admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
নামিবিয়া হাইড্রোজেন জ্বালানির সুপার পাওয়ার হচ্ছে ! বিশ্বব্যাপী ৩৫০টির বেশি প্রকল্প চলমান রয়েছে হাইড্রোজেন নিয়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলায় হাইড্রোজেন জ্বালানি হচ্ছে প্রকৃতিবান্ধব। ২০৩০ সাল নাগাদ এই গ্যাসের পেছনে সর্বমোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে। এই প্রক্রিয়ারই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নামিবিয়া। দক্ষিণ নামিবিয়ার শহর লুডারিটজে প্রক্রিয়াধীন এই প্রকল্পের সাফল্য পুরোপুরি বদলে দেবে দরিদ্র দেশটির ভাগ্য।
ধারণা করা হচ্ছে, নামিবিয়া যদি এ ক্ষেত্রে সফল হয়, তাহলে আফ্রিকান দেশটি হবে হাইড্রোজেন জ্বালানির সুপার পাওয়ার। বন্দরশহর লুডারিটজ মহাসাগরের সঙ্গে মিশে যাওয়া ফ্যাকাশে মরুভূমিসমৃদ্ধ। হীরা আর মৎস্যসম্পদ দিয়ে চলছিল এ অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবন। বেকারত্ব আর বার্ধক্যজনিত অবকাঠামোর সঙ্গে লড়াই করছে শহরটি। প্রস্তাবিত সবুজ হাইড্রোজন জ্বালানির প্রকল্পটি বিপ্লব ঘটাতে চলেছে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ দেওয়া হবে এ প্রকল্পে। যা শহরের বেকারত্ব কমিয়ে আনবে ৫৫ শতাংশ। তাই গত প্রায় দুই যুগ ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা স্থানীয় জনসাধারণ প্রকল্পটিকে ঘিরে আশায় বুক বেঁধেছে। লক্ষ্য অনুযায়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বছরে প্রায় তিন লাখ টন সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন করবে। সূর্য এবং বায়ু থেকে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি থেকে হাইড্রোজেন অণুগুলোকে আলাদা করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হবে হাইড্রোজেন জ্বালানি। প্রকল্পের বিজয়ী দরদাতা হাইফেন হাইড্রোজেন এনার্জি।
আফ্রিকা ও জার্মানির যৌথ অংশীদারিত্বের এ কোম্পানি আশা করছে ২০২৬ সালে তারা উৎপাদনে যেতে পারবে। প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে ৪০ বছরের জন্য স্থায়ী হবে প্রকল্পটি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রকল্পের নির্মাণকাজে ১৫ হাজার লোক নিয়োগ করা হবে। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন আরো তিন হাজার কর্মী। এই শ্রমিকদের ৯০ শতাংশই নিয়োগ দেওয়া হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৯.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নামিবিয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া এবং নাইজেরিয়াও সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
নামিবিয়ান প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং হাইড্রোজেন কমিশনার জেমস মানিউপে জানান, সমুদ্রের নিকটবর্তী হওয়ায় পানি, বায়ু ও সৌরশক্তির সহজপ্রাপ্যতার নিরিখে এই জায়গাটিকে প্রকল্পের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প প্রেসিডেন্ট হেগে গেইঙ্গোবের অর্থনৈতিক বিপ্লবেরই একটি অংশ। তার লক্ষ্য নামিবিয়াকে একটি সিন্থেটিক জ্বালানি শিল্পের পাওয়ার হাউজে পরিণত করা।