admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩ ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা: অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ ২১ থেকে ২৫ মে ২০২৩ একটা লংকাকান্ডের মধ্যে দিয়ে বেশ কিছু মানুষ অতিক্রম করলো। জমিদার পাড়ার ৭ম শ্রেনী পড়–য়া ১টি মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছিল ওর মা বেশ গোপনেই। মেয়েটির বিয়ে হওয়ার ইচ্ছা নাই। বিষয়টা তার বান্ধবীদের মাধ্যমে পৌছে গেল মহিলা পরিষদের সক্রিয় সদস্য সুচরিতা দেবের কানে। কানে কানে পৌঁছে গেলো মহিলা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের কাছে। সহায়তা কামনা করা হলো ডিসি সাহেবের। তিনি দ্বায়িত্ব দিলেন সদর ইউএনও সাহেবকে। ইউএনও সাহেব সময়মতো মহিলা পরিষদ সদস্যদের নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত সহ বিয়ের আসরে হাজির। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বর বিয়ের আসরে ঢোকার আগেই উধাও, মা ও পালিয়ে গেল। মেয়ের বাবা গোবেচারা ধরা খেয়ে ১০ দিন জেলও খেটেছে। মেয়ে আতংকিত হলো তার নিরাপত্তা নিয়ে।
মেয়ে কোন ভাবেই বাড়ীতে যেতে সাহসী হলোনা। ফলে ইউএনও সাহেব মেয়েকে ঠাকুরগাঁও মহিলা পরিষদের জিম্মায় দিলেন। এদিকে মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দ পড়লেন নুতন সমস্যায়। তাদেরতো অফিস আদালত নাই। খরচ করার মতো ১০ টাকা তহবিলও নেই। মেয়েদের রাখার কোন ব্যবস্থা নাই। প্রয়োজন মেয়ের থাকা খাওয়া সহ যাবতীয় গোপনীয়তা রক্ষা করা। মহিলা পরিষদের সাহসী সদস্য ২/১ জন এগিয়ে এলেন। যোগাযোগ হলো মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে। কেন্দ্রীয় কমিটি মেয়েটাকে ঢাকায় রোকেয়া সদনে পাঠাতে বললো। মেয়েকে ঢাকা পাঠাতে বললেই তো আর পাঠানো যায়না। আইনী বিধান মানতে মেয়েটাকে কোর্টে তোলা হলো, কোর্ট মেয়ের মতামত যাচাই করলো। আদালততো অর্ডার দিয়েই দিলো। চিঠিপত্র তৈরি মেইল করা, কোর্টে প্রোডিউস করা , আইনজীবি নিয়োগ করা, মেয়েটার অধিকতর নিরাপত্তার এবং এর পর নিরাপত্তার বিষয়টি অব্যাহত রাখার স্বার্থে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির তত্বাবধানে দিয়ে দেওয়া।
ইতোমধ্যে খুই সহায়ক ভুমিকা পালন করলেন, প্রথম আলোর সাংবাদিক মজিবর রহমান খাঁন এবং ডেইলি স্টারের সাংবাদিক কামরুল ইসলাম রোবায়েত।এর মধ্যে দেখা দিলো আইনগতগত বিষয়াদি। পরের দিন আদালতে মেয়েটাকে উপস্থিত করা বিচারকের আদেশ নেওয়া , মহিলা পরিষদের জিম্মায় নেওয়া , সকল কাগজপত্রের নকল তোলা ইত্যাদি বিষয়ে ইউএনও সাহেব, আন্তররিকতার সাথেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। এবার মেয়েটিকে ঢাকা পাঠাতে হবে প্রশাসনের সহায়তায় এই অসাধ্য সাধন কালে মুল দ্বায়িত্ব পালন করলো সুচরতিা দেবের সাথে নাজমা আক্তার, সুরভী কেরকেটা, শামীমা সুলতানা, মাহমুদা বেগম আলো, পারুল বেগম এবং উদীচী সভাপতি সেতারা বেগম। মহিলা পরিষদ নের্তৃবৃন্দ এক এক সময় এক এক জায়গায় রেখে অবশেষে মহুয়া রানীকে (ছদ্মনাম)ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা হলো। জেলা প্রশাসক দারুন সহায়তা করলেন। ট্রেনের টিকেট , প্রাথমিক প্রয়োজন, কাপড়চোপড় কেনার ব্যবস্থা হলো, কত দ্রæত কাজ হলো এটা শুধু অনুভবের। আমার ধারণা ঠাকুরগাঁও মহিলা পরিষদ বলেই হয়তোবা তা সম্ভব হয়েছে। মহুয়া রানী এখন ঢাকায় রোকেযা সদনে নিরাপদে ক’ মাস থেকে ওর মায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে কোর্টের মাধ্যমে আবার ফিরে এসেছে। তবে মেয়েটা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ওখানে থাকতে পারত। এ সময় সে পড়াশোনা করতে পারতো, দক্ষতা অর্জনের জন্য বৃত্তিমুলক কোন কাজ শিখতে পারতো।
ঠাকুরগাঁওয়ের মহিলা পরিষদ দেশের অন্যতম সক্রিয় সংগঠন হিসাবে কাজ করতো। কোন সংগঠন সক্রিয় হলে বা ভালো কাজ করলে সমস্যা তৈরি হয়, কিছু ব্যাড এলিমেন্ট ঢুকে পড়ে। তারা দখল করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পর্বত সমান অভিযোগ উত্থাপন করলো। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্যরা সরজমিন তদন্তে এসেছিলেন। দফায় দফায় তদন্তে অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা প্রমানিত তো হলোই , বরং এসবের জন্য অভিযোগকারীরাই দ্বায়ী বলেই প্রমান হলো। তারপর নজিবিহীন ঘটনা ঘটলো, অভিযোগকারীরা কেন্দ্রীয় নেতর্ৃৃন্দের সামনেই সুচরিতাকে হেনস্থা করলো। কেন্দ্রীয় নের্তৃবৃন্দ এর পরই ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সব ব্যাড এলিমেন্টকে চিরতরে বহিস্কার করলো আর স্থবির হয়ে গেলো ঠাকুরগাঁও মহিলা পরিষদের কার্যক্রম। কয়েক বছরের স্থবিরতায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টা অনুধাবন করলেন এবং আইনগত দিক রক্ষা করে সংগঠনটিকে পুনর্জীবিত করার পদক্ষেপ নিলেন।
অবেশেষে দিনাজপুরের নের্তৃবৃন্দ যারা ঠাকুরগাঁওয়ের বিষয়ট দেখাশোনা করতেন তারা ঠাকুরগাঁয়ে আহবায়ক কমিটি করলেন। আবার শুরু হলো সভা অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবসের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ , আলোচনাসভা, সাংগঠনিক প্রশিক্ষন , পাড়ায় পাড়ায় কমিটি গঠন । অবশ্য এই কমিটি গঠনের পর আবার ঐ সব ব্যাড এলিমেন্ট রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি চালু করার জন্য অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মহিলা পরিষদের নের্তৃবৃন্দকে শাসিয়ে আবার স্বপদে বহাল হওয়ার সর্বাত্মক অপচেষ্টা করেছে। আরো চেষ্টা করবেন তাতে অবাক হওয়া যাবেনা। তবে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ও এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স খুবই গ্রহণযোগ্য। মহিলা পরিষদের ছোট কমিটি , নাই অফিস আদালত, নাই অর্থ, নাই পরিবহন তবে আছে শুধু কার্যক্রম।
আশা করা যায় মহিলা পরিষদ সক্রিয় মানে এলাকার বাল্য বিবাহ রোধে , নারী নির্যাতনের প্রতিকার হিসাবে নির্যাতিতরা পাশে পাবে। আর সেটাইতো আমাদের চাওয়া পাওয়া। উল্লেখ করা যেতে পারে মহুয়া রানীর বাল্য বিয়ে ঠেকানোর পরে, মহাদেবপুর হাই স্কুলের ২ জন ছাত্রীর ধর্ষণ চেষ্টার বিরুদ্ধে এবং একই প্রতিষ্ঠানের আরো একটি মেয়ের বাল্য বিয়ের বিষয়ে গুরুত্বপুর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ঠাকুরগাঁও মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির সক্ষমতা বাড়াতে পারলে জেলার বাল্যবিয়ে এবং নারী নির্যাতন রোধে ব্যপক ভুমিকা রাখতে পারবে।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||