের নাই।
শুধু অহি নাজিল করলে তো হবেনা। বাস্তবতা অনুধাবণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন হবার পরে বেশ কিছুদিন এই অবস্থা ছিলা। মানুষের আবেগকে কেন সম্মান দিবেননা। আপনাদের দ্বায়িত্ব হলো এসব ম্যানেজ করা। দয়া করে মেধা খাটান। আগামী ১ মাস ব্রীজের উপরে পুলিশকে দ্বায়িত্ব দিন, শৃংখলা রক্ষা করার জন্য। তবে টিকটক ওয়ালাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। ব্রীজে ওঠার সময় বিদঘুটে রকমের লম্বা সাইজের রঙ্গিন চুলওয়ালা ,ছেঁড়া প্যান্ট পরা ২০/২২ বছর বয়সী দেখলে বুঝবেন এরা সমাজচ্যুত টিকটকার। এদেরকে শুধু উঠতে না দেওয়াই নয় এদের গ্রæপ সহ পুলিশের গাড়ীতে তুলে সোজা থানায়।
ব্রীজে গাড়ী থামতে দিবেননা ভালো কথা , ৫০ টি মোবাইল কোর্ট বসান। মাইক লাগিয়ে প্রচার করুন অথবা টোল দেওয়ার সময় ১ টা করে হ্যান্ডবিল ধরিয়ে দিন , তাতে লেখা থাকবে ব্রীজের মধ্যে কি কি করতে পারবেনা । মানুষকে গাইড করুন। পাহারাদার নিয়োগ করুন। দেশের মানুষকে সহায়তা দিন আবেগ প্রকাশের। এতদবিষয়ে জনাব মোহাম্মদ ইউনুসও ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু ব্রীজের উদ্বোধনীর পরের চিত্র তুলে ধরে বেশ কিছু মতামত দিয়েছেন। তার লেখাটা না পড়লে আমিও সেই কথাগুলো লিখতাম। আমি তার সাথে একমত।